সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শাসক ড. শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি আল ধাইদ সাহিত্য পরিষদের উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও শক্তিশালী হলো এবং সাহিত্যভিত্তিক সচেতন, ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের বার্তা স্পষ্ট ভাবে উঠে এলো।
সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন সংযোজন
আল ধাইদ সাহিত্য পরিষদ শারজাহর দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক দর্শনের প্রতিফলন। টেকসই উন্নয়নের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই এই পরিষদ গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আল ধাইদ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি সক্রিয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নতুন মর্যাদা অর্জন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ সুলতান স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মকর্তা ও কবিদের শুভেচ্ছা জানান এবং পরিষদ প্রতিষ্ঠাকে সবার জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইতিহাস সংরক্ষণে কবিতা ও কবিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, অতীতে যুদ্ধ, দেশ ও মানুষের জীবনের নানা ঘটনা কবিতার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়ে এসেছে।

কবিতা, ইতিহাস ও আরব ঐতিহ্যের সংযোগ
শৈশব থেকেই কবিতার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শারজাহ শাসক জানান, এই আগ্রহই তাকে কবিতা অধ্যয়ন ও রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। জাতীয় বিভিন্ন উপলক্ষে কবিতাকে প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি কবিদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আরব ইতিহাসে প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ ও প্রাসাদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি পাঁচ শতাধিক বছরের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার বর্ণনা দেন। কবিতা যে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার দলিল এবং অঞ্চল, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন বোঝার মাধ্যম—সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, কবিতার মধ্যেই জাতির স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষিত থাকে, তাই আরব ঐতিহ্য রক্ষায় কবিতার ভূমিকা অপরিসীম।
স্থাপত্য, পরিসর ও আধুনিক সুবিধা

এক হাজার ছেষট্টি বর্গমিটার আয়তনের এই সাহিত্য পরিষদের নকশায় ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটেছে। খোলা পরিসর, স্থানীয় উপকরণের ব্যবহার এবং সমন্বিত নকশা ভবনটিকে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জীবন্ত প্রতীক করে তুলেছে।
পরিষদে রয়েছে নাট্যগৃহ, বৃহৎ মজলিস, উন্মুক্ত বসার স্থান, প্রশাসনিক ও সেবামূলক সুবিধা এবং যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা। কবিতা পাঠ, সাহিত্যিক আলোচনা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
নতুন প্রজন্ম ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা
এই পরিষদ স্থানীয় সাহিত্যিক পরিচয় সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রতিভা আবিষ্কার ও বিকাশে সহায়ক হবে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের সংযোগ তৈরি করে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা শক্তিশালী করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
![]()
একই সঙ্গে এটি সামাজিক মিলনস্থল হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে একত্র করবে, জাতীয় পরিচয়ের গর্ব জাগ্রত করবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াবে। পর্যটক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং আল ধাইদকে সাংস্কৃতিক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠায়ও এই পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনের পর শেখ সুলতান পরিষদের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং গ্রন্থাগারের বই, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রকাশনার সংগ্রহ সম্পর্কে অবহিত হন। এই গ্রন্থাগার কবি, সদস্য ও দর্শনার্থীদের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















