০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ইন্দোনেশিয়ায় মূল্যস্ফীতি ৩.৩৪ শতাংশে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা, চাহিদা কমে কারখানাগুলো সংকোচনে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল নাকি আইনের আড়ালে বিশেষ সুবিধা? ডানান্তারা বন্ডের বিতর্ক বিশ্বব্যবস্থার নতুন বাস্তবতা: ভূখণ্ড নয়, ক্ষমতার জালেই টিকে আছে মার্কিন আধিপত্য ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের আয়ের বিস্ফোরণ! হোয়াইট হাউসে ফিরেই নজিরবিহীন ব্যবসায়িক লাভ নিয়ে নতুন বিতর্ক ‘এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান, আমরাও শেষ দেখে নেবো’—আদালতে মাসুদ উদ্দিনের মন্তব্যের অভিযোগ সত্যের বিচারক কে? ভুয়া তথ্য দমনের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নতুন সংকট বিশ্বরাজনীতির বিশৃঙ্খলা আসলে দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ইরানের নতুন পারমাণবিক চুক্তির সামনে সবচেয়ে বড় বাধা পুরোনো অবিশ্বাস

১,০০০ বছর পুরনো পবিত্র কুরআনের দুর্লভ অনুলিপি

শারজাহ আন্তর্জাতিক বইমেলা (SIBF) ২০২৫-এ এক বিরল সুযোগ মিলছে ইসলামি শিল্প ইতিহাসের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত দেখার — পবিত্র কুরআনের একটি অনুলিপি, যা এক হাজার বছর আগে কিংবদন্তি ক্যালিগ্রাফার আবু আল-হাসান আলি ইবন হিলাল, যিনি ইবন আল-বাওয়াব নামে পরিচিত, লিখেছিলেন। এই অনুলিপিটি সাফির আর্দেহাল কিওস্ক থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা তেহরান থেকে এসেছে।

ঐতিহাসিক ক্যালিগ্রাফির অনন্য সৌন্দর্য
এই অনুলিপিটি এমন এক পবিত্র কুরআন মসান্নাত যা প্রায় ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে ইবন আল-বাওয়াব দ্বারা লেখা হয়েছিল। সাফির আর্দেহালের হামিদ দেশদাশ বলেন, “এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো পূর্ণাঙ্গ কুরআন মসান্নাতের একটি অনুলিপি, যা একজন পরিচিত ক্যালিগ্রাফার দ্বারা লেখা। মূল কপি এখন ডাবলিনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এই মসান্নাতের বিশেষত্ব হল যে, ইবন আল-বাওয়াব শুধুমাত্র একজন ক্যালিগ্রাফার ছিলেন না, তিনি আরবি লেখাকে একটি নিখুঁত সামঞ্জস্য এবং আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের শিল্পে পরিণত করেছিলেন।”

Rare replica of 1,000-year-old Quran calligraphy unveiled at Sharjah book  fair | Khaleej Times

ইবন আল-বাওয়াবের ক্যালিগ্রাফির বৈশিষ্ট্য
ইবন আল-বাওয়াব যেই নাসখ স্ক্রিপ্টে কুরআনটি লিখেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং সুনির্দিষ্ট। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৬টি সোজা এবং সুন্দরভাবে সজ্জিত লাইন থাকে, যার মধ্যে প্রতিটি অক্ষর সুন্দরভাবে তার নিজস্ব জায়গায় অবস্থান করে। হামিদ দেশদাশ বলেন, “এই কুরআনে আপনি দেখতে পাবেন কিভাবে প্রতিটি অক্ষর তার নিজস্ব জায়গায় নিঃশ্বাস নেয়। ইবন আল-বাওয়াব বিশ্বাস করতেন, সৌন্দর্য সামঞ্জস্যে নিহিত — প্রতিটি বাঁকা লাইন, প্রতিটি বিন্দু, সবই সুর এবং ছন্দের অনুসরণ করে।”

ইবন আল-বাওয়াবের ঐতিহাসিক অবদান
ইবন আল-বাওয়াবের ক্যালিগ্রাফি পূর্বের কুফি স্ক্রিপ্টের মতো কোণাকোণি এবং সোজা লাইন দিয়ে নয়, বরং এটি ছিল অত্যন্ত তরল এবং পাঠযোগ্য। দেশদাশ বলেন, “তার রেখাগুলি কবিতার মতো প্রবাহিত। আজকের আরবি ক্যালিগ্রাফি, ছাপানো এবং ডিজাইনে, তার তৈরি করা নিয়মগুলোই অনুসরণ করে।”

প্রাকৃতিক কালি এবং সঠিক ক্যালিগ্রাফি সরঞ্জাম
ইবন আল-বাওয়াব প্রাকৃতিক কালি ব্যবহার করেছিলেন, যা সুট এবং গাম আরবিক থেকে তৈরি হত এবং একটি বাঁশের কলম দিয়ে লিখতেন, যার কাটা কোণটি অত্যন্ত সঠিক ছিল, ফলে তিনি এক টানে সরু এবং মোটা রেখা আঁকতে সক্ষম হতেন। তিনি ভেলাম কাগজে লিখতেন, যা প্রাণী চামড়া থেকে তৈরি হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মসান্নাতটি সংরক্ষিত রাখতে সহায়তা করেছিল।


#শারজাহ_বইমেলা #ইসলামী_শিল্প #ক্যালিগ্রাফি #ইবন_আল-বাওয়াব #ঐতিহাসিক_অনুলিপি #আরবি_লেখা

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ইন্দোনেশিয়ায় মূল্যস্ফীতি ৩.৩৪ শতাংশে

১,০০০ বছর পুরনো পবিত্র কুরআনের দুর্লভ অনুলিপি

০৫:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

শারজাহ আন্তর্জাতিক বইমেলা (SIBF) ২০২৫-এ এক বিরল সুযোগ মিলছে ইসলামি শিল্প ইতিহাসের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত দেখার — পবিত্র কুরআনের একটি অনুলিপি, যা এক হাজার বছর আগে কিংবদন্তি ক্যালিগ্রাফার আবু আল-হাসান আলি ইবন হিলাল, যিনি ইবন আল-বাওয়াব নামে পরিচিত, লিখেছিলেন। এই অনুলিপিটি সাফির আর্দেহাল কিওস্ক থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা তেহরান থেকে এসেছে।

ঐতিহাসিক ক্যালিগ্রাফির অনন্য সৌন্দর্য
এই অনুলিপিটি এমন এক পবিত্র কুরআন মসান্নাত যা প্রায় ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে ইবন আল-বাওয়াব দ্বারা লেখা হয়েছিল। সাফির আর্দেহালের হামিদ দেশদাশ বলেন, “এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো পূর্ণাঙ্গ কুরআন মসান্নাতের একটি অনুলিপি, যা একজন পরিচিত ক্যালিগ্রাফার দ্বারা লেখা। মূল কপি এখন ডাবলিনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এই মসান্নাতের বিশেষত্ব হল যে, ইবন আল-বাওয়াব শুধুমাত্র একজন ক্যালিগ্রাফার ছিলেন না, তিনি আরবি লেখাকে একটি নিখুঁত সামঞ্জস্য এবং আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের শিল্পে পরিণত করেছিলেন।”

Rare replica of 1,000-year-old Quran calligraphy unveiled at Sharjah book  fair | Khaleej Times

ইবন আল-বাওয়াবের ক্যালিগ্রাফির বৈশিষ্ট্য
ইবন আল-বাওয়াব যেই নাসখ স্ক্রিপ্টে কুরআনটি লিখেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং সুনির্দিষ্ট। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৬টি সোজা এবং সুন্দরভাবে সজ্জিত লাইন থাকে, যার মধ্যে প্রতিটি অক্ষর সুন্দরভাবে তার নিজস্ব জায়গায় অবস্থান করে। হামিদ দেশদাশ বলেন, “এই কুরআনে আপনি দেখতে পাবেন কিভাবে প্রতিটি অক্ষর তার নিজস্ব জায়গায় নিঃশ্বাস নেয়। ইবন আল-বাওয়াব বিশ্বাস করতেন, সৌন্দর্য সামঞ্জস্যে নিহিত — প্রতিটি বাঁকা লাইন, প্রতিটি বিন্দু, সবই সুর এবং ছন্দের অনুসরণ করে।”

ইবন আল-বাওয়াবের ঐতিহাসিক অবদান
ইবন আল-বাওয়াবের ক্যালিগ্রাফি পূর্বের কুফি স্ক্রিপ্টের মতো কোণাকোণি এবং সোজা লাইন দিয়ে নয়, বরং এটি ছিল অত্যন্ত তরল এবং পাঠযোগ্য। দেশদাশ বলেন, “তার রেখাগুলি কবিতার মতো প্রবাহিত। আজকের আরবি ক্যালিগ্রাফি, ছাপানো এবং ডিজাইনে, তার তৈরি করা নিয়মগুলোই অনুসরণ করে।”

প্রাকৃতিক কালি এবং সঠিক ক্যালিগ্রাফি সরঞ্জাম
ইবন আল-বাওয়াব প্রাকৃতিক কালি ব্যবহার করেছিলেন, যা সুট এবং গাম আরবিক থেকে তৈরি হত এবং একটি বাঁশের কলম দিয়ে লিখতেন, যার কাটা কোণটি অত্যন্ত সঠিক ছিল, ফলে তিনি এক টানে সরু এবং মোটা রেখা আঁকতে সক্ষম হতেন। তিনি ভেলাম কাগজে লিখতেন, যা প্রাণী চামড়া থেকে তৈরি হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মসান্নাতটি সংরক্ষিত রাখতে সহায়তা করেছিল।


#শারজাহ_বইমেলা #ইসলামী_শিল্প #ক্যালিগ্রাফি #ইবন_আল-বাওয়াব #ঐতিহাসিক_অনুলিপি #আরবি_লেখা