সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগে আপত্তি নেই সাধারণ মানুষের। তবে এর প্রভাব যদি নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ে, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ কর্মজীবীরা। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে মঙ্গলবার এমনই ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুদ আলম বলেন, সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়ে। বেতন বাড়ানোর প্রভাব তাৎক্ষণিক না হলেও সময়ের সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু সরকারি কর্মচারীদের নয়, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টিও সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
‘এখনই তো সব জিনিসের দাম চড়া’
বহদ্দারহাটে বাজার করতে আসা বাদুরতলা আবাসিক এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আকতার বলেন, নতুন করে আর কী দাম বাড়বে—এখনই অধিকাংশ পণ্যের দাম অনেক বেশি। বন্যার পর শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেগুলোর দাম আগের অবস্থায় ফেরেনি।

সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসল, সবজি, মাছ, মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকরা এখনও সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ফলে জেলার বাইরের সরবরাহের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারের দামে।
সরবরাহ বাড়লেও দাম পুরোপুরি কমেনি
বহদ্দারহাটের মুদি দোকানি আমান উল্লাহ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা সদ্য আসায় চাল-ডালসহ পণ্যের দামে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়বে। এখন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা কীভাবে সম্ভব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সবজি বিক্রেতা নেজাম উদ্দিন জানান, বন্যার পর পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও এখন সরবরাহ কিছুটা বাড়ছে। এতে দাম কমছে, তবে বন্যার সময় যে হারে বেড়েছিল, সেই তুলনায় কমার গতি এখনও কম।
বহদ্দারহাটে পটোল, শসা, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও চালকুমড়া কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা এবং শিম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ-মাংসেও স্বস্তি সীমিত

বাজারে তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৫০, রুই-কাতলা ৩৫০-৪০০, পাবদা ৩৫০-৪০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ এবং বাইম ৬০০-৮০০ টাকা কেজি। চাষের কই ৩০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি।
ইলিশের ক্ষেত্রেও দাম বেশ চড়া। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ৯০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ১০০-১ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজির ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক থেকে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকা কেজি।
চালের দামও বেড়েছে
খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। স্বর্ণা মোটা চালের কেজি আগে ৫১-৫২ টাকা থাকলেও এখন ৫৬-৬০ টাকা। পাইজাম ও বিআর-২৮ মাঝারি মানের চাল ৭০-৭২ টাকা কেজি। নাজিরশাইল ৮২-৮৫ টাকা, মিনিকেট ৮০-৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ ও ২৯ চাল ৬২-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গুটি ও চায়না ইরিসহ মোটা চালের দাম ৫৮-৬০ টাকা কেজি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















