নিয়মিত মাইন্ডফুলনেস চর্চা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস এবং ইতিবাচক চিন্তার প্রশিক্ষণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে নতুন এক গবেষণা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে এসব মানসিক ও আচরণভিত্তিক কর্মসূচি রক্তচাপ, প্রদাহ এবং হৃদ্রোগের অন্যান্য ঝুঁকির সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
গবেষণায় ১৮টি দৈবচয়নভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবান-শ্যাম্পেইনের অধ্যাপক রোজালবা ‘রোজ’ হার্নান্দেজ। পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের বৈকল্য এবং অন্যান্য হৃদ্রোগজনিত ঝুঁকিতে থাকা মানুষ ছিলেন।
আট সপ্তাহের চর্চায় রক্তচাপের উন্নতি
গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ কর্মসূচির মেয়াদ ছিল ছয় থেকে ১২ সপ্তাহ। সাধারণত সপ্তাহে একটি করে সেশন পরিচালনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলন করতে বলা হয়। ফোনকল, অ্যাপ, খুদে বার্তা, দিনলিপি লেখা, দলীয় সেশন এবং সরাসরি ও অনলাইন সহায়তার সমন্বয়েও এসব কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
হার্নান্দেজের নেতৃত্বে পর্যালোচনায় দেখা যায়, আট সপ্তাহের মাইন্ডফুলনেসভিত্তিক কর্মসূচি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এবং তীব্র করোনারি সিনড্রোম থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সিস্টোলিক রক্তচাপ ও প্রদাহের সূচকে উন্নতি আনতে পারে।
এ ছাড়া আধ্যাত্মিকতাভিত্তিক ১২ সপ্তাহের একটি ডিজিটাল কর্মসূচিতে রক্তচাপ কমার অন্যতম বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এতে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমেছিল।
নিয়মিত অনুশীলনেই বেশি সুফল
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে, যেসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের ব্যবস্থা ছিল, সেগুলোতেই হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি তুলনামূলকভাবে বেশি ধারাবাহিক ছিল। গবেষণার নেতৃত্বদানকারী হার্নান্দেজের মতে, দৈনিক অনুশীলনের সঙ্গে আট থেকে ১২ সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক সেশন যুক্ত থাকলে রক্তচাপ, প্রদাহ এবং রক্তনালির অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতায় উন্নতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কিছু কর্মসূচিতে মানসিক অনুশীলনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আট সপ্তাহের একটি হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক কর্মসূচিতে সাপ্তাহিক সেশনের সঙ্গে দৈনিক কিছু কাজ দেওয়া হতো। এতে অংশগ্রহণকারীদের বেশি ব্যায়াম করা, খাদ্যাভ্যাস উন্নত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়।
অন্য একটি কর্মসূচিতে উৎসাহমূলক কথোপকথনের মাধ্যমে হৃদ্রোগীদের শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এতে দৈনিক হাঁটার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৮০০ ধাপ বেড়েছিল এবং ওষুধ নিয়মিত গ্রহণের প্রবণতাও উন্নত হয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্ভাবনা
গবেষকদের মতে, মাইন্ডফুলনেস ও ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের এসব কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়ক সংযোজন হিসেবে কার্যকর হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদে কম ঘনত্বের হলেও ধারাবাহিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
কার্ডিওলজি ক্লিনিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত এই পর্যালোচনা মানসিক সুস্থতা ও হৃদ্স্বাস্থ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান গবেষণার সঙ্গে নতুন তথ্য যোগ করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, আশাবাদ, কৃতজ্ঞতা এবং অন্যান্য ইতিবাচক আবেগ হৃদ্স্বাস্থ্যের সঙ্গে ভালো ফলাফলের সম্পর্ক দেখিয়েছে। হার্নান্দেজের নেতৃত্বে আগের এক গবেষণাতেও বেশি আশাবাদী মানুষের হৃদ্স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
মাইন্ডফুলনেস চর্চায় আট সপ্তাহের মধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ ও প্রদাহের কিছু সূচকে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা গেছে গবেষণায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















