০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
পিতাকে হারিয়ে বড় হওয়া কন্যা, আজ স্বপ্ন পূরণ: ভিন্ন জীবনের পথে ভিনি টান মিডিয়াকর্পের ২০২৬ বিশ্বকাপ সংগ্রহ: ‘জাতীয় সেবা’ নাকি ব্যবসায়িক কৌশল? আসিয়ান কি মায়ানমারের নির্বাচন স্বীকৃতি দেবে? বিভাজন, রাজনৈতিক দ্বিধা ও ভবিষ্যতের অচেনা পথ কৌশলগত এআই ব্যবহারেই ব্যবসা সফল করতে চান সিঙ্গাপুর সরকার: কীভাবে শুরু করবেন বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করল ‘নকল নোট’ ব্যবহারের বিষয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে প্রশ্নে অনিশ্চয়তায় বিএনপি মঙ্গলবার সিলেটে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জে ঝড়ের পর পতন, লেনদেন কমেছে জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসে ‘রোল মডেল’: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মূল্যায়ন

টিআইবির বিবৃতি ‘হতাশাজনক’ বেশিরভাগ প্রতিনিধি নিরাপত্তার জন্যে আনা হয়েছে : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর দেওয়া এক বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে জানায়, যাচাই-বাছাইহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের ভিত্তিতে বিবৃতি দেওয়া “গভীরভাবে হতাশাজনক”।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, “টিআইবির সাম্প্রতিক বিবৃতিটি দুঃখজনকভাবে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আগের হাসিনা আমলের তুলনায় আকারে অনেক ছোট, তবে কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি মনোযোগী, পরিশ্রমী ও ফলপ্রসূ।”

প্রেস সচিব জানান, টিআইবি বাংলাদেশের সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একটি সম্মানিত নাগরিক সংগঠন হলেও এ ধরনের ভুল তথ্যভিত্তিক অবস্থান হতাশার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিনিধি দলের কার্যক্রম ও বৈঠক

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) এ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের লক্ষ্য দেশের স্বার্থ ও জনগণের পক্ষের অবস্থান তুলে ধরা। গত পাঁচ দিনেই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কমপক্ষে এক ডজন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যার মধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অন্তর্ভুক্ত।

 

সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তব তথ্য

টিআইবি দাবি করেছে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। তবে প্রেস সচিব বলেন, প্রকৃত সংখ্যা মাত্র ৬২, যা গত বছরের ৫৭ জনের চেয়ে সামান্য বেশি। উল্লেখযোগ্য যে গত বছরের সংখ্যার সঙ্গে ছয়জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের উপস্থিতি ধরা হয়নি, যারা প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন।

এ বছর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি নিরাপত্তা সদস্য, যারা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিচ্ছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জন্য। প্রেস সচিব জানান, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা কর্মীদের অনেকে দিনে ১৬ ঘণ্টা টানা দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের গুরুত্ব

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিনিধি দলের আকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে এ বছরের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। “যখন বিভিন্ন পক্ষ পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জুলাইয়ের গণআন্দোলনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, তখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল কৌশলগত নয়, বরং অপরিহার্য।”

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জুলাইয়ের আন্দোলনকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লবিং করছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

প্রেস সচিব জানান, এ বছর প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য আসন্ন ৩০ সেপ্টেম্বরের রোহিঙ্গা সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এটি প্রমাণ করে যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখনো নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও জানান, কয়েকজন উপদেষ্টা আলাদাভাবে বিদেশ সফরে গেছেন বৈশ্বিক সমকক্ষদের সঙ্গে পারস্পরিক বিষয়ে আলোচনার জন্য, যদিও তাঁরা আনুষ্ঠানিক ইউএনজিএ প্রতিনিধি দলের অংশ নন।

রাজনৈতিক দল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি

প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও এ সফরে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাঁদের সহায়তায় কিছু কর্মকর্তা নিয়োজিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দেয়: বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পিতাকে হারিয়ে বড় হওয়া কন্যা, আজ স্বপ্ন পূরণ: ভিন্ন জীবনের পথে ভিনি টান

টিআইবির বিবৃতি ‘হতাশাজনক’ বেশিরভাগ প্রতিনিধি নিরাপত্তার জন্যে আনা হয়েছে : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

০৮:৪৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর দেওয়া এক বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে জানায়, যাচাই-বাছাইহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের ভিত্তিতে বিবৃতি দেওয়া “গভীরভাবে হতাশাজনক”।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, “টিআইবির সাম্প্রতিক বিবৃতিটি দুঃখজনকভাবে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আগের হাসিনা আমলের তুলনায় আকারে অনেক ছোট, তবে কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি মনোযোগী, পরিশ্রমী ও ফলপ্রসূ।”

প্রেস সচিব জানান, টিআইবি বাংলাদেশের সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একটি সম্মানিত নাগরিক সংগঠন হলেও এ ধরনের ভুল তথ্যভিত্তিক অবস্থান হতাশার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিনিধি দলের কার্যক্রম ও বৈঠক

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) এ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের লক্ষ্য দেশের স্বার্থ ও জনগণের পক্ষের অবস্থান তুলে ধরা। গত পাঁচ দিনেই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কমপক্ষে এক ডজন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যার মধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অন্তর্ভুক্ত।

 

সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তব তথ্য

টিআইবি দাবি করেছে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। তবে প্রেস সচিব বলেন, প্রকৃত সংখ্যা মাত্র ৬২, যা গত বছরের ৫৭ জনের চেয়ে সামান্য বেশি। উল্লেখযোগ্য যে গত বছরের সংখ্যার সঙ্গে ছয়জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের উপস্থিতি ধরা হয়নি, যারা প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন।

এ বছর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি নিরাপত্তা সদস্য, যারা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিচ্ছেন, বিশেষ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জন্য। প্রেস সচিব জানান, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা কর্মীদের অনেকে দিনে ১৬ ঘণ্টা টানা দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের গুরুত্ব

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিনিধি দলের আকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে এ বছরের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। “যখন বিভিন্ন পক্ষ পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জুলাইয়ের গণআন্দোলনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, তখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল কৌশলগত নয়, বরং অপরিহার্য।”

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জুলাইয়ের আন্দোলনকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লবিং করছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

প্রেস সচিব জানান, এ বছর প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য আসন্ন ৩০ সেপ্টেম্বরের রোহিঙ্গা সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এটি প্রমাণ করে যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখনো নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও জানান, কয়েকজন উপদেষ্টা আলাদাভাবে বিদেশ সফরে গেছেন বৈশ্বিক সমকক্ষদের সঙ্গে পারস্পরিক বিষয়ে আলোচনার জন্য, যদিও তাঁরা আনুষ্ঠানিক ইউএনজিএ প্রতিনিধি দলের অংশ নন।

রাজনৈতিক দল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি

প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও এ সফরে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাঁদের সহায়তায় কিছু কর্মকর্তা নিয়োজিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দেয়: বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে অঙ্গীকারবদ্ধ।”