যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর যে দামে দ্রুত উত্থান ঘটেছিল, সাম্প্রতিক পতনে তার প্রায় সবটুকুই হারিয়েছে বিটকয়েন। বাজারে তারল্য কমে যাওয়া, প্রযুক্তি খাতের উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ এবং সুদের হার কমানোর পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে নতুন করে দোলাচল তৈরি হয়েছে।
দামের পতন ও বিনিয়োগকারীর দুশ্চিন্তা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিটকয়েন সহ বিভিন্ন ডিজিটাল সম্পদের দরপতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে লেনদেনের গভীরতা কমে যাওয়ায় অল্প কেনাবেচাতেই বড় দামের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা নিকট ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকতে পারে।

ফেড নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব এবং ব্যালেন্স শিট সংকোচনের আশঙ্কা জানুয়ারির শেষে স্বর্ণ ও ক্রিপ্টো—দুই বাজারেই বিক্রির চাপ বাড়ায়। কয়েক দিনের মধ্যে বড় পতনের পর আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। বৃহস্পতিবার বিটকয়েনের দাম নেমে যায় প্রায় ৬১ হাজার ডলারের নিচে, যা ট্রাম্প নির্বাচনের আগের সময়ের কাছাকাছি সর্বনিম্ন স্তর।
বছরজুড়ে অস্থিরতার ইঙ্গিত
গত বছরের শেষভাগ ছিল অত্যন্ত অস্থির। চীনা আমদানিতে নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বড় আকারের ক্রিপ্টো লিকুইডেশন বাজারের তারল্য শুকিয়ে দেয়, যার পূর্ণ পুনরুদ্ধার এখনো হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অতিরিক্ত লিভারেজের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পর বাজার নতুন ভারসাম্য খুঁজছে।

সবচেয়ে খারাপ সময় কি পেরিয়ে গেছে
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বাজার তলানির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বড় বিনিয়োগকারীদের বিক্রি কমে আসা এবং দামের পতনকে অনেকের কাছে কেনার সুযোগ হিসেবে দেখা—এই দুই ইঙ্গিত আশাবাদ তৈরি করছে। তবুও স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকার সম্ভাবনা ই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারল্য সংকটের গভীরতা
লেনদেনের সক্ষমতা মাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বাজারে কাছাকাছি দামে কেনা বেচার পরিমাণ কমে গেছে এবং ছোট অর্ডারেও বড় দামের পরিবর্তন ঘটছে। গবেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক তারল্য হ্রাস সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।
প্রধান ধারার অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ
বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি হলে বিটকয়েনের সঙ্গে শেয়ারবাজারের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যয় নিয়ে শঙ্কা থেকে শেয়ার বাজারে বিক্রির ঢেউ তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ছে ক্রিপ্টোতেও। যদিও পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি খাতে আংশিক পুনরুদ্ধারের সঙ্গে বিটকয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
ট্রাম্প নীতির বাস্তবতা
ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো–বান্ধব অবস্থান গত বছর বিটকয়েনকে রেকর্ড উচ্চতায় তুলেছিল। জাতীয় পর্যায়ে বিটকয়েন মজুদ গঠনের প্রতিশ্রুতি ও বাজারে আশাবাদ বাড়ায়। তবে বাস্তবে সরকার জব্দ করা সম্পদ দিয়ে সীমিত রিজার্ভ তৈরির বাইরে বড় পরিসরে কেনাকাটা শুরু না হওয়ায় প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ফলে নীতিগত সমর্থন থাকলেও দামের সাম্প্রতিক পতন ঠেকানো যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















