সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্পজগতে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ অভিনেতা আহমেদ আল জাসমিকে সম্প্রতি দুবাইয়ে সম্মাননা জানানো হয়েছে। এই সম্মাননা প্রদান করেন সমাজসেবামূলক সাপ্তাহিক মজলিস আয়োজনের জন্য পরিচিত ওমর মোহাম্মদ জুবায়ের আল মারজুকি। তার এই আয়োজন নিয়মিতভাবে ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্রিত করে অর্জনকে উদযাপন ও সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার কাজ করে যাচ্ছে।
শিল্পীজীবনের দীর্ঘ পথচলা
আহমেদ আল জাসমি উনিশ শত পঁচাত্তর সালে তার শিল্পী জীবন শুরু করেন এবং দ্রুতই সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বৃহত্তর আরব বিশ্বের নাটক, টেলিভিশন, বেতার ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি হয়ে ওঠেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি লেখক, নির্দেশক ও প্রযোজক হিসেবে ও সমানভাবে সাফল্য অর্জন করেছেন। মঞ্চ ও পর্দায় কাজের পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গঠনে নেতৃত্ব মূলক ভূমিকা ও রেখেছেন তিনি।

প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব
দীর্ঘ কর্মজীবনে আহমেদ আল জাসমি নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আবুধাবি টেলিভিশন নাটক ও প্রযোজনার সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি উপসাগরীয় নাট্যোৎসবের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। আরব ও উপসাগরীয় বিভিন্ন নাট্য সংগঠনের নির্বাহী দায়িত্ব ও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি শারজাহ ন্যাশনাল থিয়েটারের চেয়ারম্যান এবং আমিরাত থিয়েটার শিল্পী সমিতির সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন।
সমাজ ও ক্রীড়ায় মজলিসের ভূমিকা
ওমর আল জুবায়ের এর সাপ্তাহিক মজলিস শুধু সম্মাননা প্রদানের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সমাজে সংযোগ, সংলাপ ও তরুণদের অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এই মজলিসে অতীতে দেশটির সাবেক ফুটবল তারকা, ক্রীড়া পরিষদের সদস্য, কোচ এবং উদীয়মান প্রতিভাদের ও সম্মান জানানো হয়েছে। ফলে ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনে ওমর আল জুবায়েরের অর্জন
দুবাই পুলিশের একজন মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওমর আল জুবায়ের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও বিশেষ স্বীকৃত। তিনি প্রথম আমিরাতি, আরব ও এশীয় রেফারি হিসেবে হ্যান্ডবল বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডন ও রিও অলিম্পিক সহ বহু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা গুলোর একটি মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম ক্রীড়া সৃজনশীলতা পুরস্কার এবং শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ক্রীড়া উৎকর্ষ পুরস্কার লাভ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















