০৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তা চীনের দখলে মানবসদৃশ রোবটের ভবিষ্যৎ, পিছিয়ে পড়ছে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় নতুন বিতর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উত্তেজনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনায় শেয়ারবাজারে নতুন বুদ্‌বুদের আশঙ্কা কঙ্গোতে নতুন ইবোলা আতঙ্ক, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা তালপাতার পাণ্ডুলিপি: একটি জাতির বিস্মৃত জ্ঞানভাণ্ডারের পুনরাবিষ্কার নামের জন্য নয়, দিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট দরকার  ইবোলা মোকাবিলায় সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়, নতুন ওষুধে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা স্পেসএক্সের ১০ শতাংশ সম্ভাবনা থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিস্ময়, ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে তদন্ত, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

ভারত কি রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে? যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে জল্পনা, দিল্লির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের এক নির্বাহী নির্দেশে দাবি করা হয়েছে, ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রুশ তেল কেনা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দিল্লির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি, ফলে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে এই শর্তের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগামী দশ বছরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কাঠামোতেও সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, ভারত আবার রুশ তেল আমদানি শুরু করলে ওই শাস্তিমূলক শুল্ক পুনর্বহাল হতে পারে।

US Lifts 25% Tariff on Indian Goods After India Pledges to Halt Russian Oil  Imports

যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার উল্লেখ নেই

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার নাম সরাসরি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য কেনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, বিমান, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারত। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বহু শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, যদিও যেসব কৃষিপণ্যে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ সেগুলো সুরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

রুশ তেল নিয়ে কূটনৈতিক অবস্থান

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায় থেকে আগেই বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করা হচ্ছে—এই নীতিই অনুসরণ করা হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে কবে

Press Release:Press Information Bureau

২০২৫ সালের আগস্ট থেকে পারস্পরিক শুল্ক ও রুশ তেল-সম্পর্কিত শাস্তিমূলক শুল্ক মিলিয়ে মোট হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। রুশ তেল-সংক্রান্ত অংশ প্রত্যাহারের পর এখন কার্যত ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। অন্তর্বর্তী সমঝোতা সফলভাবে সম্পন্ন হলে মোট শুল্ক ১৮ শতাংশে নামবে বলে জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের সমালোচনা

ভারতের প্রধান বিরোধী শিবিরের দাবি, এখনো পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হয়নি; কেবল একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক এবং এতে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।

সরকারের ইতিবাচক বার্তা

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং বহু ভারতীয় পণ্যে শুল্ক শূন্যে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তা

ভারত কি রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে? যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে জল্পনা, দিল্লির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা

১১:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের এক নির্বাহী নির্দেশে দাবি করা হয়েছে, ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রুশ তেল কেনা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দিল্লির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি, ফলে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে এই শর্তের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগামী দশ বছরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কাঠামোতেও সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, ভারত আবার রুশ তেল আমদানি শুরু করলে ওই শাস্তিমূলক শুল্ক পুনর্বহাল হতে পারে।

US Lifts 25% Tariff on Indian Goods After India Pledges to Halt Russian Oil  Imports

যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার উল্লেখ নেই

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার নাম সরাসরি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য কেনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, বিমান, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারত। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বহু শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, যদিও যেসব কৃষিপণ্যে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ সেগুলো সুরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

রুশ তেল নিয়ে কূটনৈতিক অবস্থান

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায় থেকে আগেই বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করা হচ্ছে—এই নীতিই অনুসরণ করা হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে কবে

Press Release:Press Information Bureau

২০২৫ সালের আগস্ট থেকে পারস্পরিক শুল্ক ও রুশ তেল-সম্পর্কিত শাস্তিমূলক শুল্ক মিলিয়ে মোট হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। রুশ তেল-সংক্রান্ত অংশ প্রত্যাহারের পর এখন কার্যত ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। অন্তর্বর্তী সমঝোতা সফলভাবে সম্পন্ন হলে মোট শুল্ক ১৮ শতাংশে নামবে বলে জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের সমালোচনা

ভারতের প্রধান বিরোধী শিবিরের দাবি, এখনো পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হয়নি; কেবল একটি কাঠামোগত সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক এবং এতে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।

সরকারের ইতিবাচক বার্তা

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং বহু ভারতীয় পণ্যে শুল্ক শূন্যে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।