০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

এনসিপির আরেক নারী নেত্রীর পদত্যাগ, মধ্যপন্থা ছেড়ে ডানপন্থায় যাওয়ার অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধ্যপন্থী রাজনীতি থেকে সরে এসে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে ডানপন্থী রাজনীতির পথে হাঁটছে—এমন অভিযোগ তুলে দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আরেক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নিলিমা ডোলা শনিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দলটির ভেতরে আর নতুন ধরনের মধ্যপন্থী রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

ডোলা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি এই আশায় এনসিপির সঙ্গে ছিলেন যে দলটি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে এনসিপি শেষ পর্যন্ত ডানপন্থী শক্তির পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দলটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট গড়া হয়েছে, তা কোনো কৌশলগত জোট নয়। এটি যদি সত্যিকারের কৌশলগত হতো, তাহলে এত নেতা-কর্মীর পদত্যাগ ঘটত না। তাঁর ভাষায়, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করে এই জোট গড়া হয়েছে এবং মনোনয়নের অজুহাতে এনসিপি প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

আরেকটি ‘গেম প্ল্যান’-এর কথা উল্লেখ করে ডোলা বলেন, যারা দল ছাড়ছেন, তাঁদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে এনসিপিকে সহজেই জামায়াতের কাছে ‘বিক্রি’ করা যায়।

দলের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নাহিদ ইসলামকে লিখেছেন, যারা চলে যাচ্ছেন তারা যদি বামপন্থী হন, তাহলে আপনারা কি ডানপন্থী? আপনারা কি মধ্যপন্থী দল হওয়ার কথা বলেননি?

ডোলা আরও বলেন, একসময় মানুষ এনসিপির ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল, তা এখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দলটি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সামনে কঠিন সময়ে এনসিপিকে জনগণের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোটকে দলটির জন্মের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে ডোলা বলেন, এনসিপির জন্ম হয়েছে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। শহীদরা ধর্মীয় আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করার জন্য জীবন দেননি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি এখন সাবেক শাসক আওয়ামী লীগের বয়ান প্রতিষ্ঠার পথেই এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ঢেকে আপনারা আওয়ামী বয়ানের রাস্তা তৈরি করছেন—এর জন্য আপনাদের ‘লাল সালাম’।

ডোলার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এনসিপি ছাড়ার নেতা-কর্মীর সংখ্যা দশ ছাড়িয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারার পদত্যাগের পর থেকেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা দল ছাড়ছেন।

তবে এনসিপি বলছে, কে আসছে বা কে যাচ্ছে—এ নিয়ে দলটি উদ্বিগ্ন নয়। তাদের মতে, এটি রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এনসিপির আরেক নারী নেত্রীর পদত্যাগ, মধ্যপন্থা ছেড়ে ডানপন্থায় যাওয়ার অভিযোগ

০৯:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধ্যপন্থী রাজনীতি থেকে সরে এসে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে ডানপন্থী রাজনীতির পথে হাঁটছে—এমন অভিযোগ তুলে দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আরেক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নিলিমা ডোলা শনিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দলটির ভেতরে আর নতুন ধরনের মধ্যপন্থী রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

ডোলা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি এই আশায় এনসিপির সঙ্গে ছিলেন যে দলটি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে এনসিপি শেষ পর্যন্ত ডানপন্থী শক্তির পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দলটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট গড়া হয়েছে, তা কোনো কৌশলগত জোট নয়। এটি যদি সত্যিকারের কৌশলগত হতো, তাহলে এত নেতা-কর্মীর পদত্যাগ ঘটত না। তাঁর ভাষায়, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করে এই জোট গড়া হয়েছে এবং মনোনয়নের অজুহাতে এনসিপি প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

আরেকটি ‘গেম প্ল্যান’-এর কথা উল্লেখ করে ডোলা বলেন, যারা দল ছাড়ছেন, তাঁদের ‘বামপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে এনসিপিকে সহজেই জামায়াতের কাছে ‘বিক্রি’ করা যায়।

দলের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নাহিদ ইসলামকে লিখেছেন, যারা চলে যাচ্ছেন তারা যদি বামপন্থী হন, তাহলে আপনারা কি ডানপন্থী? আপনারা কি মধ্যপন্থী দল হওয়ার কথা বলেননি?

ডোলা আরও বলেন, একসময় মানুষ এনসিপির ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল, তা এখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দলটি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সামনে কঠিন সময়ে এনসিপিকে জনগণের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোটকে দলটির জন্মের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে ডোলা বলেন, এনসিপির জন্ম হয়েছে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। শহীদরা ধর্মীয় আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করার জন্য জীবন দেননি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপি এখন সাবেক শাসক আওয়ামী লীগের বয়ান প্রতিষ্ঠার পথেই এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ঢেকে আপনারা আওয়ামী বয়ানের রাস্তা তৈরি করছেন—এর জন্য আপনাদের ‘লাল সালাম’।

ডোলার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এনসিপি ছাড়ার নেতা-কর্মীর সংখ্যা দশ ছাড়িয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারার পদত্যাগের পর থেকেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা দল ছাড়ছেন।

তবে এনসিপি বলছে, কে আসছে বা কে যাচ্ছে—এ নিয়ে দলটি উদ্বিগ্ন নয়। তাদের মতে, এটি রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।