হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও ডিজেল, জেট জ্বালানি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির ঘাটতি ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অপরিশোধিত তেল থাকলেও সংকটে পরিশোধিত জ্বালানি
সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শোধনাগারের কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর প্রভাব পড়েছে ডিজেল, জেট জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এসব পণ্যের দাম অনেক বেশি অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে মূল্য আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল সরবরাহ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অপরিশোধিত তেল বিকল্প পাইপলাইনে পরিবহনের সুযোগ থাকলেও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে সেই সুবিধা নেই।
এদিকে সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
চীনের রপ্তানি নিয়েও অনিশ্চয়তা
বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি পরিশোধনকারী দেশ চীনে শোধন কার্যক্রমও আগের তুলনায় কমেছে। যুদ্ধের সময় সরকার রাষ্ট্রীয় শোধনাগারগুলোর বিদেশে জ্বালানি রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা শিথিলতা এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কড়াকড়ি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের কাছ থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

রাশিয়ার উৎপাদনেও বড় ধাক্কা
অন্যদিকে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোও ধারাবাহিক হামলার কারণে উৎপাদন সংকটে পড়েছে। বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির ফলে উৎপাদন কমে গেছে এবং দেশের ভেতরেই জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এর প্রভাব হিসেবে ডিজেল রপ্তানিও কমে এসেছে। ফলে যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। এতে অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহের ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।
সামনে কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনরায় শুরু হলে, এশিয়ার শোধনাগারগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে এবং রাশিয়ার উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে ডিজেল, জেট জ্বালানি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মজুত থেকেও জ্বালানি ব্যবহার বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় চাপ সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এখনও শেষ হয়নি এবং এর প্রভাব বিশ্বের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















