০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

চীনের অর্থনীতিতে মন্দার চাপ, কৃচ্ছ্রসাধনের পথে সরকার

চীনের অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়া এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে দেশটি কার্যত কৃচ্ছ্রসাধনের পথে এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে বড় ধরনের প্রণোদনার আশা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধির অন্যতম। অর্থনীতির এই ধীরগতির কারণে দেশটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী রপ্তানি না থাকলে প্রবৃদ্ধির এই হার আরও কম হতে পারত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য উদ্বৃত্তও আগের তুলনায় কমে এসেছে।

China's economic recovery is balance sheet constrained - OMFIF

রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমছে

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অর্থনীতি রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সুবিধাও আগের মতো শক্তিশালী থাকছে না। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের অর্ধপরিবাহী চিপ আমদানির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত সংকুচিত হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

বাড়ছে রাজস্ব, কমছে ঘাটতি

অর্থনীতি দুর্বল হলেও সরকার কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। মূল্য সংযোজন কর, ব্যক্তিগত আয়কর এবং শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প শুল্ক থেকে রাজস্ব বেড়েছে। কর আদায়ে কঠোর নজরদারি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাবও এতে ভূমিকা রেখেছে।

ফলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সম্মিলিত বাজেট ঘাটতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অথচ অর্থনীতিকে চাঙা করতে সাধারণত সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে ঘাটতি বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথে না গিয়ে সরকার কার্যত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে।

ব্যয়ের অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন

China's Big Problem? Its Own Consumers - National Press Foundation | NPF

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন, বেকার ভাতা, দারিদ্র্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে বরাদ্দের গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের অংশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া জনসংখ্যা এবং দুর্বল অর্থনীতির কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সরকারকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিকে টেকসই গতিতে ফিরিয়ে আনতে চীনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনা। তবে বর্তমান নীতিতে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

চীনের প্রযুক্তিখাত এখনও শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতি শীতল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

চীনের অর্থনীতিতে মন্দার চাপ, কৃচ্ছ্রসাধনের পথে সরকার

১২:২৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চীনের অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়া এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে দেশটি কার্যত কৃচ্ছ্রসাধনের পথে এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে বড় ধরনের প্রণোদনার আশা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধির অন্যতম। অর্থনীতির এই ধীরগতির কারণে দেশটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী রপ্তানি না থাকলে প্রবৃদ্ধির এই হার আরও কম হতে পারত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য উদ্বৃত্তও আগের তুলনায় কমে এসেছে।

China's economic recovery is balance sheet constrained - OMFIF

রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমছে

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অর্থনীতি রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সুবিধাও আগের মতো শক্তিশালী থাকছে না। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের অর্ধপরিবাহী চিপ আমদানির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত সংকুচিত হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

বাড়ছে রাজস্ব, কমছে ঘাটতি

অর্থনীতি দুর্বল হলেও সরকার কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। মূল্য সংযোজন কর, ব্যক্তিগত আয়কর এবং শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প শুল্ক থেকে রাজস্ব বেড়েছে। কর আদায়ে কঠোর নজরদারি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাবও এতে ভূমিকা রেখেছে।

ফলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সম্মিলিত বাজেট ঘাটতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অথচ অর্থনীতিকে চাঙা করতে সাধারণত সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে ঘাটতি বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথে না গিয়ে সরকার কার্যত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে।

ব্যয়ের অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন

China's Big Problem? Its Own Consumers - National Press Foundation | NPF

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন, বেকার ভাতা, দারিদ্র্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে বরাদ্দের গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের অংশ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া জনসংখ্যা এবং দুর্বল অর্থনীতির কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সরকারকে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিকে টেকসই গতিতে ফিরিয়ে আনতে চীনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনা। তবে বর্তমান নীতিতে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

চীনের প্রযুক্তিখাত এখনও শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতি শীতল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।