বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা নেই। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে এই খাতে তাত্ক্ষণিক কোনো সাফল্য আসবে না বলেই মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার সংকট
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আইনি অনিশ্চয়তার কারণে ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে তেল শিল্প জাতীয়করণের ফলে বহু বিদেশি কোম্পানি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত হতে চান, তাদের অর্থ নিরাপদ থাকবে এবং উৎপাদিত তেলের মূল্য সময়মতো পাওয়া যাবে।

উৎপাদনের পতনের দীর্ঘ ইতিহাস
এক সময় দিনে ত্রিশ লক্ষ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন করত ভেনেজুয়েলা। ধীরে ধীরে অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোর অবক্ষয় ও বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে সেই উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় এক মিলিয়ন ব্যারেলে। বৈশ্বিক তেল বাজারে দেশটির অংশ এখন নগণ্য। এই অবস্থান বদলাতে হলে সময়, স্থিতিশীলতা ও ব্যাপক সংস্কার দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিনিয়োগে ফিরতে অনীহা
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আইনগত সংস্কার ছাড়া বড় পরিসরে বিদেশি কোম্পানিরা ফিরবে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হলে এবং রাজনৈতিক রূপান্তর শান্তিপূর্ণ না হলে বিনিয়োগ ঝুঁকি থেকেই যাবে। এমনকি সবকিছু অনুকূলে গেলেও উৎপাদন বাড়তে পাঁচ থেকে সাত বছর লেগে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রভাব সীমিত
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদনের পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম বা জ্বালানির ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই ধারণা। দেশটির বেশির ভাগ তেল এখন অন্য বাজারে যাচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, তেলসমৃদ্ধ দেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সব সময় প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল দেয় না।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মাঝেই আশা
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের সম্ভাবনা বিশাল হলেও বাস্তবতা কঠিন। অবকাঠামো সংস্কার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই সম্ভাবনা কাগজেই থেকে যাবে। তেলের ভাণ্ডার থাকলেই যে দ্রুত সমৃদ্ধি আসে না, ভেনেজুয়েলা তারই একটি বড় উদাহরণ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















