০৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিন বিস্ময়ের ছোট মুহূর্তই কমাতে পারে মানসিক চাপ, বাড়াতে পারে সুখ সার্ডিনিয়ার নীল অঞ্চলের চার দিনের সুস্থতা ভ্রমণে যা শিখলেন পর্যটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের শরীর ও অনুভূতির নতুন লড়াই মিয়ামিতে গ্রেপ্তার অ্যান্ড্রু টেট ও ভাই, যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু ডেলানি রোর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে হলিউডের নারীর চিত্রায়নের নতুন আলোচনা যে মূল্যবান অর্জনগুলো দেরিতে আসে, সেগুলোর জন্যই অপেক্ষা করা জরুরি মওরা হিগিন্সের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এবার নতুন চ্যালেঞ্জে নামছেন তিনি কায়রোর বিশাল মনোরেল প্রকল্পে স্বপ্নের গতি, কিন্তু যাত্রীর সংকট খাদ্যের ভার কাঁধে নিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছেন নীরব শ্রমিকরা অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, বিদ্রোহী নেতাদের দিদির কাছে ফেরার আহ্বান; তৃণমূল ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ

বার্লিন বিমানবন্দর সংকট: আধুনিক রাজধানীতেও কেন নেই বিশ্বমানের আকাশপথ

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের বিমান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক পরিকল্পনা, ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘ বিলম্বের পর চালু হওয়া বার্লিনের নতুন বিমানবন্দরও এখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে যাত্রীদের ভিড় বাড়লেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে হতাশা রয়ে গেছে।

বার্লিনের বিমান ইতিহাসে ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া

বার্লিনের বিমানবন্দর ইতিহাসে রয়েছে নানা নাটকীয় অধ্যায়। একসময় টেমপেলহফ বিমানবন্দর ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পরে তা পরিণত হয়েছে নগর উদ্যানের অংশে। এরপর টেগেল বিমানবন্দর স্থানীয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও শেষ সময়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।

সবশেষে এসেছে বার্লিন ব্রান্ডেনবুর্গ বিমানবন্দর। বহু বছর দেরি, বিপুল অতিরিক্ত খরচ এবং নানা সমস্যার পর ২০২০ সালে চালু হওয়া এই বিমানবন্দর জার্মানির বড় প্রকল্প পরিচালনার দুর্বলতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগে পিছিয়ে বার্লিন

Why Berlin's airport is still completely hopeless

বার্লিনের নতুন বিমানবন্দরে বর্তমানে দূরপাল্লার সরাসরি গন্তব্যের সংখ্যা খুবই কম। ইউরোপের অন্য বড় রাজধানীগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক পিছিয়ে। ফলে ইউরোপের বাইরে যেতে অনেক যাত্রীকে অন্য শহরে গিয়ে বিমান বদল করতে হয়।

বিশ্বের বড় শহরগুলোর তালিকায় অবস্থান থাকলেও বার্লিন এখনো নিজস্ব শক্তিশালী দূরপাল্লার বিমান সংযোগ গড়ে তুলতে পারেনি। বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টাও নানা বাধার মুখে পড়েছে।

যাত্রী কমছে, বাড়ছে চাপ

করোনার পর অনেক ইউরোপীয় বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বার্লিনের পুনরুদ্ধার প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। কম খরচের বিমান সংস্থাগুলোও তাদের কার্যক্রম কমিয়েছে। বিমানবন্দরের উচ্চ খরচ ও কর নিয়েও বিভিন্ন সংস্থা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

Story of Historic Tempelhof Airport in Berlin - Business Insider

বার্লিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও শহরটি এখনো ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের মতো বড় বিমান কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে।

ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতার প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্লিনের বর্তমান সমস্যার পেছনে শুধু ব্যবস্থাপনা নয়, ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থানও বড় কারণ। শীতল যুদ্ধের সময় পশ্চিম বার্লিনের বিমান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই সময় ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ শক্তিশালী বিমান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

জার্মানির শিল্প ও ব্যবসার বড় অংশ দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে থাকায় বার্লিন করপোরেট যাত্রী আকর্ষণেও তুলনামূলক পিছিয়ে। ফলে রাজধানী হয়েও শহরটি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

বার্লিনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে একটি আধুনিক রাজধানীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অলিভিয়া ওয়াইল্ডের নতুন সিনেমা: ভাঙা সম্পর্কের কষ্ট থেকে তৈরি হৃদয়ছোঁয়া হাসির গল্প

বার্লিন বিমানবন্দর সংকট: আধুনিক রাজধানীতেও কেন নেই বিশ্বমানের আকাশপথ

১১:৩০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের বিমান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক পরিকল্পনা, ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘ বিলম্বের পর চালু হওয়া বার্লিনের নতুন বিমানবন্দরও এখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে যাত্রীদের ভিড় বাড়লেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে হতাশা রয়ে গেছে।

বার্লিনের বিমান ইতিহাসে ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া

বার্লিনের বিমানবন্দর ইতিহাসে রয়েছে নানা নাটকীয় অধ্যায়। একসময় টেমপেলহফ বিমানবন্দর ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পরে তা পরিণত হয়েছে নগর উদ্যানের অংশে। এরপর টেগেল বিমানবন্দর স্থানীয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও শেষ সময়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।

সবশেষে এসেছে বার্লিন ব্রান্ডেনবুর্গ বিমানবন্দর। বহু বছর দেরি, বিপুল অতিরিক্ত খরচ এবং নানা সমস্যার পর ২০২০ সালে চালু হওয়া এই বিমানবন্দর জার্মানির বড় প্রকল্প পরিচালনার দুর্বলতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগে পিছিয়ে বার্লিন

Why Berlin's airport is still completely hopeless

বার্লিনের নতুন বিমানবন্দরে বর্তমানে দূরপাল্লার সরাসরি গন্তব্যের সংখ্যা খুবই কম। ইউরোপের অন্য বড় রাজধানীগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক পিছিয়ে। ফলে ইউরোপের বাইরে যেতে অনেক যাত্রীকে অন্য শহরে গিয়ে বিমান বদল করতে হয়।

বিশ্বের বড় শহরগুলোর তালিকায় অবস্থান থাকলেও বার্লিন এখনো নিজস্ব শক্তিশালী দূরপাল্লার বিমান সংযোগ গড়ে তুলতে পারেনি। বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টাও নানা বাধার মুখে পড়েছে।

যাত্রী কমছে, বাড়ছে চাপ

করোনার পর অনেক ইউরোপীয় বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বার্লিনের পুনরুদ্ধার প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। কম খরচের বিমান সংস্থাগুলোও তাদের কার্যক্রম কমিয়েছে। বিমানবন্দরের উচ্চ খরচ ও কর নিয়েও বিভিন্ন সংস্থা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

Story of Historic Tempelhof Airport in Berlin - Business Insider

বার্লিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও শহরটি এখনো ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের মতো বড় বিমান কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে।

ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতার প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্লিনের বর্তমান সমস্যার পেছনে শুধু ব্যবস্থাপনা নয়, ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থানও বড় কারণ। শীতল যুদ্ধের সময় পশ্চিম বার্লিনের বিমান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই সময় ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ শক্তিশালী বিমান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

জার্মানির শিল্প ও ব্যবসার বড় অংশ দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে থাকায় বার্লিন করপোরেট যাত্রী আকর্ষণেও তুলনামূলক পিছিয়ে। ফলে রাজধানী হয়েও শহরটি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।

বার্লিনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে একটি আধুনিক রাজধানীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।