০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় হামলা, প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সালে পানামায় অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

হামলা ও আটকের পটভূমি
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক পরিসরে হামলা চালানো হয় এবং বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে আটক করে। পরে তাঁকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন নৌযানে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাম্প জানান, অভিযানটি কয়েক দিন আগেই পরিকল্পিত ছিল, তবে আবহাওয়ার কারণে তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

কারাকাসে বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক
শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ধোঁয়া ও আলো দেখা যায় এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকারি সূত্র জানায়, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়ারা প্রদেশেও হামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধের ডাক
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন পক্ষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার ডাক দেন। হামলায় বেসামরিক ও সামরিক হতাহতের কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটির ক্ষমতা কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ কোথায় আছেন, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনীর সমর্থনই এতদিন মাদুরোকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিল, আর এখন সেই সমীকরণ ভেঙে পড়তে পারে।

মার্কিন বিচার ও অভিযোগ
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই অভিযান শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া, কিউবা ও ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া বিভক্ত—কেউ সমর্থন জানিয়েছে, কেউ আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত হস্তক্ষেপের স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।

তেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের প্রধান স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক আছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন সরকার এলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় হামলা, প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশ

০৯:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সালে পানামায় অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

হামলা ও আটকের পটভূমি
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক পরিসরে হামলা চালানো হয় এবং বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে আটক করে। পরে তাঁকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন নৌযানে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাম্প জানান, অভিযানটি কয়েক দিন আগেই পরিকল্পিত ছিল, তবে আবহাওয়ার কারণে তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

কারাকাসে বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক
শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ধোঁয়া ও আলো দেখা যায় এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকারি সূত্র জানায়, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়ারা প্রদেশেও হামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধের ডাক
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন পক্ষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার ডাক দেন। হামলায় বেসামরিক ও সামরিক হতাহতের কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটির ক্ষমতা কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ কোথায় আছেন, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনীর সমর্থনই এতদিন মাদুরোকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিল, আর এখন সেই সমীকরণ ভেঙে পড়তে পারে।

মার্কিন বিচার ও অভিযোগ
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই অভিযান শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া, কিউবা ও ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া বিভক্ত—কেউ সমর্থন জানিয়েছে, কেউ আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত হস্তক্ষেপের স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।

তেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের প্রধান স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক আছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন সরকার এলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।