১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার শুধু বিজেপি-বিরোধিতা নয়, ভারতের বিরোধী জোটের ভিত্তি হতে হবে ফেডারেল গণতন্ত্র চীন এগিয়ে, ন্যাফথা সংকটে চাপে এশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সুন্দরবনে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা, আহত একাধিক সদস্য খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, রাতভর কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ইজারাদারকে টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’ আমির খান জুলাই ৫-এর বিয়ের কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন: ‘মনে মনে আগেই বিয়ে করেছিলাম’ ‘রাখ’ আমাজন প্রাইমে আসছে কাল: ১৯৭৮-এর কুখ্যাত রঙা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলী ফাজালের গ্রিপিং ক্রাইম থ্রিলার বলিউডের এ বছরের মেগাহিট ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এখন JioHotstar-এ, ১,৮৫২ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪
  • 183

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

সন্ধ্যা হইল, তথাপি হীরানন্দ বন হইতে প্রত্যাবৃত্ত হইলেন না। সহসা একটি আর্তনাদ ‘তাঁহার কর্ণকুহরে প্রবিষ্ট হইল; তিনি কিয়দ্দূর অগ্রসর হইয়া একটি ভগ্ন অট্টালিকা দেখিতে পাইলেন। তাহার একটি প্রকোষ্ঠে জনৈক বৃদ্ধ মৃত্যুযাতনায় অধীর হইয়া আর্তনাদ করিতেছিল। বৃদ্ধের তথাবিধ শোচনীয় অবস্থা দেখিয়া, হীরানন্দের হৃদয় বিগলিত হইল। তিনি যথাসাধ্য তাহার সেবা করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁহার চেষ্টায় কোন- রূপ ফলোদয় হইল না। অচিরকালমধ্যে বৃদ্ধ ইহজীবনের লীলা শেষ করিল। হাঁরানন্দের সেবায় তুষ্ট হইয়া একটি কোণে অঙ্গুলি সঙ্কেত করিয়া যায়। বৃদ্ধ মৃত্যুর কিছু পূর্ব্বে গৃহের হীরানন্দ সেই স্থান হইতে প্রচুর ধন লাভ করেন। এইরূপে তাঁহার ভাগ্যেদের ঘটে।

অল্প কালমধ্যে হীরানন্দ বিপুল সম্পত্তির অধীশ্বর হইয়া আপনার সাত পুত্রকে ভারতের সাত স্থানে গদীয়ানের কার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। তাঁহার কনিষ্ঠ পুত্র মাণিকচাঁদ হইতে মুর্শিদাবাদের জগৎশেঠদিগের উৎপত্তি। হংকালে ঢাকানগরী বাঙ্গলার রাজধানী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেই সময়ে মাণিকচার ঢাকার আগমনপূর্ব্বক আপনার গদী সংস্থাপন করেন। এই সময়ে মুর্শিদকুলী খা বাঙ্গলার দেওয়ান হইয়া ঢাকায় উপস্থিত হন। রাজস্বসম্বন্ধে মুর্শিদের হস্তে সমুদায় ভার অর্পিত হওয়ায়, অর্থের প্রয়োজনবশতঃ মাণিকচাদের সহিত তাঁহার বিলক্ষণ সৌহার্দ ঘটে।

তাহার পর নবাব আজিমওখানের ‘সহিত দুর্শিদের মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, দেওয়ান মুর্শিদকুলী ১১০৪ খৃঃ আব্দ ঢাকা পরিত্যাগ করিয়া, মুর্শিদাবাদে আপনার বাসস্থান নির্দেশ করিলে, রাজস্ববিভাগের যাবতীয় কর্মচারী ও শেঠ মানিকচাঁদও মুর্শিদাবাদে আসেন।’ মাণিকচাঁদ মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইয়া ভাগীরথীর পূর্ব্বতীরে মহিমাপুরনামক স্থানে আপনার বাসভবন নির্মাণ করেন।  অদ্যাপি তাঁহার বংশীয়েরা মহিমাপুরেই বাস করিতে- ছেন। মুর্শিদকুলী খাঁর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মাণিকচাঁদেরও শ্রীবৃদ্ধি হইতে থাকে। মাণিকচাঁদ মুর্শিদকুলীকে সমস্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করিতেন। এইরূপ কথিত আছে যে, মুর্শিদকুলী বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার নিজামতী পদ প্রাপ্ত হইলে, মুর্শিদাবাদে যে টাকশাল স্থাপন করিয়াছিলেন, তাহা মাণিকক্চাদের পরামর্শানুসারেই করেন।

মহিমা- পুরের শেঠদিগের বাসভবনের সম্মুখে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে আজিও সেই টাকশালের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হইয়া থাকে। কিন্তু তাহার সমস্তই এক্ষণে ভাগীরথীগর্ভস্থ। নবাবের অনুমতিতে বৎসরের প্রথমে তিপ্র বারই পুণ্যাহ হইত। এই সময়ে যাবতীয় জমীদার অথবা তাঁহাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হইয়া আপন আপন দের রাজস্ব প্রদান করিতেন।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৪)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৪)

জনপ্রিয় সংবাদ

নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫)

১১:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

সন্ধ্যা হইল, তথাপি হীরানন্দ বন হইতে প্রত্যাবৃত্ত হইলেন না। সহসা একটি আর্তনাদ ‘তাঁহার কর্ণকুহরে প্রবিষ্ট হইল; তিনি কিয়দ্দূর অগ্রসর হইয়া একটি ভগ্ন অট্টালিকা দেখিতে পাইলেন। তাহার একটি প্রকোষ্ঠে জনৈক বৃদ্ধ মৃত্যুযাতনায় অধীর হইয়া আর্তনাদ করিতেছিল। বৃদ্ধের তথাবিধ শোচনীয় অবস্থা দেখিয়া, হীরানন্দের হৃদয় বিগলিত হইল। তিনি যথাসাধ্য তাহার সেবা করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁহার চেষ্টায় কোন- রূপ ফলোদয় হইল না। অচিরকালমধ্যে বৃদ্ধ ইহজীবনের লীলা শেষ করিল। হাঁরানন্দের সেবায় তুষ্ট হইয়া একটি কোণে অঙ্গুলি সঙ্কেত করিয়া যায়। বৃদ্ধ মৃত্যুর কিছু পূর্ব্বে গৃহের হীরানন্দ সেই স্থান হইতে প্রচুর ধন লাভ করেন। এইরূপে তাঁহার ভাগ্যেদের ঘটে।

অল্প কালমধ্যে হীরানন্দ বিপুল সম্পত্তির অধীশ্বর হইয়া আপনার সাত পুত্রকে ভারতের সাত স্থানে গদীয়ানের কার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। তাঁহার কনিষ্ঠ পুত্র মাণিকচাঁদ হইতে মুর্শিদাবাদের জগৎশেঠদিগের উৎপত্তি। হংকালে ঢাকানগরী বাঙ্গলার রাজধানী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেই সময়ে মাণিকচার ঢাকার আগমনপূর্ব্বক আপনার গদী সংস্থাপন করেন। এই সময়ে মুর্শিদকুলী খা বাঙ্গলার দেওয়ান হইয়া ঢাকায় উপস্থিত হন। রাজস্বসম্বন্ধে মুর্শিদের হস্তে সমুদায় ভার অর্পিত হওয়ায়, অর্থের প্রয়োজনবশতঃ মাণিকচাদের সহিত তাঁহার বিলক্ষণ সৌহার্দ ঘটে।

তাহার পর নবাব আজিমওখানের ‘সহিত দুর্শিদের মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, দেওয়ান মুর্শিদকুলী ১১০৪ খৃঃ আব্দ ঢাকা পরিত্যাগ করিয়া, মুর্শিদাবাদে আপনার বাসস্থান নির্দেশ করিলে, রাজস্ববিভাগের যাবতীয় কর্মচারী ও শেঠ মানিকচাঁদও মুর্শিদাবাদে আসেন।’ মাণিকচাঁদ মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইয়া ভাগীরথীর পূর্ব্বতীরে মহিমাপুরনামক স্থানে আপনার বাসভবন নির্মাণ করেন।  অদ্যাপি তাঁহার বংশীয়েরা মহিমাপুরেই বাস করিতে- ছেন। মুর্শিদকুলী খাঁর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মাণিকচাঁদেরও শ্রীবৃদ্ধি হইতে থাকে। মাণিকচাঁদ মুর্শিদকুলীকে সমস্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করিতেন। এইরূপ কথিত আছে যে, মুর্শিদকুলী বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার নিজামতী পদ প্রাপ্ত হইলে, মুর্শিদাবাদে যে টাকশাল স্থাপন করিয়াছিলেন, তাহা মাণিকক্চাদের পরামর্শানুসারেই করেন।

মহিমা- পুরের শেঠদিগের বাসভবনের সম্মুখে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে আজিও সেই টাকশালের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হইয়া থাকে। কিন্তু তাহার সমস্তই এক্ষণে ভাগীরথীগর্ভস্থ। নবাবের অনুমতিতে বৎসরের প্রথমে তিপ্র বারই পুণ্যাহ হইত। এই সময়ে যাবতীয় জমীদার অথবা তাঁহাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হইয়া আপন আপন দের রাজস্ব প্রদান করিতেন।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৪)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৪)