০৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
ঢাবিকে নিয়ে কটূক্তি: এবি পার্টির নেতা ফুয়াদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ মূল্যস্ফীতির দীর্ঘ ছায়া- সংকটে সাধারণ মানুষ, ধুঁকছে অর্থনীতি নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল উইম্বলডনের আকাশের অঘোষিত প্রহরী ‘রুফাস’: এআই ও ড্রোন কি কেড়ে নেবে তার ১৮ বছরের দায়িত্ব? টেলর সুইফট–ট্রাভিস কেলসির বিয়ে: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জমকালো আয়োজনে পরিণতি দীর্ঘ জল্পনার বিশ্ববাজারে নতুন মোড়: তেল, প্রযুক্তি, তামা ও ইয়েনের সংকেত কী বলছে? চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা সপ্তাহজুড়ে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য, তেহরানে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের লড়াইয়ে মুখ্য নারী জুলি ইনম্যান গ্রান্ট

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে জুলি ইনম্যান গ্রান্ট এমন এক দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাকে প্রতিনিয়ত সংঘাত, হুমকি এবং বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভুয়া তথ্য, অনলাইন ট্রলিং, সেন্সরশিপ এবং শিশুদের সুরক্ষা—সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে রাখার ঐতিহাসিক উদ্যোগে।

অনলাইন হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাস্তবতা

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়মিত ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। সহকর্মীদের মতে, এসব আক্রমণের বড় অংশই ব্যক্তিগতভাবে তার দিকে ছোড়া হয়। তবু তিনি মনে করেন, অনলাইন জগতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Australia prepares to kick kids off social media despite doubts - Nikkei  Asia

কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

অস্ট্রেলিয়ায় ষোল বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর হয়েছে। বহু অভিভাবক এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকার কর্মীদের একাংশ বলছেন, নিষেধাজ্ঞার বদলে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অঞ্চল, প্রতিবন্ধী কিশোর কিংবা ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের তরুণদের জন্য বৈষম্য তৈরি করতে পারে, কারণ তারা প্রায়ই অনলাইনেই নিজেদের কমিউনিটি খুঁজে পায়।

শিশু সুরক্ষায় সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ

জুলি ইনম্যান গ্রান্টের যুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে পারলে শিশুদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সহনশীলতা এবং নিরাপদ ব্যবহার শেখানো সম্ভব হবে। তিনি অনলাইন ঝুঁকিকে সমুদ্রের স্রোত বা হাঙরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, শিশুদের পুরোপুরি দূরে না রেখে নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার শেখানোর মতো প্রস্তুতি দরকার।

How Australia's Social Media Ban for Children Will Work - The New York Times

প্রযুক্তি খাত থেকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা গ্রান্ট দীর্ঘদিন প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করার পর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করলেও তিনি অনুভব করেন, যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাইরে থেকে পরিবর্তন আনার পথ বেছে নেন এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।

আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনি লড়াই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে তাকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ, আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং প্রযুক্তি কোম্পানির বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা ও এসেছে তার বিরুদ্ধে। তবু তিনি বলছেন, এই নীতির বাস্তবায়নই তার মূল দায়িত্ব, মতপ্রকাশ সীমিত করা নয়।

Julie Inman Grant: The woman tasked with kicking Australian kids off social  media

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

তিনি সতর্ক করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব দেরি করেছে, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সেই ভুল করা যাবে না। ভবিষ্যতে এটিই আরও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দায়িত্বের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে

প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালনের পর তার মেয়াদ শেষের দিকে। তিনি মনে করেন, এই কাজের জন্য অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দরকার। তবু প্রযুক্তি বিশ্বকে নিরাপদ করার লক্ষ্য থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন না—ভবিষ্যতে অন্য দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ও কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবিকে নিয়ে কটূক্তি: এবি পার্টির নেতা ফুয়াদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের লড়াইয়ে মুখ্য নারী জুলি ইনম্যান গ্রান্ট

১২:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে জুলি ইনম্যান গ্রান্ট এমন এক দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাকে প্রতিনিয়ত সংঘাত, হুমকি এবং বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভুয়া তথ্য, অনলাইন ট্রলিং, সেন্সরশিপ এবং শিশুদের সুরক্ষা—সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে রাখার ঐতিহাসিক উদ্যোগে।

অনলাইন হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাস্তবতা

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়মিত ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। সহকর্মীদের মতে, এসব আক্রমণের বড় অংশই ব্যক্তিগতভাবে তার দিকে ছোড়া হয়। তবু তিনি মনে করেন, অনলাইন জগতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Australia prepares to kick kids off social media despite doubts - Nikkei  Asia

কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

অস্ট্রেলিয়ায় ষোল বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর হয়েছে। বহু অভিভাবক এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকার কর্মীদের একাংশ বলছেন, নিষেধাজ্ঞার বদলে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অঞ্চল, প্রতিবন্ধী কিশোর কিংবা ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের তরুণদের জন্য বৈষম্য তৈরি করতে পারে, কারণ তারা প্রায়ই অনলাইনেই নিজেদের কমিউনিটি খুঁজে পায়।

শিশু সুরক্ষায় সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ

জুলি ইনম্যান গ্রান্টের যুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে পারলে শিশুদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সহনশীলতা এবং নিরাপদ ব্যবহার শেখানো সম্ভব হবে। তিনি অনলাইন ঝুঁকিকে সমুদ্রের স্রোত বা হাঙরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, শিশুদের পুরোপুরি দূরে না রেখে নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার শেখানোর মতো প্রস্তুতি দরকার।

How Australia's Social Media Ban for Children Will Work - The New York Times

প্রযুক্তি খাত থেকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা গ্রান্ট দীর্ঘদিন প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করার পর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করলেও তিনি অনুভব করেন, যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাইরে থেকে পরিবর্তন আনার পথ বেছে নেন এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।

আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনি লড়াই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে তাকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ, আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং প্রযুক্তি কোম্পানির বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা ও এসেছে তার বিরুদ্ধে। তবু তিনি বলছেন, এই নীতির বাস্তবায়নই তার মূল দায়িত্ব, মতপ্রকাশ সীমিত করা নয়।

Julie Inman Grant: The woman tasked with kicking Australian kids off social  media

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

তিনি সতর্ক করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব দেরি করেছে, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সেই ভুল করা যাবে না। ভবিষ্যতে এটিই আরও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দায়িত্বের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে

প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালনের পর তার মেয়াদ শেষের দিকে। তিনি মনে করেন, এই কাজের জন্য অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দরকার। তবু প্রযুক্তি বিশ্বকে নিরাপদ করার লক্ষ্য থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন না—ভবিষ্যতে অন্য দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ও কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।