০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অপহরণ মামলা দ্বিগুণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরল আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ইনসাফের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জামায়াত: চরমোনাই পীর ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন, তবু নির্বাচন হবে সুষ্ঠু: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছাড়াবে পঞ্চান্ন শতাংশ, আশাবাদ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নারী নেতৃত্বে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শফিকুর রহমান ফরিদপুরে ডাকভোটে ভোট দেবেন ১৭ হাজার ৯৮৮ জন, তালিকায় কারাবন্দিরাও সাত ম্যাচে সাত জয়, বিশ্বকাপ বাছাই শেষ করল বাংলাদেশ নারী দল যাত্রাবাড়ীতে বাসাবাড়ির বাথরুমে মিলল কিশোর শিক্ষার্থীর মরদেহ নির্বাচন বানচাল হবে না, ভোটের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ মানুষ: মির্জা ফখরুল

ট্রাম্পের পরিকল্পনা: ওষুধের দাম হ্রাসে বড় উদ্যোগ

  • Sarakhon Report
  • ১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • 252

সারাক্ষণ রিপোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় এক বিস্তৃত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন, যার লক্ষ্য মেডিকেয়ার কর্মসূচির আওতাধীন কিছু ওষুধের দাম নাটকীয়ভাবে কমানো। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওষুধ প্রস্তুতকারকদের এমন দামে অর্থ প্রদান করবে, যা উন্নত দেশগুলোতে সেই একই ওষুধের দামের চেয়ে বেশি নয়—এটি ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মডেল নামে পরিচিত।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র পলিটিকোকে জানিয়েছে, ট্রাম্প আগামী সপ্তাহের শুরুতেই একটি নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সহকারীদের নির্দেশ দেবে। যদিও প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এর কিছু বিষয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো প্রস্তাবটিতে ব্যক্তিগতভাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি। তবে মঙ্গলবার তিনি এক “খুব বড় ঘোষণা”-র ইঙ্গিত দেন, যা ওই প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই একটি বিশাল ঘোষণা দিতে যাচ্ছি—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হবে, বহু বছরের মধ্যে অন্যতম।”

যদি ট্রাম্প এই আদেশটি দেন, তাহলে এটি ওষুধ শিল্প খাতে এক বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করবে। কারণ মার্কিন ওষুধ শিল্প বহু বছর ধরেই ওষুধের দাম কমানোর এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্রভাবে লড়ছে।

এর আগেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প এমন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রবল বিরোধিতার মুখে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে আবারো এটি চালু করতে চাইলেও আদালতের বাধায় থেমে যেতে হয়। আদালত জানায়, প্রশাসন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে প্রস্তাবটি বাতিল করে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট সোমবার একটি বড় ও ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন। ততদিন সবাই অনুমান করে যান!”

সূত্রমতে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ মূলত ওষুধের দাম কমানোর দিকেই কেন্দ্রীভূত। তিনি তাঁর সহকারীদের এমন নীতি খুঁজে বের করতে বলেছেন, যেটি বাস্তবেই ওষুধের দাম কমাতে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেছে।

প্রথমে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসনাল রিপাবলিকানদের প্রতি অনুরোধ জানায়, যাতে তাঁদের প্রস্তাবিত বড় বাজেট বিলের অংশ হিসেবে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ নীতিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে করে মেডিকেইড কর্মসূচির ওষুধের দাম উন্নত দেশগুলোর দামের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা যেত। কিন্তু রিপাবলিকান দলীয় বিরোধিতার মুখে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।

বর্তমানে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা হলো, বিদ্যমান প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেরাই এই ওষুধ মূল্য নির্ধারণ মডেল চালু করা।

তবে এই প্রচেষ্টা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে, ওষুধ শিল্প থেকে প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে। কারণ এই উদ্যোগ কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের সামর্থ্য হ্রাস করবে বলে মনে করছে তারা। এমনকি এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।

এই নতুন নির্বাহী আদেশটি আগের মতোই হবে বলে জানা গেছে, তবে এবার কোন কোন ওষুধ এতে অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে আরও কম নির্দিষ্টতা থাকবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অপহরণ মামলা দ্বিগুণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

ট্রাম্পের পরিকল্পনা: ওষুধের দাম হ্রাসে বড় উদ্যোগ

১২:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় এক বিস্তৃত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন, যার লক্ষ্য মেডিকেয়ার কর্মসূচির আওতাধীন কিছু ওষুধের দাম নাটকীয়ভাবে কমানো। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওষুধ প্রস্তুতকারকদের এমন দামে অর্থ প্রদান করবে, যা উন্নত দেশগুলোতে সেই একই ওষুধের দামের চেয়ে বেশি নয়—এটি ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মডেল নামে পরিচিত।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র পলিটিকোকে জানিয়েছে, ট্রাম্প আগামী সপ্তাহের শুরুতেই একটি নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সহকারীদের নির্দেশ দেবে। যদিও প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এর কিছু বিষয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো প্রস্তাবটিতে ব্যক্তিগতভাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি। তবে মঙ্গলবার তিনি এক “খুব বড় ঘোষণা”-র ইঙ্গিত দেন, যা ওই প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই একটি বিশাল ঘোষণা দিতে যাচ্ছি—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হবে, বহু বছরের মধ্যে অন্যতম।”

যদি ট্রাম্প এই আদেশটি দেন, তাহলে এটি ওষুধ শিল্প খাতে এক বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করবে। কারণ মার্কিন ওষুধ শিল্প বহু বছর ধরেই ওষুধের দাম কমানোর এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্রভাবে লড়ছে।

এর আগেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প এমন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রবল বিরোধিতার মুখে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে আবারো এটি চালু করতে চাইলেও আদালতের বাধায় থেমে যেতে হয়। আদালত জানায়, প্রশাসন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে প্রস্তাবটি বাতিল করে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট সোমবার একটি বড় ও ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন। ততদিন সবাই অনুমান করে যান!”

সূত্রমতে, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ মূলত ওষুধের দাম কমানোর দিকেই কেন্দ্রীভূত। তিনি তাঁর সহকারীদের এমন নীতি খুঁজে বের করতে বলেছেন, যেটি বাস্তবেই ওষুধের দাম কমাতে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেছে।

প্রথমে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসনাল রিপাবলিকানদের প্রতি অনুরোধ জানায়, যাতে তাঁদের প্রস্তাবিত বড় বাজেট বিলের অংশ হিসেবে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ নীতিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে করে মেডিকেইড কর্মসূচির ওষুধের দাম উন্নত দেশগুলোর দামের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা যেত। কিন্তু রিপাবলিকান দলীয় বিরোধিতার মুখে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।

বর্তমানে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা হলো, বিদ্যমান প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেরাই এই ওষুধ মূল্য নির্ধারণ মডেল চালু করা।

তবে এই প্রচেষ্টা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে, ওষুধ শিল্প থেকে প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে। কারণ এই উদ্যোগ কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের সামর্থ্য হ্রাস করবে বলে মনে করছে তারা। এমনকি এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।

এই নতুন নির্বাহী আদেশটি আগের মতোই হবে বলে জানা গেছে, তবে এবার কোন কোন ওষুধ এতে অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে আরও কম নির্দিষ্টতা থাকবে।