ব্রিটেনের ক্ষমতার কেন্দ্রের এক পরিচিত মুখ ল্যারি বিড়াল। রাজনীতিবিদরা বদলেছেন, সরকার এসেছে-গেছে, কিন্তু ল্যারি এখনো নিজের জায়গায় অটুট। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি ইঁদুর ধরার দায়িত্বে থাকা এই বিড়াল এবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হতে প্রস্তুত।
ল্যারি শুধু একটি বিড়াল নয়, ব্রিটিশ রাজনৈতিক জীবনের এক জনপ্রিয় প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার উপস্থিতি অনেক সময় রাজনৈতিক আলোচনার বাইরেও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।
সাধারণ বিড়াল থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রের বাসিন্দা
ল্যারির যাত্রা শুরু হয়েছিল সাধারণ জীবন থেকে। তাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল লন্ডনের একটি প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সময়ে সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসে এবং সরকারি পদ পাওয়া প্রথম বিড়াল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এরপর থেকে ল্যারি একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও বিদায় দেখেছে। তার কর্মজীবনে ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর সময় পার হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব এলে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তার দেখা হবে।

দায়িত্ব, জনপ্রিয়তা আর কৌশলী উপস্থিতি
ল্যারির সরকারি কাজ হলো ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। তবে সে সত্যিই কতটা ইঁদুর ধরে, তা নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবু তার জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং অলস ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাসী চলাফেরা এবং ক্যামেরার সামনে হঠাৎ হাজির হওয়ার কারণে সে মানুষের মন জয় করেছে।
বিশ্বনেতাদের সফরের সময়ও ল্যারিকে দেখা গেছে আলোচনার অংশ হতে। কখনো ছবি তোলার মুহূর্তে, কখনো ব্যস্ত রাজনৈতিক পরিবেশে নিজের মতো করে অবস্থান নিয়ে সে সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।
ল্যারির কাছ থেকে রাজনীতির শিক্ষা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ল্যারির সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজের পরিচিতি ধরে রাখার ক্ষমতা। সে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশেও টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

তার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেনে না নেওয়া। অন্য সরকারি বিড়ালের সঙ্গে তার বিরোধের ঘটনাও একসময় আলোচনায় এসেছিল। তবু এসব পেরিয়ে ল্যারি নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
বয়স বাড়লেও জনপ্রিয়তা অটুট
বয়সের হিসাবে ল্যারি এখন অনেক প্রবীণ। কিন্তু ব্রিটিশ মানুষের কাছে তার গুরুত্ব এখনো কমেনি। রাজনীতির অস্থির সময়ে ল্যারি যেন স্থিরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ল্যারির গল্প দেখায়, কখনো কখনো ইতিহাস তৈরি করতে বড় পদ বা ক্ষমতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের উপস্থিতি, স্বতন্ত্র আচরণ এবং মানুষের ভালোবাসাই যথেষ্ট।
ল্যারি বিড়ালের দীর্ঘ পথচলা ও ব্রিটিশ রাজনীতির অনন্য গল্প জানুন, যেখানে এক বিড়ালই হয়ে উঠেছে স্থায়িত্বের প্রতীক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















