চীনের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন ২৬ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। পুরো বছরে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার। এই বিপুল সংখ্যাই প্রমাণ করছে, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও চীনের বাজারে উদ্যোক্তা কার্যক্রম থেমে নেই।
বিদেশি বিনিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি
২০২৫ সালে চীনে নতুন বিদেশি অর্থায়নে গঠিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৩৯২টি। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে চীন এখনো একটি বড় আস্থার জায়গা।
বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। এসব দেশের উদ্যোক্তারা ২০২৫ সালে চীনে ১৯ হাজার ৭৫৬টি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
সরাসরি বিনিয়োগে শত শত বিলিয়ন ইউয়ান
বিদেশি কোম্পানিগুলো গত বছর চীনে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে ১১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউয়ান। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও সামগ্রিকভাবে কিছু খাতে মন্দার ইঙ্গিত রয়েছে, তবু বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৯২১টি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। তবে একই সময়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ইউয়ান, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
তবে সেপ্টেম্বর মাসে এককভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১১ দশমিক ২ শতাংশ, যা অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোন খাতে কত বিনিয়োগ
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ এসেছে ১৫০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউয়ান। আর সেবা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ইউয়ান। এতে স্পষ্ট, সেবা খাত এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রধান আকর্ষণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও চীন তার বিশাল বাজার, অবকাঠামো এবং নীতিগত সুবিধার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ২৬ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের তথ্য দেশটির অভ্যন্তরীণ উদ্যোক্তা পরিবেশের শক্ত ভিত্তিকেই তুলে ধরছে।
Sarakhon Report 

















