০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১১৩ চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ফুটের আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে বিশ্বকাপ র‍্যালি, জনসমুদ্রে রূপ নিল শহর ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের ইসলামী ব্যাংকে পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি, গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার জুলাই আন্দোলনের হামলা মামলায় শাস্তি কমাল জাবি, আপিলে অব্যাহতি পেলেন কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭৯)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • 167
শ্রী নিখিলনাথ রায়
দ্বিতীয়তঃ পাছে কান্ত বাবু কারাগারে নন্দকুমারের আহারাদিসম্বন্ধে কোনরূপ অমত প্রদান করেন এই ভাবিয়া কান্ত বাবুর অনুপস্থিতি ইচ্ছা করিয়া সদস্যদিগকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন। কিন্তু হেষ্টিংসের সেরূপ আশঙ্কার কোন কারণ ছিল না। কারণ কান্ত বাবু নন্দকুমারকে বিপদগ্রস্ত করিবার জন্য একেবারে নিশ্চেষ্ট ছিলেন না। কান্ত বাবু যে হিন্দুশাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ছিলেন তাহাও যথার্থ, কারণ, তিনি উচ্চজাতিসস্থত ছিলেন না। সেই জন্য বোধ হয় যে, বাস্তবিকই তিনি নীচ লোকদিগের জাতিঘটিত বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসা করিতেন।
তাঁহার নিজের উক্তি হইতেও তাহার সমর্থন হয়। আমরা এস্থানে তাহারও উল্লেখ করিতেছি। ফ্রান্সিস ও মন্সন কান্ত বাবুর উপস্থিতির পক্ষেই মত প্রদান করেন, কাজেই কান্ত বাবুকে উপস্থিত হইতে হয়। কান্তবাবুকে তাঁহার বিচারালয়ের ও কোন্ কোন্ বিষয়ের বিচার কিরূপভাবে করিতে হয়, তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি নিম্নলিখিত উত্তর প্রদান করেন। কাউন্সিল-গৃহের সম্মুখেই তাঁহার জাতিঘটিত বিষয়ের বিচারালয় অবস্থিত। জাতি-নাশ, ও বিবাহপ্রভৃতির বিষয়ে তিনি বিচার করিয়া থাকেন। তাঁহার সাহায্যের জন্য একজন দারোগা ও দুইজন মোহরের নিযুক্ত আছে।
মুসল্ মানদিগের বিষয়, ভিন্ন বিচারালয়ে মৌলবীদিগের দ্বারা সম্পাদিত হয়। তাঁহার মীমাংসাই একেবারে শেষ নহে, যাহারা তাঁহার বিচারে সন্তুষ্ট না হয়, তাহারা গবর্ণরের নিকট আপীল করিয়া থাকে। তাঁহাকে কোনও বিষয়ে আদেশ দিতে হইলে, গবর্ণরের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। যাহারা উক্ত বিচারালয়ে দোষী স্থির হয়, তাহাদিগের স্বজাতিদিগকে ভোজ প্রদান করিবার জন্য অর্থদণ্ড দিতে হয়। বিচারালয়ে জরিমানার কোন নিয়ম নাই, অপরাধীরা তাঁহার আদেশ অমান্য করিলে, তাহাদিগকে দুই এক দিন কারাবাসে থাকিবারও বিধি আছে। হেষ্টিংস সাহেব গবর্ণর হইবার পর হইতেই কান্ত বাবু উক্ত বিচারালয়ে নিযুক্ত হন; ইতিপূর্ব্বে অন্যান্য গবর্ণরের বেনিয়ানগণও উক্ত কার্য্য করিতেন।
জেনারেল ক্লেভারিং কান্তবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্নান করা হিন্দুধর্ম্মের একটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ কিনা? কান্তবাবু উত্তর দেন যে, লোকে সুস্থ থাকিলে ইহা করা সঙ্গত বটে, কিন্তু সেরূপ অবস্থা না হইলে সে করিয়া উঠিতে পারে না। এই সময়ে গবর্ণর জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন, কেহ সুস্থ শরীরে থাকিয়া স্নান না করিলে কোন অপরাধ হয় কিনা? কান্ত বাবু, উত্তর দেন যে, তাহাতে অপরাধ হয় কি না, তাহা ধর্মশাস্ত্রে লিখিত আছে, আমি শাস্ত্র জানি না। পরে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি ব্রাহ্মণ কিনা? উত্তর-আমি ব্রাহ্মণ নহি। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই ধৰ্ম্মানুষ্ঠান প্রতিপালন করিয়া থাকে কিনা জিজ্ঞাসা করিলে, কান্ত বাবু উত্তর দেন যে, শাস্ত্রের আদেশ সকল জাতির প্রতিই সমান।
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭৯)

১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
শ্রী নিখিলনাথ রায়
দ্বিতীয়তঃ পাছে কান্ত বাবু কারাগারে নন্দকুমারের আহারাদিসম্বন্ধে কোনরূপ অমত প্রদান করেন এই ভাবিয়া কান্ত বাবুর অনুপস্থিতি ইচ্ছা করিয়া সদস্যদিগকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন। কিন্তু হেষ্টিংসের সেরূপ আশঙ্কার কোন কারণ ছিল না। কারণ কান্ত বাবু নন্দকুমারকে বিপদগ্রস্ত করিবার জন্য একেবারে নিশ্চেষ্ট ছিলেন না। কান্ত বাবু যে হিন্দুশাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ছিলেন তাহাও যথার্থ, কারণ, তিনি উচ্চজাতিসস্থত ছিলেন না। সেই জন্য বোধ হয় যে, বাস্তবিকই তিনি নীচ লোকদিগের জাতিঘটিত বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসা করিতেন।
তাঁহার নিজের উক্তি হইতেও তাহার সমর্থন হয়। আমরা এস্থানে তাহারও উল্লেখ করিতেছি। ফ্রান্সিস ও মন্সন কান্ত বাবুর উপস্থিতির পক্ষেই মত প্রদান করেন, কাজেই কান্ত বাবুকে উপস্থিত হইতে হয়। কান্তবাবুকে তাঁহার বিচারালয়ের ও কোন্ কোন্ বিষয়ের বিচার কিরূপভাবে করিতে হয়, তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি নিম্নলিখিত উত্তর প্রদান করেন। কাউন্সিল-গৃহের সম্মুখেই তাঁহার জাতিঘটিত বিষয়ের বিচারালয় অবস্থিত। জাতি-নাশ, ও বিবাহপ্রভৃতির বিষয়ে তিনি বিচার করিয়া থাকেন। তাঁহার সাহায্যের জন্য একজন দারোগা ও দুইজন মোহরের নিযুক্ত আছে।
মুসল্ মানদিগের বিষয়, ভিন্ন বিচারালয়ে মৌলবীদিগের দ্বারা সম্পাদিত হয়। তাঁহার মীমাংসাই একেবারে শেষ নহে, যাহারা তাঁহার বিচারে সন্তুষ্ট না হয়, তাহারা গবর্ণরের নিকট আপীল করিয়া থাকে। তাঁহাকে কোনও বিষয়ে আদেশ দিতে হইলে, গবর্ণরের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। যাহারা উক্ত বিচারালয়ে দোষী স্থির হয়, তাহাদিগের স্বজাতিদিগকে ভোজ প্রদান করিবার জন্য অর্থদণ্ড দিতে হয়। বিচারালয়ে জরিমানার কোন নিয়ম নাই, অপরাধীরা তাঁহার আদেশ অমান্য করিলে, তাহাদিগকে দুই এক দিন কারাবাসে থাকিবারও বিধি আছে। হেষ্টিংস সাহেব গবর্ণর হইবার পর হইতেই কান্ত বাবু উক্ত বিচারালয়ে নিযুক্ত হন; ইতিপূর্ব্বে অন্যান্য গবর্ণরের বেনিয়ানগণও উক্ত কার্য্য করিতেন।
জেনারেল ক্লেভারিং কান্তবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্নান করা হিন্দুধর্ম্মের একটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ কিনা? কান্তবাবু উত্তর দেন যে, লোকে সুস্থ থাকিলে ইহা করা সঙ্গত বটে, কিন্তু সেরূপ অবস্থা না হইলে সে করিয়া উঠিতে পারে না। এই সময়ে গবর্ণর জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন, কেহ সুস্থ শরীরে থাকিয়া স্নান না করিলে কোন অপরাধ হয় কিনা? কান্ত বাবু, উত্তর দেন যে, তাহাতে অপরাধ হয় কি না, তাহা ধর্মশাস্ত্রে লিখিত আছে, আমি শাস্ত্র জানি না। পরে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি ব্রাহ্মণ কিনা? উত্তর-আমি ব্রাহ্মণ নহি। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই ধৰ্ম্মানুষ্ঠান প্রতিপালন করিয়া থাকে কিনা জিজ্ঞাসা করিলে, কান্ত বাবু উত্তর দেন যে, শাস্ত্রের আদেশ সকল জাতির প্রতিই সমান।