ঢাকা থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার উদ্দেশ্যে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি আবারও বিলম্বের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার এবং বাস্তবায়নের সময়সীমাও আগের নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় তিন বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর হিলি স্থলবন্দর–দুগডুগি–ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পের প্রথম সংশোধনের অনুমোদন চেয়েছে। এতে ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮৭ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

কৌশলগত করিডোরে চাপ
এই মহাসড়কটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিকে গোবিন্দগঞ্জ–ঘোড়াঘাট–বিরামপুর–
দিনাজপুরের হিলি উপজেলায় বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তসংলগ্ন এই স্থলবন্দর পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের সঙ্গে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, পাথর, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য এ বন্দর দিয়ে আদান-প্রদান হয়, যা রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা, সরু পেভমেন্ট ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই পথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

সংশোধনের কারণ
সরকারি নথি অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ, শক্ত পেভমেন্ট নির্মাণ এবং ৫৭টি আরসিসি কালভার্ট পুনর্নির্মাণ বা প্রশস্ত করার অতিরিক্ত খরচের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। নতুন নকশা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ শেষ করতে বাড়তি সময়ও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ, বাজার এলাকায় শক্ত পেভমেন্ট নির্মাণ, একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, আরসিসি ইউ-ড্রেন স্থাপন, ক্রস-ড্রেন সংস্কার, সড়ক চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন সেবা লাইন স্থানান্তরের মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কাজ বাস্তব পরিস্থিতিতে পূর্বানুমানের তুলনায় বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাজারদর বৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প সংশোধন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা ও হিলির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, বিলম্বিত সুফল
রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার আটটি উপজেলাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষিনির্ভর ও সীমান্ত বাণিজ্যনির্ভর এই অঞ্চলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থানীয় বাজারকে সক্রিয় করবে, যানবাহনের পরিচালন ব্যয় কমাবে এবং পণ্য পরিবহন দ্রুততর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটির জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অগ্রাহ্য করার মতো নয় যে বন্দর
জায়গার সীমাবদ্ধতা, ভারী যানবাহনের চাপ ও মৌসুমি যানজট থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় হিলি স্থলবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। গত কয়েক বছরে বন্দর এলাকায় শুল্কসুবিধা, গুদাম ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার বিনিয়োগ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মহাসড়ক উন্নয়ন সম্পন্ন হলে হিলি স্থলবন্দরের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। এতে বাণিজ্য বাড়বে, যানজট কমবে এবং ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















