০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
খেলাধুলায় বিপত্তি সৃষ্টি করা ওষুধ: ওস্টারাইন বনোবোর মধ্যে আরেকটি মানবসদৃশ বৈশিষ্ট্য: তারা ভান করতে পারে সমুদ্র কচ্ছপদের আহত দেহকে রক্ষা করা ‘একটি ঝাপসা প্রার্থনার মতো’ কল্পকাহিনী চেষ্টা করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামীকাল এখনও বাকি, আজও আছে আশা ইউরোপের সেই প্রান্ত যেখানে মৃত্যুও নথিভুক্ত হয় না যৌবনের আর্থিক জ্ঞানে প্রেমের নতুন মানদণ্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব: আমেরিকান অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: নতুন তথ্যপত্রে পালস সরানো, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় পরিকল্পনা সংশোধন চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মাইক্রোবাস থেকে সাড়ে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জব্দ, তিনজনকে আটক

সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে কালীপূজা— রাত্রির অন্তরে আলো, ভক্তি ও ঐতিহ্যের মিলন

ঢাকার শান্তিনগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে কালীপূজা মানেই এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। অমাবস্যার রাতজুড়ে ঢাকের তালে তালে মন্ত্র, প্রদীপের আলো ও ভক্তির আবেশে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। ধর্মীয় ভক্তি, লোকজ ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনের এই উৎসব ঢাকার নাগরিক জীবনে এনে দেয় আনন্দ ও আত্মার পরিশুদ্ধি।


প্রস্তুতির ছোঁয়ায় উৎসবের আগমনী সুর

কার্তিক মাসের অমাবস্যা ঘনিয়ে এলে সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি। কয়েকদিন আগ থেকেই মন্দির চত্বরে চলে আলোকসজ্জা, প্যান্ডাল নির্মাণ ও ফুলের সাজসজ্জা। পুরোহিত, সেবায়েত ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে তৈরি করেন মহাপূজার আয়োজন। প্রতিটি গলি, প্রতিটি বাড়ি আলোয় সজ্জিত হয় যেন দেবীর আগমনে পুরো পাড়া আনন্দে ভাসে।


পূজার রাত্রি— মন্ত্র, ধূপ ও ভক্তির আবেশ

অমাবস্যার রাত ঘনিয়ে এলে মন্দিরে শুরু হয় কালীপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, ঢাক-কাঁসার শব্দ, ধূপের গন্ধ আর প্রদীপের আলো মিলে তৈরি হয় এক রহস্যময় পরিবেশ। দেবী কালীকে নিবেদন করা হয় ফল, মিষ্টান্ন, পিঠা, ফুল ও প্রসাদ। আরতি চলাকালীন ভক্তদের কণ্ঠে একসাথে ধ্বনিত হয়— “জয় মা কালী!”

মধ্যরাতে হয় বিশেষ পূজা ও হোমযজ্ঞ, যেখানে ভক্তরা প্রার্থনা করেন জীবনের অন্ধকার জয় করে আলোর পথে ফিরে আসার জন্য। পূজার পর সবাই একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন, কেউ মিষ্টি মুখে হাসেন, কেউ আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন দেবীর দিকে।


ঐতিহ্য ও ভাবনায় পূজার গভীর অর্থ

সিদ্বেশ্বরী মন্দিরের কালীপূজা শুধু ধর্মীয় রীতির পালন নয়— এটি আত্মার শক্তি, ভয়ের পরাজয় ও নারীত্বের জয়গানের প্রতীক। মা কালী এখানে সময় ও শক্তির রূপে পূজিত হন। ভক্তদের বিশ্বাস— দেবীর আরাধনা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী করে তোলে, অন্ধকারের মাঝেও আলোর সন্ধান দেয়।


উৎসবে মিলনের আনন্দ

এই পূজাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় এক পারিবারিক পরিবেশ। আশেপাশের বাসিন্দারা নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি, পিঠা ও ফুল নিয়ে আসেন মন্দিরে। অনেকেই সারা রাত থাকেন— কেউ ভজন গেয়ে, কেউ আলো জ্বেলে। শিশুদের জন্য থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান। একদিকে ভক্তি, অন্যদিকে আনন্দ— এই দ্বৈত সুরে ভরে ওঠে পুরো রাত।


আলোকিত রাত, জেগে থাকা শহর

রাত যত গভীর হয়, তত বাড়ে আলোর খেলা। সিদ্বেশ্বরী মন্দির থেকে বেরিয়ে আসা প্রদীপের আলো ছড়িয়ে পড়ে শান্তিনগরের রাস্তায়, আশেপাশের বাড়িগুলোতেও জ্বলে ওঠে প্রদীপ। ফুলের গন্ধ, ঘণ্টার শব্দ, ধূপের ধোঁয়া মিলে তৈরি হয় এক অপার্থিব আবহ। ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত এই মন্দির যেন জেগে থাকে হাজারো প্রার্থনার আলোয়।


সিদ্বেশ্বরী মন্দিরের কালীপূজা কেবল এক ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখানে মানুষ আসে প্রার্থনা করতে, নিজেদের মধ্যে আলো জ্বালাতে, শক্তি ফিরে পেতে। প্রতিটি মন্ত্র, প্রতিটি প্রদীপ আর প্রতিটি “জয় মা কালী” ধ্বনি যেন মনে করিয়ে দেয়— অন্ধকারের পরেই আসে আলো, আর সেই আলোই জীবনের আসল জয়।


# সিদ্বেশ্বরী_মন্দির, কালীপূজা, ঢাকা, হিন্দু_উৎসব, সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলাধুলায় বিপত্তি সৃষ্টি করা ওষুধ: ওস্টারাইন

সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে কালীপূজা— রাত্রির অন্তরে আলো, ভক্তি ও ঐতিহ্যের মিলন

০১:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার শান্তিনগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে কালীপূজা মানেই এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। অমাবস্যার রাতজুড়ে ঢাকের তালে তালে মন্ত্র, প্রদীপের আলো ও ভক্তির আবেশে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। ধর্মীয় ভক্তি, লোকজ ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনের এই উৎসব ঢাকার নাগরিক জীবনে এনে দেয় আনন্দ ও আত্মার পরিশুদ্ধি।


প্রস্তুতির ছোঁয়ায় উৎসবের আগমনী সুর

কার্তিক মাসের অমাবস্যা ঘনিয়ে এলে সিদ্বেশ্বরী মন্দিরে শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি। কয়েকদিন আগ থেকেই মন্দির চত্বরে চলে আলোকসজ্জা, প্যান্ডাল নির্মাণ ও ফুলের সাজসজ্জা। পুরোহিত, সেবায়েত ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে তৈরি করেন মহাপূজার আয়োজন। প্রতিটি গলি, প্রতিটি বাড়ি আলোয় সজ্জিত হয় যেন দেবীর আগমনে পুরো পাড়া আনন্দে ভাসে।


পূজার রাত্রি— মন্ত্র, ধূপ ও ভক্তির আবেশ

অমাবস্যার রাত ঘনিয়ে এলে মন্দিরে শুরু হয় কালীপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, ঢাক-কাঁসার শব্দ, ধূপের গন্ধ আর প্রদীপের আলো মিলে তৈরি হয় এক রহস্যময় পরিবেশ। দেবী কালীকে নিবেদন করা হয় ফল, মিষ্টান্ন, পিঠা, ফুল ও প্রসাদ। আরতি চলাকালীন ভক্তদের কণ্ঠে একসাথে ধ্বনিত হয়— “জয় মা কালী!”

মধ্যরাতে হয় বিশেষ পূজা ও হোমযজ্ঞ, যেখানে ভক্তরা প্রার্থনা করেন জীবনের অন্ধকার জয় করে আলোর পথে ফিরে আসার জন্য। পূজার পর সবাই একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন, কেউ মিষ্টি মুখে হাসেন, কেউ আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন দেবীর দিকে।


ঐতিহ্য ও ভাবনায় পূজার গভীর অর্থ

সিদ্বেশ্বরী মন্দিরের কালীপূজা শুধু ধর্মীয় রীতির পালন নয়— এটি আত্মার শক্তি, ভয়ের পরাজয় ও নারীত্বের জয়গানের প্রতীক। মা কালী এখানে সময় ও শক্তির রূপে পূজিত হন। ভক্তদের বিশ্বাস— দেবীর আরাধনা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী করে তোলে, অন্ধকারের মাঝেও আলোর সন্ধান দেয়।


উৎসবে মিলনের আনন্দ

এই পূজাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় এক পারিবারিক পরিবেশ। আশেপাশের বাসিন্দারা নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি, পিঠা ও ফুল নিয়ে আসেন মন্দিরে। অনেকেই সারা রাত থাকেন— কেউ ভজন গেয়ে, কেউ আলো জ্বেলে। শিশুদের জন্য থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান। একদিকে ভক্তি, অন্যদিকে আনন্দ— এই দ্বৈত সুরে ভরে ওঠে পুরো রাত।


আলোকিত রাত, জেগে থাকা শহর

রাত যত গভীর হয়, তত বাড়ে আলোর খেলা। সিদ্বেশ্বরী মন্দির থেকে বেরিয়ে আসা প্রদীপের আলো ছড়িয়ে পড়ে শান্তিনগরের রাস্তায়, আশেপাশের বাড়িগুলোতেও জ্বলে ওঠে প্রদীপ। ফুলের গন্ধ, ঘণ্টার শব্দ, ধূপের ধোঁয়া মিলে তৈরি হয় এক অপার্থিব আবহ। ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত এই মন্দির যেন জেগে থাকে হাজারো প্রার্থনার আলোয়।


সিদ্বেশ্বরী মন্দিরের কালীপূজা কেবল এক ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখানে মানুষ আসে প্রার্থনা করতে, নিজেদের মধ্যে আলো জ্বালাতে, শক্তি ফিরে পেতে। প্রতিটি মন্ত্র, প্রতিটি প্রদীপ আর প্রতিটি “জয় মা কালী” ধ্বনি যেন মনে করিয়ে দেয়— অন্ধকারের পরেই আসে আলো, আর সেই আলোই জীবনের আসল জয়।


# সিদ্বেশ্বরী_মন্দির, কালীপূজা, ঢাকা, হিন্দু_উৎসব, সারাক্ষণ_রিপোর্ট