০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা চাকরি পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি আপনার পোশাক-পরিচ্ছদও কি গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরান-ওমানের তৎপরতা, যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ব এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত আরও একজন ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও ২০২৮ সালে জেডি ভ্যান্সই কেন এগিয়ে, রুবিওর সম্ভাবনা কতটা

বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বর্ণবাদ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার মানুষের দুঃখ যেন দ্রুতই বদলে গেছে ক্ষোভ ও বিস্ময়ে। মাঠের পরাজয়ের পাশাপাশি পুরো দেশকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র সমালোচনা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখন আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও দেশটির ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। খেলোয়াড়দের আচরণ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অতীতের কিছু বর্ণবাদী ঘটনার পাশাপাশি পুরো আর্জেন্টাইন সমাজকেই বর্ণবাদ, সহিংসতা ও বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার গবেষক ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ বলছেন, খেলোয়াড় বা সমর্থকদের ভুলের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেই সমালোচনার দায় পুরো দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।

ফাইনালের পর ক্ষোভ আরও তীব্র

ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার মানুষের মন ভেঙে যায়। জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্তও সমর্থকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। কিন্তু পরাজয়ের শোক কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাবিরোধী মন্তব্য বাড়তে থাকে।

Absolutely digusting': Argentina sparks outrage for behavior after World  Cup loss - Yahoo Sports

বিশেষ করে ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় অতীতে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের একটি বর্ণবাদী গান গাওয়ার ঘটনা এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে বর্ণবাদী গালাগালের অভিযোগ।

এসব ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলেও অনেকের অভিযোগ, আলোচনাটি ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট ঘটনা ছাড়িয়ে পুরো আর্জেন্টিনা ও দেশটির জনগণকে আক্রমণের দিকে চলে গেছে।

বর্ণবাদ নিয়ে আর্জেন্টিনার ভেতরেও আত্মসমালোচনা

আর্জেন্টিনার অনেক নাগরিকই স্বীকার করছেন, দেশটিতে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে।

দেশটির ইতিহাসে আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি একসময় অনেক বেশি ছিল। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, শিশুমৃত্যু, জন্মহারের পরিবর্তন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিবাহ এবং ইউরোপ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের কারণে সময়ের সঙ্গে সেই জনগোষ্ঠীর দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যায়।

এর ফলে আর্জেন্টিনাকে ইউরোপীয় ও শ্বেতাঙ্গপ্রধান দেশ হিসেবে দেখার একটি ধারণা শক্তিশালী হয়। সমালোচকদের মতে, এতে দেশটির আফ্রিকীয় ও আদিবাসী শিকড় ইতিহাসের মূল ধারায় অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।

পুরো দেশকে দায়ী করার বিরোধিতা

আর্জেন্টিনার আদিবাসী ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা জরুরি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো জাতিকে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করে।

দেশটির অভিবাসন ইতিহাসও এ বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উনিশ শতক থেকে আর্জেন্টিনা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসীদের গ্রহণ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেশটি দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করেছে।

একটি আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ জরিপের তথ্য তুলে ধরে আর্জেন্টিনার একজন গবেষক দাবি করেছেন, অভিবাসী বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে প্রতিবেশী হিসেবে গ্রহণ না করার প্রবণতা দেশটিতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আর্জেন্টিনায় বর্ণবাদ নেই। বরং সমস্যাটি রয়েছে, কিন্তু সেই সমস্যাকে স্বীকার করা আর পুরো জাতিকে একটি নেতিবাচক পরিচয়ে আটকে দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

Argentina labelled 'sore losers' over World Cup final tactics and refusal  to give guard of honour to Spain after World Cup final chaos - Yahoo Sports

ফুটবলের মাঠে পুরোনো ক্ষত

ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ বহুদিনের সমস্যা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে শাস্তিও কঠোর হয়েছে। আর্জেন্টিনায় অবশ্য বর্ণবাদী মন্তব্য ও জাতিগত ইঙ্গিতের বিরুদ্ধে একই মাত্রার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো গড়ে ওঠেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই দেশটির বর্ণসম্পর্ক ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা হয়েছে, সেটিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে।

ফুটবল কি একটি দেশের পরিচয়ের বিচারক?

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর শুধু খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেখানে একটি দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের আচরণও বিশ্বের নজরে আসে। তবে একটি ফুটবল দলের আচরণকে কেন্দ্র করে পুরো দেশের মানুষকে বিচার করা কতটা ন্যায্য, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

আর্জেন্টিনার সমালোচকরা বলছেন, বর্ণবাদী আচরণ, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে দেশটির অনেক মানুষ মনে করছেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা দরকার, কিন্তু অপমান বা সামগ্রিক কলঙ্ক আরোপ করে নয়।

বিশ্বকাপের মাঠে একটি হার তাই আর্জেন্টিনার জন্য শুধু ক্রীড়া পরাজয় হয়ে থাকেনি। এটি দেশটির বর্ণবাদ, অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে একটি বড় বিতর্কও সামনে নিয়ে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সামনে প্রশ্ন একটাই—সমালোচনার মুখে আত্মসমালোচনা করবে, নাকি পুরো বিতর্ককে বাইরের বিশ্বের বিদ্বেষ হিসেবে দেখবে? বিশ্বকাপ শেষ হলেও সেই বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।

বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষের বিতর্ক নতুন করে দেশটির জাতিগত পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতা সামনে এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন

বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বর্ণবাদ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

০৭:৩৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার মানুষের দুঃখ যেন দ্রুতই বদলে গেছে ক্ষোভ ও বিস্ময়ে। মাঠের পরাজয়ের পাশাপাশি পুরো দেশকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র সমালোচনা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে, তা এখন আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও দেশটির ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। খেলোয়াড়দের আচরণ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অতীতের কিছু বর্ণবাদী ঘটনার পাশাপাশি পুরো আর্জেন্টাইন সমাজকেই বর্ণবাদ, সহিংসতা ও বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার গবেষক ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ বলছেন, খেলোয়াড় বা সমর্থকদের ভুলের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেই সমালোচনার দায় পুরো দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।

ফাইনালের পর ক্ষোভ আরও তীব্র

ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার মানুষের মন ভেঙে যায়। জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্তও সমর্থকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। কিন্তু পরাজয়ের শোক কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাবিরোধী মন্তব্য বাড়তে থাকে।

Absolutely digusting': Argentina sparks outrage for behavior after World  Cup loss - Yahoo Sports

বিশেষ করে ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় অতীতে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের একটি বর্ণবাদী গান গাওয়ার ঘটনা এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে বর্ণবাদী গালাগালের অভিযোগ।

এসব ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলেও অনেকের অভিযোগ, আলোচনাটি ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট ঘটনা ছাড়িয়ে পুরো আর্জেন্টিনা ও দেশটির জনগণকে আক্রমণের দিকে চলে গেছে।

বর্ণবাদ নিয়ে আর্জেন্টিনার ভেতরেও আত্মসমালোচনা

আর্জেন্টিনার অনেক নাগরিকই স্বীকার করছেন, দেশটিতে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে।

দেশটির ইতিহাসে আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি একসময় অনেক বেশি ছিল। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, শিশুমৃত্যু, জন্মহারের পরিবর্তন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিবাহ এবং ইউরোপ থেকে ব্যাপক অভিবাসনের কারণে সময়ের সঙ্গে সেই জনগোষ্ঠীর দৃশ্যমান উপস্থিতি কমে যায়।

এর ফলে আর্জেন্টিনাকে ইউরোপীয় ও শ্বেতাঙ্গপ্রধান দেশ হিসেবে দেখার একটি ধারণা শক্তিশালী হয়। সমালোচকদের মতে, এতে দেশটির আফ্রিকীয় ও আদিবাসী শিকড় ইতিহাসের মূল ধারায় অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।

পুরো দেশকে দায়ী করার বিরোধিতা

আর্জেন্টিনার আদিবাসী ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা জরুরি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো জাতিকে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করে।

দেশটির অভিবাসন ইতিহাসও এ বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উনিশ শতক থেকে আর্জেন্টিনা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসীদের গ্রহণ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেশটি দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করেছে।

একটি আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ জরিপের তথ্য তুলে ধরে আর্জেন্টিনার একজন গবেষক দাবি করেছেন, অভিবাসী বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে প্রতিবেশী হিসেবে গ্রহণ না করার প্রবণতা দেশটিতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আর্জেন্টিনায় বর্ণবাদ নেই। বরং সমস্যাটি রয়েছে, কিন্তু সেই সমস্যাকে স্বীকার করা আর পুরো জাতিকে একটি নেতিবাচক পরিচয়ে আটকে দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

Argentina labelled 'sore losers' over World Cup final tactics and refusal  to give guard of honour to Spain after World Cup final chaos - Yahoo Sports

ফুটবলের মাঠে পুরোনো ক্ষত

ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ বহুদিনের সমস্যা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে শাস্তিও কঠোর হয়েছে। আর্জেন্টিনায় অবশ্য বর্ণবাদী মন্তব্য ও জাতিগত ইঙ্গিতের বিরুদ্ধে একই মাত্রার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো গড়ে ওঠেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই দেশটির বর্ণসম্পর্ক ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা হয়েছে, সেটিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে।

ফুটবল কি একটি দেশের পরিচয়ের বিচারক?

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর শুধু খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেখানে একটি দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের আচরণও বিশ্বের নজরে আসে। তবে একটি ফুটবল দলের আচরণকে কেন্দ্র করে পুরো দেশের মানুষকে বিচার করা কতটা ন্যায্য, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

আর্জেন্টিনার সমালোচকরা বলছেন, বর্ণবাদী আচরণ, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে দেশটির অনেক মানুষ মনে করছেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা দরকার, কিন্তু অপমান বা সামগ্রিক কলঙ্ক আরোপ করে নয়।

বিশ্বকাপের মাঠে একটি হার তাই আর্জেন্টিনার জন্য শুধু ক্রীড়া পরাজয় হয়ে থাকেনি। এটি দেশটির বর্ণবাদ, অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে একটি বড় বিতর্কও সামনে নিয়ে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সামনে প্রশ্ন একটাই—সমালোচনার মুখে আত্মসমালোচনা করবে, নাকি পুরো বিতর্ককে বাইরের বিশ্বের বিদ্বেষ হিসেবে দেখবে? বিশ্বকাপ শেষ হলেও সেই বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।

বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষের বিতর্ক নতুন করে দেশটির জাতিগত পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতা সামনে এনেছে।