০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি: বিগ টেকের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা এআই যুগকে নতুন রূপ দিচ্ছে নেটফ্লিক্সে আসছে কোরিয়ান গুপ্তচর থ্রিলার ‘হিউমিন্ট’, সঙ্গে বিটিএস ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪
  • 111

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘দুপুর থেকেই ছিলেন, সন্ধ্যার একটু আগেই চ’লে গেলেন। তুই যাসনে কেন?’
“বললো বুঝি?”
কতো কান্নাকাটি করলেন। শিগগির কুমিল্লায় চ’লে যাচ্ছেন সবাই, শুধু সেজখালু থাকবেন। আমাদের যেতে বলেছেন ওঁদের সঙ্গে।
”ই’। সঙ্গে নিশ্চয়ই বেলী ছিলো, না থেকে ভালোই হয়েছে, বেলীটা একেবারে অসহ্য আমার কাছে।’
থেকে যেতে চেয়েছিলো, সেজখালা রাজি হলেন না, বললেন আমি একা একা ফিরতে পারবো না, অন্যদিন আসিস–‘
‘পরে শোনা যাবে সব, এখন ওঠ দেখি। হাবার মতো এ্যাঁয়ু এ্যাঁয় ক’রে কাঁদছিলি কেন?’
‘এমনিই।’
‘এমনিই আবার কেউ কাঁদে নাকি?’
‘আমি এমনিই কাঁদি–‘
‘তার মানে তোর টিটমেন্ট দরকার। তোর কানে গরম রসুন-তেল ঢালা দরকার; নির্ঘাত একটা ইস্কুরুপ ঢিলে হ’য়ে গিয়েছে তোর মাথার ভিতর। দেরি করে ফিরেছি ব’লে কাঁদছিলি?’
‘বাপির জন্যে মন কেমন করছিলো।’
‘এটা তোর বাড়াবাড়ি। তারিখ এসেছে যে হাপুস নয়নে কান্না জুড়বি?’
‘যদি না আসতে পারে?’
‘যদি আবার কি এ্যাঁ? তোর যতো উড়ো বায়নাক্কা। খামোকা মন খারাপ করাটা ধাত হ’য়ে দাঁড়িয়েছে। নেমে চল, দারুণ খিদে পেয়েছে, পেট চুঁইছুঁই করছে। দুপুরের মাছ রেখেছিস তো, কি মাছ?’
‘পাবদা!’
‘পাবলো নেরুদা–গুড!
দু’জনে একসঙ্গে খেলো। পরে একসময় রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা আজব মানুষ, এতোক্ষণ কিছুই নজরে পড়েনি তোর, আশ্চর্য!’
‘কেন, কি হ’লো আবার?’
‘দেখতে পাচ্ছিস না কিছু?’
‘কি জানি বাবা–‘
‘ময়নাকে দেখছিস?’
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৪)

০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘দুপুর থেকেই ছিলেন, সন্ধ্যার একটু আগেই চ’লে গেলেন। তুই যাসনে কেন?’
“বললো বুঝি?”
কতো কান্নাকাটি করলেন। শিগগির কুমিল্লায় চ’লে যাচ্ছেন সবাই, শুধু সেজখালু থাকবেন। আমাদের যেতে বলেছেন ওঁদের সঙ্গে।
”ই’। সঙ্গে নিশ্চয়ই বেলী ছিলো, না থেকে ভালোই হয়েছে, বেলীটা একেবারে অসহ্য আমার কাছে।’
থেকে যেতে চেয়েছিলো, সেজখালা রাজি হলেন না, বললেন আমি একা একা ফিরতে পারবো না, অন্যদিন আসিস–‘
‘পরে শোনা যাবে সব, এখন ওঠ দেখি। হাবার মতো এ্যাঁয়ু এ্যাঁয় ক’রে কাঁদছিলি কেন?’
‘এমনিই।’
‘এমনিই আবার কেউ কাঁদে নাকি?’
‘আমি এমনিই কাঁদি–‘
‘তার মানে তোর টিটমেন্ট দরকার। তোর কানে গরম রসুন-তেল ঢালা দরকার; নির্ঘাত একটা ইস্কুরুপ ঢিলে হ’য়ে গিয়েছে তোর মাথার ভিতর। দেরি করে ফিরেছি ব’লে কাঁদছিলি?’
‘বাপির জন্যে মন কেমন করছিলো।’
‘এটা তোর বাড়াবাড়ি। তারিখ এসেছে যে হাপুস নয়নে কান্না জুড়বি?’
‘যদি না আসতে পারে?’
‘যদি আবার কি এ্যাঁ? তোর যতো উড়ো বায়নাক্কা। খামোকা মন খারাপ করাটা ধাত হ’য়ে দাঁড়িয়েছে। নেমে চল, দারুণ খিদে পেয়েছে, পেট চুঁইছুঁই করছে। দুপুরের মাছ রেখেছিস তো, কি মাছ?’
‘পাবদা!’
‘পাবলো নেরুদা–গুড!
দু’জনে একসঙ্গে খেলো। পরে একসময় রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা আজব মানুষ, এতোক্ষণ কিছুই নজরে পড়েনি তোর, আশ্চর্য!’
‘কেন, কি হ’লো আবার?’
‘দেখতে পাচ্ছিস না কিছু?’
‘কি জানি বাবা–‘
‘ময়নাকে দেখছিস?’