০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ দীর্ঘায়িতের প্রস্তুতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে চার্লসের রসিকতা: ‘আমরা না থাকলে আপনারা আজ ফরাসি বলতেন’ চীনের বিশাল বায়োব্যাংক দৌড়, ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দেওয়ার পরিকল্পনা শিল্প ও তারকাদের ঝলকে নিউ মিউজিয়াম গালা, সম্মাননায় লিসা ফিলিপস দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের গেটি হাউসে ক্যাশমিয়ারের ছোঁয়ায় ঝলমলে সন্ধ্যা, ফ্যালকোনেরি ডিনারে তারকাদের সমাগম যুক্তরাষ্ট্র সফরে ক্লান্তির কথা স্বীকার রানি ক্যামিলার, তবুও থামছে না ব্যস্ততা উপকূলের শিক্ষা: ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও কেন ঝুঁকি কমেনি সাবেক এফবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি হেনড্রিক্সের সঙ্গীদের উত্তরাধিকারীদের বড় ধাক্কা: রয়্যালটি দাবিতে আদালতে পরাজয়

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৮০)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫
  • 162
শ্রী নিখিলনাথ রায়
তবে ব্রাহ্মণদিগের বিশেষ আদেশ তাঁহাদের ধৰ্ম্মগ্রন্থে লিখিত আছে, সে সকলের বিষয় আমি, কিছুই অবগত নহি। আহারের পূর্ব্বে স্নান করা আবশ্যক কিনা, এই কথার উত্তরে কান্ত বাবু বলেন যে, আহারের পূর্ব্বে মানাহ্নিক করা নিয়ম বটে। কিন্তু যে স্থলে লোকে স্নান করিতে পারে না, সে স্থলে আহারের পূর্ব্বে আহ্নিক করিতে হয়। ছোট জাতিরা স্নান না করিয়াও আহার করিয়া থাকে। উহার পর কান্ত বাবুকে শেষ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, যদি দুর্ভাগ্যক্রমে তোমাকে কারাবাস করিতে হয়, তাহা হইলে তোমার জাতিনাশ হওয়ার বিপদ ঘটিতে পারে কি না?
তাহাতে তিনি উত্তর দেন যে, শুধু কারাবাস করিলে জাতিনাশের ভয় নাই, তবে খুন ডাকাতি প্রভৃতি করিয়া কারাবাস করিলে জাতি যাইবার সম্ভাবনা আছে। কান্ত বাবুর এই সকল উক্তি হইতে বেশ বুঝা যায় যে, তিনি বাস্তবিকই নীচলোকদিগের বিচার করিতেন, কারণ শাস্ত্রজ্ঞান না থাকিলে কখন ব্রাহ্মণাদি জাতির বিচার করা সম্ভবপর হয় না। যাহা হউক, জাতিঘটিত বিচারালয়ের একটি প্রধান পদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, তাঁহার গৌরবের যে একটি নিদর্শন, ইহা আবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। হেষ্টিংসের যে কয়েকটি প্রিয়পাত্র ছিলেন, তন্মধ্যে কান্তবাবু শান্ত-প্রকৃতি ও অপেক্ষাকৃত ধর্মভীরু বলিয়া বোধ হয়।
যদিও অর্থের প্রলোভনে তাঁহার জীবনে পদে পদে তাঁহাকে সৎপথ হইতে বিচলিত হইতে দেখা যায়, তথাপি দেবী সিংহ ও গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের জায় তিনি অত্যাচারী বা পূর্ণমাত্রায় প্রবঞ্চক ছিলেন না। দেশের যাবতীয় লোকের সর্ব্বনাশ সংঘটন করিতে হইবে বলিয়া, তিনি কোম্পানীর দেওয়ানী লইতে স্বীকৃত হন নাই; তাঁহার অপারগতা তাহার প্রধান কারণ হইলেও উপরোক্ত কারণটি অন্যতম। পরে উক্ত দেওয়ানী সুবিখ্যাত গঙ্গাগোবিন্দের প্রতি অর্পিত হওয়ায়, তিনি বঙ্গদেশে আপনার নাম চিরস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন। অর্থলালসা প্রবল থাকায়, কান্তবাবুকে অনেকগুলি অসৎকম্ম করিতে হইয়াছিল; প্রবল অর্থলালসাবশে তিনি স্বীয় প্রভু হেষ্টিংসের মনস্তষ্টি-সম্পাদনার্থ প্রায়শঃ কর্তব্যাকর্তব্য বিবেচনা করিতেন না।
যদিও অর্থলালদার জন্য কান্তবাবু সাধুসমাজে নিন্দিত হইয়াছেন, তথাপি সে সময়ের কথা ভাবিতে গেলে, তাঁহাদিগের দোষের মাত্রা অতাধিক মনে না করাই যুক্তিসঙ্গত। যে সময়ে সাধারণ লোকসমাজে উৎকোচগ্রহণ, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি বিশেষ দোষ বলিয়া গণ্য হইত না; সে সময়ের লোকেরা ঐরূপ কোন অপরাধ করিলে তাঁহাদিগকে ক্ষমা করাই উচিত। তবে দোষ চিরকালই নিন্দনীয়। তৎসম্বন্ধে সময়াসময় বিবেচনা করা যাইতে পারে না; সত্যের অনুরোধে কান্ত বাবুর সম্বন্ধে আমাদিগকে দুই একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলিতে হইয়াছে। হেষ্টিংস কান্ত বাবুর কার্য্যে সন্তুষ্ট হইয়া, তাঁহাকে রাজোপাধি প্রদান করিতে প্রতিশ্রুত হন।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ দীর্ঘায়িতের প্রস্তুতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৮০)

১১:০০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫
শ্রী নিখিলনাথ রায়
তবে ব্রাহ্মণদিগের বিশেষ আদেশ তাঁহাদের ধৰ্ম্মগ্রন্থে লিখিত আছে, সে সকলের বিষয় আমি, কিছুই অবগত নহি। আহারের পূর্ব্বে স্নান করা আবশ্যক কিনা, এই কথার উত্তরে কান্ত বাবু বলেন যে, আহারের পূর্ব্বে মানাহ্নিক করা নিয়ম বটে। কিন্তু যে স্থলে লোকে স্নান করিতে পারে না, সে স্থলে আহারের পূর্ব্বে আহ্নিক করিতে হয়। ছোট জাতিরা স্নান না করিয়াও আহার করিয়া থাকে। উহার পর কান্ত বাবুকে শেষ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, যদি দুর্ভাগ্যক্রমে তোমাকে কারাবাস করিতে হয়, তাহা হইলে তোমার জাতিনাশ হওয়ার বিপদ ঘটিতে পারে কি না?
তাহাতে তিনি উত্তর দেন যে, শুধু কারাবাস করিলে জাতিনাশের ভয় নাই, তবে খুন ডাকাতি প্রভৃতি করিয়া কারাবাস করিলে জাতি যাইবার সম্ভাবনা আছে। কান্ত বাবুর এই সকল উক্তি হইতে বেশ বুঝা যায় যে, তিনি বাস্তবিকই নীচলোকদিগের বিচার করিতেন, কারণ শাস্ত্রজ্ঞান না থাকিলে কখন ব্রাহ্মণাদি জাতির বিচার করা সম্ভবপর হয় না। যাহা হউক, জাতিঘটিত বিচারালয়ের একটি প্রধান পদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, তাঁহার গৌরবের যে একটি নিদর্শন, ইহা আবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। হেষ্টিংসের যে কয়েকটি প্রিয়পাত্র ছিলেন, তন্মধ্যে কান্তবাবু শান্ত-প্রকৃতি ও অপেক্ষাকৃত ধর্মভীরু বলিয়া বোধ হয়।
যদিও অর্থের প্রলোভনে তাঁহার জীবনে পদে পদে তাঁহাকে সৎপথ হইতে বিচলিত হইতে দেখা যায়, তথাপি দেবী সিংহ ও গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের জায় তিনি অত্যাচারী বা পূর্ণমাত্রায় প্রবঞ্চক ছিলেন না। দেশের যাবতীয় লোকের সর্ব্বনাশ সংঘটন করিতে হইবে বলিয়া, তিনি কোম্পানীর দেওয়ানী লইতে স্বীকৃত হন নাই; তাঁহার অপারগতা তাহার প্রধান কারণ হইলেও উপরোক্ত কারণটি অন্যতম। পরে উক্ত দেওয়ানী সুবিখ্যাত গঙ্গাগোবিন্দের প্রতি অর্পিত হওয়ায়, তিনি বঙ্গদেশে আপনার নাম চিরস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন। অর্থলালসা প্রবল থাকায়, কান্তবাবুকে অনেকগুলি অসৎকম্ম করিতে হইয়াছিল; প্রবল অর্থলালসাবশে তিনি স্বীয় প্রভু হেষ্টিংসের মনস্তষ্টি-সম্পাদনার্থ প্রায়শঃ কর্তব্যাকর্তব্য বিবেচনা করিতেন না।
যদিও অর্থলালদার জন্য কান্তবাবু সাধুসমাজে নিন্দিত হইয়াছেন, তথাপি সে সময়ের কথা ভাবিতে গেলে, তাঁহাদিগের দোষের মাত্রা অতাধিক মনে না করাই যুক্তিসঙ্গত। যে সময়ে সাধারণ লোকসমাজে উৎকোচগ্রহণ, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা প্রভৃতি বিশেষ দোষ বলিয়া গণ্য হইত না; সে সময়ের লোকেরা ঐরূপ কোন অপরাধ করিলে তাঁহাদিগকে ক্ষমা করাই উচিত। তবে দোষ চিরকালই নিন্দনীয়। তৎসম্বন্ধে সময়াসময় বিবেচনা করা যাইতে পারে না; সত্যের অনুরোধে কান্ত বাবুর সম্বন্ধে আমাদিগকে দুই একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলিতে হইয়াছে। হেষ্টিংস কান্ত বাবুর কার্য্যে সন্তুষ্ট হইয়া, তাঁহাকে রাজোপাধি প্রদান করিতে প্রতিশ্রুত হন।