০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ? পরিবার নিয়ে শরতের উৎসবে জমবে সিঙ্গাপুরে লণ্ঠনযাত্রা, হানফু সাজ ও চাঁদ দেখার আয়োজন এক অ্যাপেই বাস, ফেরি, সাইকেল ভাড়া—ভ্রমণ ও যাতায়াতে নতুন সুবিধা গ্র্যাবের লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: রুশ কূটনীতিককে তলব ব্রিটেনের ন্যাটোর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরছেন ইউক্রেনীয় নেতারা, দেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন আরও বহু সেনাকে ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত? ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে নৌকা উদ্ধার, ৮০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? এক যুগ পর বন্ধ হচ্ছে ‘চিকেন শপ ডেট’, নতুন অভিযানে যেতে চান অ্যামেলিয়া ডিমোল্ডেনবার্গ ২০২৮-কে ঘিরেই কি পূর্ব এশিয়ার বড় সংকটের প্রস্তুতি?

আফগানিস্তানে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান সংঘাত

তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরে তালেবানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্ট, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী তালেবানের কঠোর শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নারী ও মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞাকে তাদের প্রতিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।

কঠোর শাসনে সংকুচিত মানুষের অধিকার

তালেবান সরকার আফগানিস্তানে এমন এক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমিত। বিশেষ করে নারী ও মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা থেকে তাদের দূরে রাখা, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণে বাধা এবং জনজীবনে চলাফেরার ওপর নানা বিধিনিষেধ তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে সংকুচিত করেছে।

এর পাশাপাশি সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, সমালোচক ও বিরোধীদের নির্বিচারে আটক, নিখোঁজ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও কঠোর সেন্সরশিপ ও সহিংসতার কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বিচারব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে।

Bread, Work, Freedom—Afghan Women's Two Years of Resistance | Human Rights  Watch

নারীদের ওপর বৈষম্যের বিস্তৃত কাঠামো

নারীদের অধিকার সংকুচিত করতে তালেবান সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা পারিবারিক জীবনে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিচারের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও সীমিত করে। বাল্যবিবাহের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সংকুচিত করার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের ভ্রমণ এবং বিভিন্ন জনপরিসরে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে এসব নীতিকে নারীদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়নের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থনীতিতেও ভয়াবহ প্রভাব

নারীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর সংকট তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক নারী ও মেয়েকে মানবিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এই নীতিগুলো।

শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে রাখায় উৎপাদন কমছে, দারিদ্র্য বাড়ছে এবং বহু পরিবার খাদ্যসংকট ও ঋণের চক্রে আটকে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

From Saigon to Kabul: what America's Afghan fiasco means for the world

তালেবান সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের দীর্ঘস্থায়ী ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া তালেবানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।

নারীর প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগেও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকেও উসকে দিচ্ছে। জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্টসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে তালেবানের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Afghanistan's Security Challenges under the Taliban | International Crisis  Group

অন্যদিকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র ও জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, আন্তঃসীমান্ত হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে উঠছে আফগানিস্তান

তালেবানের কঠোর অভ্যন্তরীণ শাসন এবং দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি আফগানিস্তানকে একই সঙ্গে মানবিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সংকটের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। একদিকে নারী ও সাধারণ মানুষের অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে।

আফগানিস্তানে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সামরিক নিয়ন্ত্রণ নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়; এটি মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ?

আফগানিস্তানে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান সংঘাত

০৩:০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরে তালেবানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্ট, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী তালেবানের কঠোর শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নারী ও মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞাকে তাদের প্রতিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।

কঠোর শাসনে সংকুচিত মানুষের অধিকার

তালেবান সরকার আফগানিস্তানে এমন এক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমিত। বিশেষ করে নারী ও মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা থেকে তাদের দূরে রাখা, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণে বাধা এবং জনজীবনে চলাফেরার ওপর নানা বিধিনিষেধ তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে সংকুচিত করেছে।

এর পাশাপাশি সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, সমালোচক ও বিরোধীদের নির্বিচারে আটক, নিখোঁজ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও কঠোর সেন্সরশিপ ও সহিংসতার কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বিচারব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে।

Bread, Work, Freedom—Afghan Women's Two Years of Resistance | Human Rights  Watch

নারীদের ওপর বৈষম্যের বিস্তৃত কাঠামো

নারীদের অধিকার সংকুচিত করতে তালেবান সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা পারিবারিক জীবনে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিচারের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও সীমিত করে। বাল্যবিবাহের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সংকুচিত করার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের ভ্রমণ এবং বিভিন্ন জনপরিসরে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে এসব নীতিকে নারীদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়নের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থনীতিতেও ভয়াবহ প্রভাব

নারীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর সংকট তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক নারী ও মেয়েকে মানবিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এই নীতিগুলো।

শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে রাখায় উৎপাদন কমছে, দারিদ্র্য বাড়ছে এবং বহু পরিবার খাদ্যসংকট ও ঋণের চক্রে আটকে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

From Saigon to Kabul: what America's Afghan fiasco means for the world

তালেবান সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের দীর্ঘস্থায়ী ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া তালেবানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।

নারীর প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগেও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকেও উসকে দিচ্ছে। জাতীয় প্রতিরোধ ফ্রন্টসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে তালেবানের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Afghanistan's Security Challenges under the Taliban | International Crisis  Group

অন্যদিকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র ও জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, আন্তঃসীমান্ত হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে উঠছে আফগানিস্তান

তালেবানের কঠোর অভ্যন্তরীণ শাসন এবং দেশটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি আফগানিস্তানকে একই সঙ্গে মানবিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সংকটের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। একদিকে নারী ও সাধারণ মানুষের অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে।

আফগানিস্তানে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সামরিক নিয়ন্ত্রণ নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়; এটি মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যা।