যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনমুখী সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ঘিরে নিজেকে প্রধান বার্তাবাহক হিসেবে তুলে ধরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি অর্থনৈতিক ভাষণের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি প্রায় বিশবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি খুব কমই স্বীকার করেছেন। বাস্তবে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এখনও ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হয়ে রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমার দাবি ও বাস্তবতার ফারাক
ডিসেম্বরের পর দেওয়া পাঁচটি ভাষণে ট্রাম্প বহুবার বলেছেন মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং দাম কমছে। কিন্তু সরকারি তথ্য ও মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা সেই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। গত এক বছরে গরুর মাংস ও কফির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি হার কিছুটা কমলেও বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি।

ভোটারদের অসন্তোষ ও কৌশলগত উদ্বেগ
রিপাবলিকান কৌশলবিদদের একাংশ মনে করছেন, অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বার্তায় অসংগতির কারণে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হতে পারে। জনমত জরিপেও অর্থনীতি পরিচালনায় তার প্রতি সন্তুষ্টি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
ভাষণে প্রসঙ্গচ্যুতি ও বিতর্ক
অর্থনীতি নিয়ে কথা বলার মাঝেই ট্রাম্প বারবার অন্য ইস্যুতে চলে গেছেন—বিশেষ করে অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনায়। কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে তার মূল অর্থনৈতিক বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাচ্ছে না।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা কতটা কঠিন
মূল্যস্ফীতি হার কিছুটা কমলেও খাদ্যদ্রব্যের দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী, আয় বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক ধীর এবং বেকারত্ব সামান্য বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমা মানেই দাম কমা নয়—বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমা। ফলে সাধারণ মানুষের চাপ পুরোপুরি কমেনি।
সমাধানের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্প করছাড়, অতিরিক্ত আয়ের ওপর কর বাতিল, আবাসন ব্যয় কমানো এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের মতো নানা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন করছাড় স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিতে পারে, তবে নির্বাচনের আগেই জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন। কিছু প্রস্তাব উল্টো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

নির্বাচনী বছরে পুরোনো ফাঁদের পুনরাবৃত্তি
সাবেক নীতিনির্ধারকদের মতে, উচ্চমূল্যের বাস্তবতা অস্বীকার করলে রাজনৈতিক ক্ষতি হতে পারে—যেমনটি আগের প্রশাসনের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। ভোটারদের অর্থনৈতিক কষ্ট স্বীকার করা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দেখানোই নির্বাচনী সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















