ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক পথচলার শেষ কয়েক সপ্তাহ যেন তার পুরো শাসনকালের একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। ক্ষমতা ছাড়ার আগে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কূটনৈতিক সাফল্যের ছবি তুলে ধরেছেন এবং নিজের উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। তবে এসবের মাঝেও রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক
বিদায়ের আগে কিয়ার স্টারমার চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়তি ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের বড় অংশ জোগাড় করা হয়েছে সরকারি উন্নয়নমূলক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে।
সমালোচকদের মতে, এর ফলে সড়ক নির্মাণ, জ্বালানি প্রকল্প ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলে থাকাকালে স্টারমার যে ধরনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাকেই অনেকটা অনুসরণ করতে হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্য, ঘরোয়া রাজনীতিতে চাপ
বিদায়ের আগে স্টারমারের শেষ বিদেশ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল প্যারিস। সেখানে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর এক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তাকে সম্মাননা দেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার কূটনৈতিক দক্ষতার জন্য প্রশংসা পেলেও দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও ব্রিটেন প্রত্যাশিত সুবিধা আদায় করতে পারেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।
মানুষের কষ্টকে রাজনীতির কেন্দ্রে রেখেছিলেন
স্টারমারের রাজনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ভুক্তভোগীদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত সব সময় কার্যকর শাসনের পথ দেখায় না। কিছু আইন বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

শেষ সময়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ক্ষমতা ছাড়ার আগে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শেষবারের মতো তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল শান্ত, তবে দলের ভেতরে অনেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।
নিজের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে স্টারমার শিশু দারিদ্র্য কমাতে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে তার সরকার দীর্ঘ সময় নিয়েছে।
জয়ের মুহূর্তই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্মৃতি
স্টারমার এক সাক্ষাৎকারে জানান, নির্বাচনের পর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের দিনটিই ছিল তার সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। তবে তার সমালোচকদের মতে, তিনি ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য স্পষ্ট করলেও ক্ষমতায় এসে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তা পরিষ্কার ছিল না।
কিয়ার স্টারমারের বিদায় শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রস্থান নয়, বরং এমন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি যেখানে সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক পাশাপাশি ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















