মহারাষ্ট্র সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মাজি লাডকি বহিন প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার পর প্রকল্পের তালিকা থেকে লাখ লাখ নারীর নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কী ছিল লাডকি বহিন প্রকল্প
২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহারাষ্ট্র সরকার এই প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নতি করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করা।
প্রকল্পটি মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ নারী সুবিধা পাচ্ছিলেন। পরে যাচাই শেষে এই সংখ্যা কমে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখে নেমে এসেছে।

কারা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন
এই প্রকল্পে মহারাষ্ট্রের ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীরা আবেদন করতে পারতেন। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হতে হতো এবং ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা প্রয়োজন ছিল।
বিবাহিত, অবিবাহিত বা অন্য যেকোনো বৈবাহিক অবস্থার নারী এই সুবিধার আওতায় আসতে পারতেন। তবে একটি পরিবার থেকে কেবল একজন নারী এই সহায়তা পাওয়ার নিয়ম ছিল।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কী প্রশ্ন উঠেছে
ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় প্রকল্পে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের যথাযথ ব্যাখ্যা না দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ সরিয়ে এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও আলাদা হিসাবে রাখা হয়েছিল বলেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কেন বাদ পড়ছে সুবিধাভোগীদের নাম

মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, একাধিক ধাপে যাচাইয়ের পর যেসব নারী প্রকল্পের শর্ত পূরণ করছেন না বা প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পন্ন করেননি, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করাও অনেক নাম বাদ পড়ার একটি কারণ। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগী অনেক নারীও সমস্যায় পড়েছেন।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, বাদ পড়া নারীদের সুবিধা পুনরায় চালু করা এবং প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া মাসিক সহায়তা বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার বিষয়েও তারা সরকারের সমালোচনা করেছে।
প্রকল্প ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
লাডকি বহিন প্রকল্প এখন শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে। একদিকে সরকার যাচাই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার পদক্ষেপ হিসেবে দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে এর কারণে বহু নারী বঞ্চিত হয়েছেন।
আগামী দিনে বাদ পড়া সুবিধাভোগীদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কী জবাব দেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















