ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একসময়ের প্রশংসিত সিদ্ধান্ত এখন তাঁর নেতৃত্বের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কৌশলী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তই স্টারমারের জন্য রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইমেইল ফাঁস ও পুরোনো সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে নতুন চাপ
সাম্প্রতিক নথি ও ইমেইল প্রকাশের পর ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সরকারি আলোচনা ফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে লেবার পার্টির ভেতরেই স্টারমারের বিচক্ষণতা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি নেই, তবুও দলের একাধিক সংসদ সদস্য মনে করছেন এই কেলেঙ্কারি তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করেছে।

দলের ভেতরে আস্থার ভাঙন
লেবারের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য আলোচনার বিষয়। অনেকের মতে, গত কয়েক মাসের নীতিগত ঘুরপাক ও অনুদান বিতর্কের পর ম্যান্ডেলসন ইস্যু এমন এক ধাক্কা দিয়েছে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষকদের একাংশও ধারণা দিচ্ছেন, চলতি বছরের মধ্যেই স্টারমারের ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রশংসা থেকে বিতর্কে ম্যান্ডেলসনের যাত্রা
দুই দশকের বেশি সময় আগে লেবার সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী থাকা ম্যান্ডেলসনকে অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছিল সরকার। এমনকি শুল্ক কমানোর একটি চুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার প্রশংসা হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সাম্প্রতিক অভিযোগ এই সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে।

পদচ্যুতি, তদন্ত ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারণের পর এখন ম্যান্ডেলসন দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশ তদন্তের মুখে। স্টারমার দাবি করেছেন, ম্যান্ডেলসন তাঁর এপস্টিন সম্পর্ক নিয়ে সত্য গোপন করেছিলেন এবং তিনি নিজেও জনরোষের অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছেন। তবে এই ব্যাখ্যা দলীয় ক্ষোভ কমাতে পারেনি।
নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরও নীতিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ স্টারমারের অবস্থান নড়বড়ে করে দিয়েছে। দলীয় অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচন পর্যন্ত তিনি টিকে থাকতে পারেন, কিন্তু এরপর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়েছে, যা সংকটকে আরও গভীর করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















