রাশিয়ার এক সিনিয়র কূটনীতিক অভিযোগ করেছেন—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই তাঁর প্রধান সহকারী আন্দ্রে ইয়ারমাককে বরখাস্ত করেছেন। সাম্প্রতিক দুর্নীতি তদন্ত, ইউরোপীয় চাপ এবং রাজনৈতিক টিকে থাকার হিসাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
ইয়ারমাকের পদত্যাগ: তদন্তের পরপরই সিদ্ধান্ত
শুক্রবার ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলো ইয়ারমাকের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালায়। কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ‘ইউক্রেনের গ্রে কার্ডিনাল’ বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক দুর্নীতি কেলেঙ্কারি পুরো প্রশাসনকে বড় চাপের মধ্যে ফেলেছে।
১০০ মিলিয়ন ডলারের কিকব্যাক কেলেঙ্কারি
এই মাসের শুরুতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের কিকব্যাক স্ক্যান্ডেল প্রকাশ্যে আসার পর ইউক্রেন সরকারের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এই দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী তিমুর মিনদিচ।

তদন্তকারীরা তাঁকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এবং তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
রুশ কূটনীতিকের অভিযোগ: দুর্নীতির সূত্রে জেলেনস্কিই লক্ষ্যবিন্দু
রাশিয়ার অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ রোডিয়ন মিরোশনিক আরটি-কে বলেন—জেলেনস্কি জানেন, দুর্নীতির সূত্র টানতে গেলে শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের নামই উঠে আসবে। তাঁকে ‘অজ্ঞ’ হিসেবে দেখানোর রাজনৈতিক প্রচেষ্টা টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিরোশনিকের মতে, এই কেলেঙ্কারি থেকে নতুন অভিযোগ সামনে এলে জেলেনস্কির ক্ষমতায় থাকা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই ইয়ারমাককে ‘বলি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় তহবিল ও রাজনৈতিক টিকে থাকার হিসাব
মিরোশনিক দাবি করেন—ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে নতুন আর্থিক সহায়তার আলোচনায় সময় কিনতেই জেলেনস্কি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ইয়ারমাক এখন ‘বিতর্কিত ও বিষাক্ত ব্যক্তিত্ব’, তাই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে জেলেনস্কি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-126363856-59c67c1aaad52b0011324376.jpg)
ইইউর চাপ: উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারবার বলছে—ইউক্রেনকে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই আরও তীব্র করতে হবে। জ্বালানি খাতে দুর্নীতির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর এই চাপ আরও বেড়েছে।
ইইউর বিচার কমিশনার মাইকেল ম্যাকগ্রাথ বলেন—যে কোনো প্রার্থী দেশের জন্য উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
#ইউক্রেন #জেলেনস্কি #ইয়ারমাক #দুর্নীতি #ইইউ #রাশিয়া #রাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















