১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব পাকিস্তান হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে লেবানন যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর: মার্চ থেকে ২,৫০৯ জন নিহত, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ২০০৩-এর পর প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তিনটি বিমানবাহী রণতরী, উত্তেজনা তীব্র টানা ১১তম বছরে রেকর্ড: বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২০২৫ সালে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ২১ বছর পর গাজা ও পশ্চিম তীরে স্থানীয় নির্বাচন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নতুন পথে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এআই মামলা শুরু: মাস্ক বনাম অ্যালটম্যান আদালতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে হামলার আসামি আদালতে, ট্রাম্প প্রশাসনকে টার্গেট করার পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালী আর আগের মতো থাকবে না: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণা মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়েছে, আরাঘচি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে সেন্ট পিটার্সবার্গে চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী গুলিতে নিহত

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭৯)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • 150
শ্রী নিখিলনাথ রায়
দ্বিতীয়তঃ পাছে কান্ত বাবু কারাগারে নন্দকুমারের আহারাদিসম্বন্ধে কোনরূপ অমত প্রদান করেন এই ভাবিয়া কান্ত বাবুর অনুপস্থিতি ইচ্ছা করিয়া সদস্যদিগকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন। কিন্তু হেষ্টিংসের সেরূপ আশঙ্কার কোন কারণ ছিল না। কারণ কান্ত বাবু নন্দকুমারকে বিপদগ্রস্ত করিবার জন্য একেবারে নিশ্চেষ্ট ছিলেন না। কান্ত বাবু যে হিন্দুশাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ছিলেন তাহাও যথার্থ, কারণ, তিনি উচ্চজাতিসস্থত ছিলেন না। সেই জন্য বোধ হয় যে, বাস্তবিকই তিনি নীচ লোকদিগের জাতিঘটিত বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসা করিতেন।
তাঁহার নিজের উক্তি হইতেও তাহার সমর্থন হয়। আমরা এস্থানে তাহারও উল্লেখ করিতেছি। ফ্রান্সিস ও মন্সন কান্ত বাবুর উপস্থিতির পক্ষেই মত প্রদান করেন, কাজেই কান্ত বাবুকে উপস্থিত হইতে হয়। কান্তবাবুকে তাঁহার বিচারালয়ের ও কোন্ কোন্ বিষয়ের বিচার কিরূপভাবে করিতে হয়, তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি নিম্নলিখিত উত্তর প্রদান করেন। কাউন্সিল-গৃহের সম্মুখেই তাঁহার জাতিঘটিত বিষয়ের বিচারালয় অবস্থিত। জাতি-নাশ, ও বিবাহপ্রভৃতির বিষয়ে তিনি বিচার করিয়া থাকেন। তাঁহার সাহায্যের জন্য একজন দারোগা ও দুইজন মোহরের নিযুক্ত আছে।
মুসল্ মানদিগের বিষয়, ভিন্ন বিচারালয়ে মৌলবীদিগের দ্বারা সম্পাদিত হয়। তাঁহার মীমাংসাই একেবারে শেষ নহে, যাহারা তাঁহার বিচারে সন্তুষ্ট না হয়, তাহারা গবর্ণরের নিকট আপীল করিয়া থাকে। তাঁহাকে কোনও বিষয়ে আদেশ দিতে হইলে, গবর্ণরের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। যাহারা উক্ত বিচারালয়ে দোষী স্থির হয়, তাহাদিগের স্বজাতিদিগকে ভোজ প্রদান করিবার জন্য অর্থদণ্ড দিতে হয়। বিচারালয়ে জরিমানার কোন নিয়ম নাই, অপরাধীরা তাঁহার আদেশ অমান্য করিলে, তাহাদিগকে দুই এক দিন কারাবাসে থাকিবারও বিধি আছে। হেষ্টিংস সাহেব গবর্ণর হইবার পর হইতেই কান্ত বাবু উক্ত বিচারালয়ে নিযুক্ত হন; ইতিপূর্ব্বে অন্যান্য গবর্ণরের বেনিয়ানগণও উক্ত কার্য্য করিতেন।
জেনারেল ক্লেভারিং কান্তবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্নান করা হিন্দুধর্ম্মের একটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ কিনা? কান্তবাবু উত্তর দেন যে, লোকে সুস্থ থাকিলে ইহা করা সঙ্গত বটে, কিন্তু সেরূপ অবস্থা না হইলে সে করিয়া উঠিতে পারে না। এই সময়ে গবর্ণর জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন, কেহ সুস্থ শরীরে থাকিয়া স্নান না করিলে কোন অপরাধ হয় কিনা? কান্ত বাবু, উত্তর দেন যে, তাহাতে অপরাধ হয় কি না, তাহা ধর্মশাস্ত্রে লিখিত আছে, আমি শাস্ত্র জানি না। পরে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি ব্রাহ্মণ কিনা? উত্তর-আমি ব্রাহ্মণ নহি। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই ধৰ্ম্মানুষ্ঠান প্রতিপালন করিয়া থাকে কিনা জিজ্ঞাসা করিলে, কান্ত বাবু উত্তর দেন যে, শাস্ত্রের আদেশ সকল জাতির প্রতিই সমান।

হরমুজ খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব পাকিস্তান হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭৯)

১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
শ্রী নিখিলনাথ রায়
দ্বিতীয়তঃ পাছে কান্ত বাবু কারাগারে নন্দকুমারের আহারাদিসম্বন্ধে কোনরূপ অমত প্রদান করেন এই ভাবিয়া কান্ত বাবুর অনুপস্থিতি ইচ্ছা করিয়া সদস্যদিগকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন। কিন্তু হেষ্টিংসের সেরূপ আশঙ্কার কোন কারণ ছিল না। কারণ কান্ত বাবু নন্দকুমারকে বিপদগ্রস্ত করিবার জন্য একেবারে নিশ্চেষ্ট ছিলেন না। কান্ত বাবু যে হিন্দুশাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ছিলেন তাহাও যথার্থ, কারণ, তিনি উচ্চজাতিসস্থত ছিলেন না। সেই জন্য বোধ হয় যে, বাস্তবিকই তিনি নীচ লোকদিগের জাতিঘটিত বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসা করিতেন।
তাঁহার নিজের উক্তি হইতেও তাহার সমর্থন হয়। আমরা এস্থানে তাহারও উল্লেখ করিতেছি। ফ্রান্সিস ও মন্সন কান্ত বাবুর উপস্থিতির পক্ষেই মত প্রদান করেন, কাজেই কান্ত বাবুকে উপস্থিত হইতে হয়। কান্তবাবুকে তাঁহার বিচারালয়ের ও কোন্ কোন্ বিষয়ের বিচার কিরূপভাবে করিতে হয়, তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি নিম্নলিখিত উত্তর প্রদান করেন। কাউন্সিল-গৃহের সম্মুখেই তাঁহার জাতিঘটিত বিষয়ের বিচারালয় অবস্থিত। জাতি-নাশ, ও বিবাহপ্রভৃতির বিষয়ে তিনি বিচার করিয়া থাকেন। তাঁহার সাহায্যের জন্য একজন দারোগা ও দুইজন মোহরের নিযুক্ত আছে।
মুসল্ মানদিগের বিষয়, ভিন্ন বিচারালয়ে মৌলবীদিগের দ্বারা সম্পাদিত হয়। তাঁহার মীমাংসাই একেবারে শেষ নহে, যাহারা তাঁহার বিচারে সন্তুষ্ট না হয়, তাহারা গবর্ণরের নিকট আপীল করিয়া থাকে। তাঁহাকে কোনও বিষয়ে আদেশ দিতে হইলে, গবর্ণরের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। যাহারা উক্ত বিচারালয়ে দোষী স্থির হয়, তাহাদিগের স্বজাতিদিগকে ভোজ প্রদান করিবার জন্য অর্থদণ্ড দিতে হয়। বিচারালয়ে জরিমানার কোন নিয়ম নাই, অপরাধীরা তাঁহার আদেশ অমান্য করিলে, তাহাদিগকে দুই এক দিন কারাবাসে থাকিবারও বিধি আছে। হেষ্টিংস সাহেব গবর্ণর হইবার পর হইতেই কান্ত বাবু উক্ত বিচারালয়ে নিযুক্ত হন; ইতিপূর্ব্বে অন্যান্য গবর্ণরের বেনিয়ানগণও উক্ত কার্য্য করিতেন।
জেনারেল ক্লেভারিং কান্তবাবুকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্নান করা হিন্দুধর্ম্মের একটি প্রয়োজনীয় অঙ্গ কিনা? কান্তবাবু উত্তর দেন যে, লোকে সুস্থ থাকিলে ইহা করা সঙ্গত বটে, কিন্তু সেরূপ অবস্থা না হইলে সে করিয়া উঠিতে পারে না। এই সময়ে গবর্ণর জেনারেল জিজ্ঞাসা করেন, কেহ সুস্থ শরীরে থাকিয়া স্নান না করিলে কোন অপরাধ হয় কিনা? কান্ত বাবু, উত্তর দেন যে, তাহাতে অপরাধ হয় কি না, তাহা ধর্মশাস্ত্রে লিখিত আছে, আমি শাস্ত্র জানি না। পরে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি ব্রাহ্মণ কিনা? উত্তর-আমি ব্রাহ্মণ নহি। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই ধৰ্ম্মানুষ্ঠান প্রতিপালন করিয়া থাকে কিনা জিজ্ঞাসা করিলে, কান্ত বাবু উত্তর দেন যে, শাস্ত্রের আদেশ সকল জাতির প্রতিই সমান।