চীনের অর্থনীতি এখন এক ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বাড়ছে রপ্তানি, উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত; অন্যদিকে কমছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, দুর্বল হচ্ছে কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘ হচ্ছে আবাসন সংকট।
চীনের বড় বড় কারখানাগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। আসবাব নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দেরুচির মতো কোম্পানিগুলো বিদেশে বিক্রি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে দেশের ভেতরের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়ছেন।
রপ্তানি বাড়ছে, কিন্তু ঘরের বাজারে সংকট
চীনের রপ্তানি খাত সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিপণ্য, গাড়ি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির আন্তর্জাতিক বিক্রি বেড়েছে। তবে এই সাফল্য দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির দুর্বলতা পুরোপুরি আড়াল করতে পারছে না।
আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি মন্দার কারণে সাধারণ মানুষের সম্পদের মূল্য কমেছে। নতুন বাড়ি কেনার আগ্রহ কমে যাওয়ায় আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রিতেও প্রভাব পড়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি, ভোগে স্থবিরতা
চীনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত দ্রুত এগিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের খরচ করার প্রবণতা আগের মতো নেই। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এখন রপ্তানিনির্ভর হয়ে উঠছে।
গাড়ি রপ্তানি বেড়ে গেলেও দেশের ভেতরে গাড়ি বিক্রি কমেছে। একইভাবে রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বাজারে ভালো করছে, কিন্তু স্থানীয় চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল রয়েছে।
কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়ছে চাকরির বাজারেও। অনেক প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে। সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার স্থিতিশীল থাকলেও অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন প্রকৃত পরিস্থিতি আরও কঠিন।
অনেক তরুণ স্থায়ী চাকরি না পেয়ে অস্থায়ী কাজ বা বিভিন্ন সেবামূলক পেশার দিকে ঝুঁকছেন। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ভারসাম্যহীন অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। শুধু উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে দেশের মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন।
তবে প্রযুক্তিগত আধিপত্য ও বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যেই চীন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে অর্থনীতির দুই দিকের এই পার্থক্য আগামী দিনেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















