উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে স্কুলে ঢুকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা, শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অপহরণ—এই দৃশ্য এখন আর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে উৎকণ্ঠায় ছিলেন এক ব্যবসায়ী বাবা। অবশেষে মুক্তি পেয়েছে শতাধিক শিশু, তবে এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ। এই বাস্তবতা নাইজেরিয়ার গভীর নিরাপত্তা সংকটকে আবার সামনে এনে দিয়েছে।
স্কুল ও উপাসনালয়ে হামলা বাড়ছে
নাইজেরিয়ায় অপহরণ নতুন কিছু নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর মাত্রা ও বিস্তার বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্কুল ও গির্জায় ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। একটি স্কুলে অপহৃতের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যা একসময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা চিবোক কন্যা শিশু অপহরণ কে ছাড়িয়ে যায়। এসব হামলায় শুধু প্রাণহানি নয়, সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও মার্কিন হুঁশিয়ারি
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এর জেরে নাইজেরিয়াকে বিশেষ নজরদারির দেশের তালিকায় রাখার আলোচনা শুরু হয়, যা নিষেধাজ্ঞা ও সহায়তা কমার ঝুঁকি তৈরি করে। এতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়।
সরকারের পদক্ষেপ ও বাস্তব চিত্র
চাপ সামাল দিতে টিনুবু সরকার একের পর এক নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ, সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের দাবি করা হচ্ছে। সরকার বলছে, হাজার হাজার সশস্ত্র সদস্য নিহত বা গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতা কমলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। বিপুল ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেছে।

ধর্ম নয়, অপরাধই মূল চালিকা শক্তি
জনপ্রিয় দাবির বিপরীতে, অধিকাংশ অপহরণ ধর্মীয় কারণে নয়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় দস্যু গোষ্ঠীগুলো গ্রাম লুট, গবাদিপশু চুরি ও মুক্তিপণের জন্য মানুষ অপহরণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তির পেছনে সরকারি উদ্ধার নয়, বরং অর্থ লেনদেন কাজ করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে সরকার মুক্তিপণে আরও আগ্রহী হতে পারে—এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে।
সমাধানের পথ কতটা কঠিন
সংকট মোকাবিলায় পুলিশ নিয়োগ বাড়ানো ও রাজ্যভিত্তিক পুলিশ ব্যবস্থার কথা বলছেন টিনুবু। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী একা এই বিশাল দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জাল ভাঙা জরুরি, যেখানে বিদেশি সহায়তার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















