সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন অ্যাবির ঐতিহাসিক গ্রন্থাগার শুধু বিপুল পাণ্ডুলিপির জন্যই নয়, বরং তার প্রাচীনত্বের জন্যও বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা পেয়েছে। সপ্তম শতকের শুরুতে আইরিশ ধর্মপ্রচারক সেন্ট গ্যাল এখানে একটি নির্জন সাধনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরে প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যাবি। যদিও ১৭৬৭ সালে পুরোনো গ্রন্থাগারের জায়গায় নির্মিত হয় বর্তমান বারোক শৈলীর হল, তবুও শতাব্দী জুড়ে জ্ঞান সংগ্রহের ধারাবাহিকতা আজও বিস্ময় জাগায়।
প্রাচীন পাণ্ডুলিপির অসাধারণ ভাণ্ডার
বর্তমানে এই গ্রন্থাগার ও এর ভূগর্ভস্থ দুটি বিশাল সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান লিখিত ঐতিহ্য। এখানে রয়েছে প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার পাণ্ডুলিপি ও প্রাচীন মুদ্রিত গ্রন্থ, যার মধ্যে দুই হাজারের বেশি মধ্যযুগীয় কোডেক্স এবং প্রায় চার শতাধিক পাণ্ডুলিপি রচিত হয়েছে এক হাজার সালের ও আগে। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে সংরক্ষিত আইরিশ পাণ্ডুলিপির বৃহত্তম সমাহার ও এখানে, যা মধ্যযুগে রোমগামী আইরিশ তীর্থযাত্রীরা উপহার হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রাচীন উচ্চ জার্মান ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন সমূহ এই সংগ্রহকে গবেষণার জন্য অমূল্য করে তুলেছে। প্রতিটি গ্রন্থ যেন নিজস্ব গল্প বহন করে, আর সম্মিলিতভাবে তারা প্রকাশ করে লিখিত জ্ঞানের আধ্যাত্মিক শক্তি।

ইতিহাসের ঝড় পেরিয়ে টিকে থাকা
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বহু অধ্যায় অতিক্রম করেও গ্রন্থাগারটির টিকে থাকা বিস্ময়কর। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডে অসংখ্য মঠ ধ্বংসের সময় বহু গ্রন্থাগারের সংগ্রহ লুট বা ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি বিপ্লব ও পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সময় ও গির্জার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তবুও দূরদর্শী গ্রন্থাগারিকদের প্রচেষ্টায় সেন্ট গ্যালেনের সংগ্রহ অক্ষত থাকে। এমনকি ১৭৯৭ থেকে ১৮০৫ সালের মধ্যে অ্যাবি বিলুপ্ত হলেও নবগঠিত ক্যান্টনের ক্যাথলিক সম্প্রদায় গ্রন্থসম্ভার কে সুরক্ষিত ভাবে সংরক্ষণ করে।
জ্ঞানের ধারাবাহিকতার প্রতীক
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গ্রন্থাগার সন্ন্যাসী শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ভাষার প্রারম্ভিক নিদর্শন এবং ধর্মীয় ইতিহাসের সমন্বয়ে এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মানব সভ্যতার স্মৃতি ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















