শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে স্পষ্ট ভিন্নতা উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সোচ্চারের এক জরিপে। এতে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের বড় অংশ জামায়াত ও বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কম শিক্ষিত ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি।
রাজধানীতে ফলাফল প্রকাশ
শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ, ভয়েজ ফর রিফর্মের সম্পাদক এবং বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর উপস্থিত ছিলেন।
ড. শিব্বির আহমেদ জানান, প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি এলাকা— ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের অবস্থান
স্নাতক ও তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ৪০ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৩০ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এছাড়া ১৪ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। ১০ শতাংশ ভোট দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রায় তিন শতাংশ ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষিতদের চিত্র
এসএসসি ও সমমান পাস ভোটারদের মধ্যে ৪১ শতাংশ জামায়াত এবং ৩৩ শতাংশ বিএনপির প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে। একই সঙ্গে ১৪ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন, ১০ শতাংশ ভোটে অনাগ্রহী এবং প্রায় দুই শতাংশ ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
নিম্নশিক্ষিত ভোটারদের প্রবণতা
নিম্নমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ভোটারদের ক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াত— উভয় দলের প্রতি সমান আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতি দলের জন্য ৩৬ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া ১১ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন, ১২ শতাংশ ভোট দিতে অনাগ্রহী এবং দুই থেকে তিন শতাংশ ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন ভোটারদের মত
যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাদের মধ্যেও দুই দলের প্রতি আগ্রহ বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ শতাংশ জামায়াত এবং প্রায় ৪৫ শতাংশ বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
গবেষকদের মতে, শিক্ষার স্তর বাড়ার সঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতা ও পছন্দের ধরণেও পরিবর্তন আসে। তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের একটি অংশ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জরিপের ফল রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলোকে নতুন পরিকল্পনা নিতে হতে পারে।
জরিপের পরিসর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার ভোটারের অংশগ্রহণে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষাগত স্তরের মানুষের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















