দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ক্রিপ্টো লেনদেন প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত ভুলে মুহূর্তের মধ্যেই শত শত গ্রাহক কাগজে-কলমে কোটিপতি হয়ে যান। সামান্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ভুলবশত বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন পাঠিয়ে দেওয়ায় আর্থিক খাতে নতুন করে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূচনা কীভাবে
প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের জন্য প্রায় দুই হাজার ওন সমমূল্যের একটি ছোট নগদ পুরস্কার নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে দুই হাজার বিটকয়েন করে জমা পড়ে। ফলে অল্প সময়ের জন্য বহু গ্রাহক বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে যান।
দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধার
ত্রুটি ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত লেনদেন ও উত্তোলন সীমিত করে দেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ টোকেন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রভাবিত গ্রাহকের সংখ্যা কয়েকশ হলেও মোট পাঠানো বিপুল বিটকয়েনের প্রায় পুরো অংশ ই ফেরত আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে বলেছে, এটি কোনো হ্যাকিং বা নিরাপত্তা ভাঙনের ঘটনা নয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি
ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক তদারকি কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক ডেকে বিষয়টি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। কোনো বেআইনি কার্যকলাপের ইঙ্গিত মিললে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লেনদেন ফি মওকুফের ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে যাচাইব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা ও জানানো হয়েছে। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আর্থিক প্রযুক্তি খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এর আগে একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক ভুলবশত গ্রাহকের হিসাবে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার ঘটনার নজির রয়েছে, যা পরে দ্রুত সংশোধন করা হয়েছিল। ফলে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মানবিক ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















