দক্ষিণ কোরিয়ার ঝলমলে কে-পপ জগত বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে স্বপ্নের প্রতীক। খ্যাতি, সাফল্য ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির আশায় প্রতি বছর বহু বিদেশি শিক্ষার্থী সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে ছুটে যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই লুকিয়ে আছে অনিয়ন্ত্রিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, ভাঙা প্রতিশ্রুতি এবং গুরুতর হয়রানির অভিযোগ—যা সামনে এনেছে কয়েকজন কিশোরী প্রশিক্ষণার্থীর অভিজ্ঞতা।
স্বপ্ন নিয়ে কোরিয়ায়, বাস্তবে হতাশা
পরিচয় গোপন রাখতে নাম পরিবর্তিত এক কিশোরী ২০২৪ সালে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে সিউলের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। প্রতিশ্রুতি ছিল নিয়মিত নাচ ও গানের ক্লাস এবং বড় প্রতিষ্ঠানে অডিশনের সুযোগ। কিন্তু তার দাবি, নিয়মিত ক্লাস হয়নি, অডিশনের কথাও বাস্তবে ঘটেনি। উল্টো একজন জ্যেষ্ঠ কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

একই প্রতিষ্ঠানে থাকা আরও দুজন বিদেশি প্রশিক্ষণার্থী ও অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একজন সরাসরি হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, অন্যজন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের সবার বক্তব্য, অডিশনের সুযোগের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি পাল্টা বলছে, অডিশনের সুযোগ ছিল এবং বহু বিদেশি শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
অনিয়ন্ত্রিত প্রশিক্ষণ খাতের বাস্তবতা
কে-পপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর কিছু শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান বিনোদন সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত। ফলে সেগুলোর কার্যক্রমে তদারকি সীমিত এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় পড়ে না। এই শূন্যতাই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারকা খ্যাতির কঠিন পথ

বর্তমানে কে-পপ শিল্প অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। অল্প কয়েকটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই নতুন শিল্পী নির্বাচন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে, তবু সবার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব হয় না। বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভাষা, ভিসা ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা বাধা আরও বাড়িয়ে দেয়।
হয়রানির অভিযোগ ও আইনি লড়াই
এক প্রশিক্ষণার্থী পুলিশের কাছে যৌন হয়রানি ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ করলেও প্রমাণের অভাবে মামলা খারিজ হয়ে যায়। তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে আলাদা মামলা ও করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং নিয়ম ভঙ্গের সুযোগ নেই।

স্বপ্ন এখনো অটুট
সব প্রতিকূলতার পরও ওই কিশোরী জানিয়েছেন, তিনি এখনো কে-পপ শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি। কঠিন সময়ে গানই তাকে শক্তি দিয়েছে, আর সেই স্বপ্ন ই তাকে সামনে এগোতে সাহস জোগায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















