০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

অং সান সু চি কি জীবিত আছেন? নিখোঁজ নেত্রীর খোঁজে বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা এই রাজনৈতিক নেত্রীকে ২০২২ সালের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার পরিবার ও আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

নেত্রীর নিখোঁজ থাকা নিয়ে রহস্য

অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নেতা ও কূটনীতিকদের কাছে তার মায়ের খোঁজ জানতে আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন অং সান সু চির জীবিত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

অং সান সু চির শেষ সরকারি উপস্থিতি ছিল ২০২২ সালের শেষ দিকে হওয়া বিচার কার্যক্রমের সময়। এরপর থেকে তার আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি। কারাগারে তাকে দেখা গেছে—এমন কিছু খবর ছড়ালেও সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক

For all I know, she could be dead' says son of Myanmar's Suu Kyi

অং সান সু চি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক বন্দি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি বহু বছর গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় আসার পরও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর আচরণ নিয়ে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।

সামরিক সরকারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

মিয়ানমারের সামরিক সরকার দাবি করেছে, অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।

তার সুস্থতার বিষয়ে সামরিক কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে হিসাব

Aung San Suu Kyi: damned by her silence | Aung San Suu Kyi | The Guardian

অং সান সু চিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তার অবস্থার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে তার মুক্তির প্রভাব নিয়েও নানা হিসাব চলছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। অং সান সু চির উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

অং সান সু চির পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হলেও মিয়ানমারের লাখো মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সংখ্যা বেড়েছে এবং কারাগারে চিকিৎসা সুবিধার অভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

অং সান সু চির পরিবার তার খবর জানতে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তিনি নিজেও চান না যে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি আড়ালে চলে যাক।

অং সান সু চির নিখোঁজ থাকার ঘটনা মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

Myanmar sets October 1 for Aung San Suu Kyi corruption trial | Aung San Suu  Kyi News | Al Jazeera

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

অং সান সু চি কি জীবিত আছেন? নিখোঁজ নেত্রীর খোঁজে বাড়ছে উদ্বেগ

০১:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা এই রাজনৈতিক নেত্রীকে ২০২২ সালের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার পরিবার ও আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

নেত্রীর নিখোঁজ থাকা নিয়ে রহস্য

অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নেতা ও কূটনীতিকদের কাছে তার মায়ের খোঁজ জানতে আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন অং সান সু চির জীবিত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

অং সান সু চির শেষ সরকারি উপস্থিতি ছিল ২০২২ সালের শেষ দিকে হওয়া বিচার কার্যক্রমের সময়। এরপর থেকে তার আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি। কারাগারে তাকে দেখা গেছে—এমন কিছু খবর ছড়ালেও সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক

For all I know, she could be dead' says son of Myanmar's Suu Kyi

অং সান সু চি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক বন্দি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি বহু বছর গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় আসার পরও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর আচরণ নিয়ে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।

সামরিক সরকারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

মিয়ানমারের সামরিক সরকার দাবি করেছে, অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।

তার সুস্থতার বিষয়ে সামরিক কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে হিসাব

Aung San Suu Kyi: damned by her silence | Aung San Suu Kyi | The Guardian

অং সান সু চিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তার অবস্থার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে তার মুক্তির প্রভাব নিয়েও নানা হিসাব চলছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। অং সান সু চির উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

অং সান সু চির পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হলেও মিয়ানমারের লাখো মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সংখ্যা বেড়েছে এবং কারাগারে চিকিৎসা সুবিধার অভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

অং সান সু চির পরিবার তার খবর জানতে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তিনি নিজেও চান না যে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি আড়ালে চলে যাক।

অং সান সু চির নিখোঁজ থাকার ঘটনা মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

Myanmar sets October 1 for Aung San Suu Kyi corruption trial | Aung San Suu  Kyi News | Al Jazeera