ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
রাশিয়া ও লাতিন আমেরিকার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুক্তিগুলো ভিত্তিহীন এবং এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের পথ খোলা জরুরি। রাশিয়া ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবিকে সমর্থন করেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে বোমা হামলা ও প্রেসিডেন্টকে আটক করা একটি অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য বিপজ্জনক নজির। উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
মেক্সিকো ও স্পেনের অবস্থান
মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটি সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। স্পেনও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা এই অভিযানে জড়িত নয় এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন এবং সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মানির কয়েকজন রাজনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে মাদুরো শাসনের অবসানকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সমর্থক কণ্ঠ
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে মাদুরোকে আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিক্রিয়া
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জাতিসংঘের অনুমোদন বা সরাসরি সশস্ত্র হামলার জবাব ছাড়া কোনো দেশের ওপর বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ নয়। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে সে ধরনের কোনো শর্ত পূরণ হয়নি বলে তারা মনে করেন।
এই বহুমাত্রিক প্রতিক্রিয়াগুলো দেখাচ্ছে যে ভেনেজুয়েলা সংকট শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















