ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ধারাবাহিক কূটনৈতিক সফর এশিয়ার মধ্যম শক্তির দেশগুলোর মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে এসব দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। দুই বড় শক্তির প্রভাবের মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এশিয়ার দেশগুলো নতুন কৌশল খুঁজছে।
মোদির ব্যস্ত কূটনৈতিক সফর
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি শতাধিক বিদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, সেশেলস, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে তিনি ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারে।

আমেরিকা ও চীনের মাঝখানে নতুন সমীকরণ
এশিয়ার অনেক দেশ দীর্ঘদিন ধরে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তনও তাদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
মোদির কৌশলকে অনেকেই এমন একটি অবস্থান হিসেবে দেখছেন, যেখানে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, আবার চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতেও যাবে না। বরং নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করবে।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে নতুন গতি
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।
পারমাণবিক জ্বালানির জন্য ইউরেনিয়াম সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার সম্মতি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তায় যৌথ উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাপান, নিউজিল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা
জাপানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার দিকেও এগোচ্ছে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে যৌথ কাজের উদ্যোগ নিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নৌ মহড়া ও তথ্য বিনিময়ের পরিকল্পনা এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের চুক্তি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরছে।
সহযোগিতার পথে চ্যালেঞ্জও আছে
এশিয়ার মধ্যম শক্তির দেশগুলো কাছাকাছি এলেও তাদের মধ্যে সব বিষয়ে একমত হওয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে দেশগুলোর অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে।
তবে পরিবর্তনশীল বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এসব দেশ আরও সক্রিয় কূটনীতির পথেই এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য বদলের সময়ে নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন জোট ও সহযোগিতার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















