বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াবিদরা যখন বড় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নেন, তখন অনুশীলনের সময় নির্বাচনও হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দিনের কোন সময় শরীরচর্চা করা হচ্ছে তা পারফরম্যান্স ও স্বাস্থ্যের ওপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিকেলের শেষ ভাগে অনেকের শারীরিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সন্ধ্যায় পারফরম্যান্স কেন বাড়ে
অলিম্পিকের একাধিক আসরের পদকজয়ী সাঁতারুদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকেলের দিকে তাদের সময় সবচেয়ে দ্রুত ছিল। একইভাবে শখের সাইক্লিস্ট কিংবা ভার উত্তোলনকারীদের ক্ষেত্রেও বিকেল চারটা থেকে রাত আটটার মধ্যে পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ শরীরের স্বাভাবিক জৈব ঘড়ি দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শক্তি ও সহনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

শরীরের জৈব ঘড়ি ও ব্যায়ামের সম্পর্ক
মানবদেহের সার্কাডিয়ান ছন্দ ঘুম, ক্ষুধা ও হরমোনের মতো নানা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের একটি কেন্দ্র আলো থেকে সংকেত নিয়ে পুরো শরীরকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। তবে খাবার গ্রহণ বা নিয়মিত ব্যায়ামের মতো অভ্যাসও পেশির জৈব ঘড়ি কে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত অনুশীলন করলে শরীর সেই সময়েই সেরা পারফরম্যান্স দিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
সকাল বনাম সন্ধ্যা: স্বাস্থ্যগত পার্থক্য
গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, সকালে ব্যায়াম করলে চর্বি পোড়ানোর হার বাড়তে পারে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে—বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে একই অনুশীলন সন্ধ্যায় করলে পেশিশক্তি বাড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও সন্ধ্যার ব্যায়াম রক্তচাপ হ্রাস ও শরীরের চর্বি ভাঙতে সহায়ক হতে পারে।

ব্যক্তিভেদে সময়ের ভিন্নতা
সব মানুষের জৈব ঘড়ি একরকম নয়। কেউ ভোরে বেশি সক্রিয়, কেউ আবার রাতে। তাই সবার জন্য একক সেরা সময় নির্ধারণ করা কঠিন। তবু নিয়মিত একই সময়ে ব্যায়াম করলে শরীর ধীরে ধীরে সেই সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে।
নিয়মিত অভ্যাস ই মূল চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের যে সময় ই বেছে নেওয়া হোক না কেন, নিয়মিত ব্যায়ামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে প্রতিযোগিতার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে অনুশীলন করা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য মূল বার্তা একটাই—যে সময়ে সম্ভব, সেই সময়েই শরীরচর্চা শুরু করা উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















