০১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মহাকাশ অভিযানে নতুন উচ্ছ্বাস, কিন্তু টিকে থাকতে দরকার শক্ত ভিত ন্যাটো ভাঙনের পথে? ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে গভীর সংকট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ: বিজয়ের দাবি, কিন্তু বাস্তবে ক্ষতির হিসাবই বেশি এসআইআর কি বুমেরাং হলো বিজেপির প্রসঙ্গ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী ও আওয়ামী লীগ বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ফল্ট লাইন: ইউক্রেন থেকে আর্কটিক পর্যন্ত আফ্রিকায় অস্ত্র দিয়ে প্রভাব বিস্তার: সোভিয়েত পতনের পর রাশিয়ার শক্তি পুনর্গঠনের কাহিনি ডিপোতে তেলের ঘাটতি, দীর্ঘ হচ্ছে লাইনের ভোগান্তি—বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের চিত্র শিশুদের মধ্যে যক্ষ্মা শনাক্ত কমছে, বাড়ছে অদৃশ্য ঝুঁকি—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা কঙ্গো যুদ্ধের অন্ধকার ইতিহাস: অস্ত্র, জোট ও বিশ্বাসঘাতকতার জটিল রাজনীতি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)

তিনি আরো অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহিলাদের জন্য সাতটি দোপাট্টা পাঠাতে যার মধ্যে ৫টিতে হবে সোনা ও ২টিতে রূপোর সুতোর আঁচল

একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন হুলাচান্দকে উদ্দেশ্য করে। সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়েছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সন্দ্বীপ ও অন্যান্য সঙ্গতের শিষ্যকে। এ চিঠিতে একটি যুদ্ধ হাতি পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পূর্ববঙ্গে তখন বিভিন্ন ধরনের প্রাণী পাওয়া যেত। মুর্শিদকুলী খাঁ সম্রাটের দরবারে বস্ত্র, তলোয়ার, গণ্ডারের চামড়ার তৈরি ঢাল, হাতি ও এন্টিলোপ পাঠিয়েছিলেন। শিখ গ্রন্থে এই হাতিটিকে মেঘনা হাতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খুব সম্ভব মেঘনার চয় থেকে তা ধরা হয়েছিল। গুরু বখশ অবশ্য অনুমান করছেন চট্টগ্রামের রাজা মানিক রায় সঙ্গকের মাধ্যমে হাতিটি পাঠিয়েছিলেন।

গুরু আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভাই হুলাচান্দ, বখশীচান্দ, মেহের চান্দ, কাশীরাম, লালচান্দ, বাবু রায় বৃন্দাবন ও ঢাকা সঙ্গতের অন্যান্য লসকরের সঙ্গত, সন্দ্বীপ, সিলেট ও অন্যান্য সঙ্গতের লোকদের। প্রত্যেক শিখকে শুরুর জন্য কিছু দান করতে বলা হয়োছে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব জমা দিতে হবে ভাই হুল্যচান্দকে যিনি দিওয়ালির। আগে গুরুকে পৌঁছে দেবেন। গুরুর নিজের ব্যবহারের জন্য পোশাকের কথাও বলা হয়েছিল। উল্লেখ করেছিলেন শুরু ‘আমি ঢাকা সঙ্গতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’ তিনি আরো অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহিলাদের জন্য সাতটি দোপাট্টা পাঠাতে যার মধ্যে ৫টিতে হবে সোনা ও ২টিতে রূপোর সুতোর আঁচল। মাহুতদের জন্য আরো ৫০ টাকা দিতে বলা হয়েছিল।

পঞ্চম চিঠিটি গুরুর নয়। সেখানে ১০১ টাকার হুন্ডির দাবি করা হয়েছিল। চিঠিটি গুরুর হয়ে কেউ লিখেছিলেন ১৭৩৫ সালে। ভাই গুলালচান্দ ও বৃন্দাবনকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। সাবধান করা হয়েছিল তারা যেন মসনদ বা মসনদিদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন ও ভক্তি করা থেকে বিরত থাকেন। গুরু দর্শনে যারা যাবেন তারা যেন সশস্ত্র হয়ে যান। এ সময় ‘খালসা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। ১৭৩৫ সালের আগে খালসা শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি।

গুরু বখশ উল্লেখ করেছেন এসব চিঠি পাঠানো হয়েছিল হাজুর সঙ্গতকে এবং তিনি যখন তা দেখেছেন তখন তার জীর্ণ দশা। একজন পূজারি মাত্র ছিলেন। কিন্তু হাজুর সঙ্গতটি কোথায় তার উল্লেখ নেই। আমার অনুমান এটি শুজাতপুরের সঙ্গত। লসকর কি সঙ্গত অনুমান করছেন রায়ের বাজারের সঙ্গতটিকে।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০০)

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাকাশ অভিযানে নতুন উচ্ছ্বাস, কিন্তু টিকে থাকতে দরকার শক্ত ভিত

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)

০৭:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

তিনি আরো অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহিলাদের জন্য সাতটি দোপাট্টা পাঠাতে যার মধ্যে ৫টিতে হবে সোনা ও ২টিতে রূপোর সুতোর আঁচল

একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন হুলাচান্দকে উদ্দেশ্য করে। সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়েছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সন্দ্বীপ ও অন্যান্য সঙ্গতের শিষ্যকে। এ চিঠিতে একটি যুদ্ধ হাতি পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পূর্ববঙ্গে তখন বিভিন্ন ধরনের প্রাণী পাওয়া যেত। মুর্শিদকুলী খাঁ সম্রাটের দরবারে বস্ত্র, তলোয়ার, গণ্ডারের চামড়ার তৈরি ঢাল, হাতি ও এন্টিলোপ পাঠিয়েছিলেন। শিখ গ্রন্থে এই হাতিটিকে মেঘনা হাতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খুব সম্ভব মেঘনার চয় থেকে তা ধরা হয়েছিল। গুরু বখশ অবশ্য অনুমান করছেন চট্টগ্রামের রাজা মানিক রায় সঙ্গকের মাধ্যমে হাতিটি পাঠিয়েছিলেন।

গুরু আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভাই হুলাচান্দ, বখশীচান্দ, মেহের চান্দ, কাশীরাম, লালচান্দ, বাবু রায় বৃন্দাবন ও ঢাকা সঙ্গতের অন্যান্য লসকরের সঙ্গত, সন্দ্বীপ, সিলেট ও অন্যান্য সঙ্গতের লোকদের। প্রত্যেক শিখকে শুরুর জন্য কিছু দান করতে বলা হয়োছে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব জমা দিতে হবে ভাই হুল্যচান্দকে যিনি দিওয়ালির। আগে গুরুকে পৌঁছে দেবেন। গুরুর নিজের ব্যবহারের জন্য পোশাকের কথাও বলা হয়েছিল। উল্লেখ করেছিলেন শুরু ‘আমি ঢাকা সঙ্গতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’ তিনি আরো অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহিলাদের জন্য সাতটি দোপাট্টা পাঠাতে যার মধ্যে ৫টিতে হবে সোনা ও ২টিতে রূপোর সুতোর আঁচল। মাহুতদের জন্য আরো ৫০ টাকা দিতে বলা হয়েছিল।

পঞ্চম চিঠিটি গুরুর নয়। সেখানে ১০১ টাকার হুন্ডির দাবি করা হয়েছিল। চিঠিটি গুরুর হয়ে কেউ লিখেছিলেন ১৭৩৫ সালে। ভাই গুলালচান্দ ও বৃন্দাবনকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। সাবধান করা হয়েছিল তারা যেন মসনদ বা মসনদিদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন ও ভক্তি করা থেকে বিরত থাকেন। গুরু দর্শনে যারা যাবেন তারা যেন সশস্ত্র হয়ে যান। এ সময় ‘খালসা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। ১৭৩৫ সালের আগে খালসা শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি।

গুরু বখশ উল্লেখ করেছেন এসব চিঠি পাঠানো হয়েছিল হাজুর সঙ্গতকে এবং তিনি যখন তা দেখেছেন তখন তার জীর্ণ দশা। একজন পূজারি মাত্র ছিলেন। কিন্তু হাজুর সঙ্গতটি কোথায় তার উল্লেখ নেই। আমার অনুমান এটি শুজাতপুরের সঙ্গত। লসকর কি সঙ্গত অনুমান করছেন রায়ের বাজারের সঙ্গতটিকে।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০০)