যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পরই মুদ্রানীতি পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। নীতিনির্ধারণকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং পর্যালোচনাভিত্তিক করতে তিনি পাঁচটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এসব টাস্কফোর্স ফেডের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে।
মুদ্রানীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
কেভিন ওয়ার্শ মনে করেন, ফেডের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সব তথ্য প্রকাশ্যে চলে এলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রকাশের পরিধি কিছুটা সীমিত রাখতে চান। একই সঙ্গে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও মূল্যায়নের সুযোগ আরও বাড়ানোর পক্ষেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন।
এই লক্ষ্যেই গত ৯ জুলাই পাঁচটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব দল ফেডের নীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিকল্প তথ্যের ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করবে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-2286063292-c6ad2d83ceb7426197ddfece25ca46e7.jpg)
বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স
প্রতিটি টাস্কফোর্সে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অর্থনীতিবিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান, ব্যবসায়িক নেতা এবং প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির কারণ ও নীতিগত কাঠামো পর্যালোচনার দলে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদও। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে কাজ করা দলে প্রযুক্তি খাত ও অর্থনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। বিকল্প তথ্যের ব্যবহার নিয়ে কাজ করা টিমে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাবেক শীর্ষ নির্বাহীও যুক্ত হয়েছেন।
মতপার্থক্যই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি অনেক বিষয়ে তাদের মতামতের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে একাধিক সদস্যের অবস্থান এক নয়। কেউ বর্তমান নীতির পক্ষে থাকলেও কেউ মনে করেন, এ ধরনের লক্ষ্য অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তুলনামূলকভাবে আশাবাদী। যদিও এর প্রভাবের মাত্রা নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
সুপারিশ বাস্তবায়নই হবে মূল পরীক্ষা
টাস্কফোর্সগুলো ফেডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সুপারিশ তৈরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরের শেষ নাগাদ সেই সুপারিশ প্রথমে ফেডের পরিচালনা পর্ষদের কাছে এবং পরে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হবে।
তবে সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য শুধু চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী কমিটির সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে কেভিন ওয়ার্শকে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে, যা পুরো উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ কাঠামো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল এবং প্রযুক্তির ব্যবহার—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ ফেডের কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















