জাপানে এমন কিছু বাড়ি রয়েছে, যেখানে অতীতে ভয়াবহ মৃত্যু বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। একসময় এসব বাড়িতে থাকতে মানুষ ভয় পেলেও এখন বাড়তি খরচের চাপের কারণে অনেকেই কম দামের এসব বাসস্থানের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকা বাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে
জাপানে এ ধরনের বাড়িকে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। এসব বাড়িতে খুন, আত্মহত্যা বা দীর্ঘ সময় অজানা অবস্থায় পড়ে থাকা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব বাড়ি নিয়ে ভয় ও কৌতূহল দুটোই রয়েছে।
জাপানি কৌতুকশিল্পী মাতসুবারা তানিশি দীর্ঘদিন ধরে এমন বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বই জনপ্রিয় হয়েছে এবং তা থেকে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, শুরুতে তার মধ্যেও ভয় ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সেই ভয় অনেকটাই কমে গেছে।
কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ
এসব বাড়ির দাম সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। আগের ঘটনার ভয়াবহতার ওপর নির্ভর করে দামের পার্থক্য তৈরি হয়।
জাপানে এসব বাড়ি নিয়ে আলাদা সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে। অনেক মানুষ অনলাইনে এসব বাড়ির তথ্য খুঁজে দেখেন। কেউ কেউ বাড়ির ইতিহাস জানার পর সেখানে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন।
ভূতের ভয় ও সামাজিক বিশ্বাস
জাপানের মানুষের মধ্যে আত্মা বা অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাসের প্রবণতা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কিছু বাড়িতে আগের বাসিন্দাদের উপস্থিতি থেকে যেতে পারে। এ কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ পরীক্ষা চালিয়ে বাড়িতে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় আছে কি না তা যাচাই করার দাবি করে।
অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় আচারও পালন করা হয়, যাতে বাড়ির নেতিবাচক প্রভাব দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

একাকী মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াচ্ছে সমস্যা
জাপানের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বাড়ির সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। একা বসবাসকারী বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় অনেক সময় মৃত্যুর খবর দেরিতে জানা যায়।
২০২৫ সালে জাপান সরকার এমন বহু একাকী মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে মানুষ একা মারা যাওয়ার পর কয়েক দিন পর্যন্ত অজানা অবস্থায় ছিলেন। এর ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বাড়ি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাড়ির তথ্য প্রকাশের নিয়মেও পরিবর্তন
জাপানে বাড়ির অতীত ঘটনা জানানো নিয়ে নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ছাড়া সব ধরনের মৃত্যুর তথ্য সবসময় প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে কয়েক বছর পর এসব বাড়ি আবার স্বাভাবিক বাজারদরে বিক্রি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সস্তা দামের কারণে একসময় ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত এসব বাড়িই এখন কিছু মানুষের কাছে আবাসনের বিকল্প হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















