০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দিনাজপুরে ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ১ কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে দৈনন্দিন সংগ্রামে নেই নির্বাচনী উত্তাপ হিলি স্থলবন্দর মহাসড়ক উন্নয়ন আবারও বিলম্বিত, ব্যয় বেড়ে ৫৮৮ কোটি টাকা ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার এখনো ঠিক করেননি কাকে সমর্থন করবেন কেরালা সবসময়ই ঘরের মতো মনে হয়েছে: ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পেপিতা শেঠ এখন ভারতের নাগরিক ভয়ের ভূখণ্ডে জীবন: অন্ধ্রপ্রদেশে মানুষ–বাঘ সংঘাতের গল্প তেলেঙ্গানার কৃষিক্ষেতে শিকড় গেড়েছে ভিনরাজ্যের শ্রমিকের হাত কূটনীতিকের দড়ির ওপর হাঁটা নতুন প্লেটোনিক বন্ধুত্বে বদলে যাচ্ছে একাকী নারীদের জীবন চীনের কড়া অফশোর কর নজরদারি, বিপাকে রপ্তানিকারকেরা

আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের

শতাব্দী আগে যাদের পূর্বপুরুষদের পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আফ্রিকার সম্পর্ক কখনও পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। সময়ের প্রবাহে এই সম্পর্ক কখনও ম্লান হয়েছে, আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ডিএনএ পরীক্ষার অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক পুনঃসংযোগের আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত উদ্যোগ মিলিয়ে এখন আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সক্রিয়ভাবে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে ও নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

ঐতিহাসিক বন্ধনের পুনর্জাগরণ

মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের হাত ধরে উনিশ শতকে লাইবেরিয়ার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর ঘানায় কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের আগমন—এই দীর্ঘ ইতিহাস আফ্রিকা ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতাদের সফর, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় এই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। বর্তমান সময়ে সেই ঐতিহাসিক সংযোগ নতুন রূপে ফিরে আসছে নাগরিকত্ব প্রদান ও প্রবাসীদের পুনর্বাসন উদ্যোগের মাধ্যমে।

Why countries like Ghana, Benin and Guinea are courting African American  stars

তারকাদের নাগরিকত্ব ও প্রতীকী প্রত্যাবর্তন

সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। অনেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের পূর্বপুরুষের শিকড় খুঁজে পেয়েছেন এবং সেটিকে “বাড়ি ফেরার” অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই নাগরিকত্ব গ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, বরং আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিচয়ের সঙ্গে আবেগী পুনঃসংযোগের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

পর্যটন, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক শক্তি

আফ্রিকার দেশগুলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে বহুমাত্রিক লাভের সম্ভাবনা দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের উপস্থিতি পর্যটন বাড়াতে পারে, প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। ঐতিহাসিক দাসবাণিজ্যের স্মৃতিবাহী উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনীতির নতুন খাত তৈরি করতে পারে।

Stevie Wonder's Ghanaian citizenship reflects long-standing links between African  Americans and the continent

সমালোচনা ও বিতর্ক

তবে এই নাগরিকত্ব নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, সাধারণ নাগরিকদের জন্য জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া থাকলেও তারকারা সহজেই পাসপোর্ট পাচ্ছেন। এতে সমতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন উঠছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তারকাদের আগ্রহ সাময়িক হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব প্রভাব সীমিতও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এটি কেবল প্রচারণামূলক উদ্যোগ নয়।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের পরীক্ষা

আফ্রিকার দেশগুলোর এই উদ্যোগের প্রকৃত ফল মিলতে সময় লাগবে। পর্যটন, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও প্রবাসী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে একে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, প্রতীকী আহ্বানের যুগ পেরিয়ে এখন বাস্তব পদক্ষেপের সময়, আর প্রবাসী আফ্রিকানদের স্বাগত জানানো সেই পথেরই অংশ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, নিহত ১

আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের

০১:১৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শতাব্দী আগে যাদের পূর্বপুরুষদের পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আফ্রিকার সম্পর্ক কখনও পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। সময়ের প্রবাহে এই সম্পর্ক কখনও ম্লান হয়েছে, আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ডিএনএ পরীক্ষার অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক পুনঃসংযোগের আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত উদ্যোগ মিলিয়ে এখন আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সক্রিয়ভাবে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে ও নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

ঐতিহাসিক বন্ধনের পুনর্জাগরণ

মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের হাত ধরে উনিশ শতকে লাইবেরিয়ার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর ঘানায় কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের আগমন—এই দীর্ঘ ইতিহাস আফ্রিকা ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতাদের সফর, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় এই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। বর্তমান সময়ে সেই ঐতিহাসিক সংযোগ নতুন রূপে ফিরে আসছে নাগরিকত্ব প্রদান ও প্রবাসীদের পুনর্বাসন উদ্যোগের মাধ্যমে।

Why countries like Ghana, Benin and Guinea are courting African American  stars

তারকাদের নাগরিকত্ব ও প্রতীকী প্রত্যাবর্তন

সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। অনেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের পূর্বপুরুষের শিকড় খুঁজে পেয়েছেন এবং সেটিকে “বাড়ি ফেরার” অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই নাগরিকত্ব গ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, বরং আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিচয়ের সঙ্গে আবেগী পুনঃসংযোগের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

পর্যটন, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক শক্তি

আফ্রিকার দেশগুলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে বহুমাত্রিক লাভের সম্ভাবনা দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের উপস্থিতি পর্যটন বাড়াতে পারে, প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। ঐতিহাসিক দাসবাণিজ্যের স্মৃতিবাহী উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনীতির নতুন খাত তৈরি করতে পারে।

Stevie Wonder's Ghanaian citizenship reflects long-standing links between African  Americans and the continent

সমালোচনা ও বিতর্ক

তবে এই নাগরিকত্ব নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, সাধারণ নাগরিকদের জন্য জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া থাকলেও তারকারা সহজেই পাসপোর্ট পাচ্ছেন। এতে সমতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন উঠছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, তারকাদের আগ্রহ সাময়িক হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব প্রভাব সীমিতও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এটি কেবল প্রচারণামূলক উদ্যোগ নয়।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের পরীক্ষা

আফ্রিকার দেশগুলোর এই উদ্যোগের প্রকৃত ফল মিলতে সময় লাগবে। পর্যটন, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও প্রবাসী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে একে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, প্রতীকী আহ্বানের যুগ পেরিয়ে এখন বাস্তব পদক্ষেপের সময়, আর প্রবাসী আফ্রিকানদের স্বাগত জানানো সেই পথেরই অংশ।