০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ? পরিবার নিয়ে শরতের উৎসবে জমবে সিঙ্গাপুরে লণ্ঠনযাত্রা, হানফু সাজ ও চাঁদ দেখার আয়োজন এক অ্যাপেই বাস, ফেরি, সাইকেল ভাড়া—ভ্রমণ ও যাতায়াতে নতুন সুবিধা গ্র্যাবের লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: রুশ কূটনীতিককে তলব ব্রিটেনের ন্যাটোর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরছেন ইউক্রেনীয় নেতারা, দেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন আরও বহু সেনাকে ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত? ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে নৌকা উদ্ধার, ৮০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? এক যুগ পর বন্ধ হচ্ছে ‘চিকেন শপ ডেট’, নতুন অভিযানে যেতে চান অ্যামেলিয়া ডিমোল্ডেনবার্গ ২০২৮-কে ঘিরেই কি পূর্ব এশিয়ার বড় সংকটের প্রস্তুতি?

হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং, জেনারেটরও বছরের পর বছর বিকল

বরিশাল নগরের ১০০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার লোডশেডিং হয়েছে। এতে মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল হাসপাতালটি। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ‘সদর হাসপাতাল ফিডারে’ মানবিক কারণে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হলেও বাস্তবে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরও বহু বছর ধরে বিকল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও স্বজনদের ভরসা মোমবাতি ও হাতপাখা। অস্ত্রোপচার কক্ষ অবশ্য আইপিএসের মাধ্যমে সচল রাখার চেষ্টা করা হয়।

৩৯ ঘণ্টায় ৯ দফা লোডশেডিং

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে সদর হাসপাতাল ফিডারটি নিয়ন্ত্রিত হয়। সাব-স্টেশনের লোডশেডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯ ঘণ্টায় ওই ফিডারে নয়বার লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। এতে মোট সাত ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না।

বেতাগী হাসপাতালে নেই জেনারেটর, লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রোগীরা

এর মধ্যে ছয়বার এক ঘণ্টা করে এবং বাকি তিনবার যথাক্রমে ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। শুধু শনিবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিট এবং রোববার রাত ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্তও হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন ছিল।

পলাশপুর সাব-স্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ জানান, হাসপাতালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গরমে দুর্ভোগ, বিকল্প নেই জেনারেটরের

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তখনও লোডশেডিং চলছিল। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছিলেন। স্বজনদের অনেকেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত টিনশেড ভবনে কয়েকটি শয্যায় মশারির ভেতর ডেঙ্গু রোগীকেও রাখা ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। করোনা মহামারির সময় এটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকৌশলীরা পরে জানান, সেটি আর চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে মোমবাতি ও হাতপাখার ওপরই নির্ভর করতে হয়। অস্ত্রোপচার কক্ষ আইপিএস দিয়ে চালু রাখা হয়।

সরবরাহ ঘাটতিতে সাত ফিডারে চাপ

কোথাও অস্ত্রোপচারের শুরুতে লোডশেডিং, কোথাও বন্ধ নেবুলাইজার–প্যাথলজি পরীক্ষা  | প্রথম আলো

পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতায় সদর রোড, চকবাজার, সদর হাসপাতাল, আমানতগঞ্জ, পোর্টরোড, তালতলী ও এমইপি—এই সাতটি ফিডার রয়েছে। পিক সময়ে সাব-স্টেশনের বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট এবং অফপিকে ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। ফলে সাতটি ফিডারের মধ্যে অন্তত তিনটিতে সার্বক্ষণিক লোডশেডিং রাখতে হয়; কখনও চারটিতেও দিতে হয়।

সদর রোড ফিডারেও একই সময়ে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৪৪ ঘণ্টায় সেখানে ১১ দফা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

জনরোষের আতঙ্কে সাব-স্টেশন কর্মীরা

লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে সাব-স্টেশনের কর্মীদের জনরোষের আশঙ্কায় থাকতে হয়। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে গভীর রাতে লোডশেডিং দেওয়ার পর পলাশপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা সাব-স্টেশনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোন এবং রোগীর স্বজনদের জরুরি অনুরোধের কারণেও অনেক সময় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়ার পর একজন স্বজন ফোন করে জানান, রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৬০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ?

হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং, জেনারেটরও বছরের পর বছর বিকল

০২:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল নগরের ১০০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ছয়বার লোডশেডিং হয়েছে। এতে মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল হাসপাতালটি। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ‘সদর হাসপাতাল ফিডারে’ মানবিক কারণে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হলেও বাস্তবে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরও বহু বছর ধরে বিকল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও স্বজনদের ভরসা মোমবাতি ও হাতপাখা। অস্ত্রোপচার কক্ষ অবশ্য আইপিএসের মাধ্যমে সচল রাখার চেষ্টা করা হয়।

৩৯ ঘণ্টায় ৯ দফা লোডশেডিং

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে সদর হাসপাতাল ফিডারটি নিয়ন্ত্রিত হয়। সাব-স্টেশনের লোডশেডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯ ঘণ্টায় ওই ফিডারে নয়বার লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। এতে মোট সাত ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না।

বেতাগী হাসপাতালে নেই জেনারেটর, লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রোগীরা

এর মধ্যে ছয়বার এক ঘণ্টা করে এবং বাকি তিনবার যথাক্রমে ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। শুধু শনিবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিট এবং রোববার রাত ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্তও হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন ছিল।

পলাশপুর সাব-স্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ জানান, হাসপাতালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গরমে দুর্ভোগ, বিকল্প নেই জেনারেটরের

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তখনও লোডশেডিং চলছিল। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছিলেন। স্বজনদের অনেকেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত টিনশেড ভবনে কয়েকটি শয্যায় মশারির ভেতর ডেঙ্গু রোগীকেও রাখা ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। করোনা মহামারির সময় এটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকৌশলীরা পরে জানান, সেটি আর চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে মোমবাতি ও হাতপাখার ওপরই নির্ভর করতে হয়। অস্ত্রোপচার কক্ষ আইপিএস দিয়ে চালু রাখা হয়।

সরবরাহ ঘাটতিতে সাত ফিডারে চাপ

কোথাও অস্ত্রোপচারের শুরুতে লোডশেডিং, কোথাও বন্ধ নেবুলাইজার–প্যাথলজি পরীক্ষা  | প্রথম আলো

পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতায় সদর রোড, চকবাজার, সদর হাসপাতাল, আমানতগঞ্জ, পোর্টরোড, তালতলী ও এমইপি—এই সাতটি ফিডার রয়েছে। পিক সময়ে সাব-স্টেশনের বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট এবং অফপিকে ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। ফলে সাতটি ফিডারের মধ্যে অন্তত তিনটিতে সার্বক্ষণিক লোডশেডিং রাখতে হয়; কখনও চারটিতেও দিতে হয়।

সদর রোড ফিডারেও একই সময়ে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৪৪ ঘণ্টায় সেখানে ১১ দফা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

জনরোষের আতঙ্কে সাব-স্টেশন কর্মীরা

লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে সাব-স্টেশনের কর্মীদের জনরোষের আশঙ্কায় থাকতে হয়। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে গভীর রাতে লোডশেডিং দেওয়ার পর পলাশপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা সাব-স্টেশনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোন এবং রোগীর স্বজনদের জরুরি অনুরোধের কারণেও অনেক সময় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়ার পর একজন স্বজন ফোন করে জানান, রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৬০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।