চীনের আবাসন খাতের সংকট যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। দুই হাজার একুশ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ধস সামাল দিতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নানা উদ্যোগ নিলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এতটাই স্পর্শকাতর যে নেতিবাচক তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হাজারো হিসাব। এমনকি বেসরকারি তথ্যসূত্র থেকেও বাজারসংক্রান্ত উপাত্ত প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেছে।
সংকটের গভীরে কী ঘটছে
চীনের আবাসন বাজারে মন্দার খবর থামছেই না। রাষ্ট্রসমর্থিত বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ বেড়েছে, ঋণখেলাপির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন বাড়ি বিক্রি দুই হাজার একুশ সালের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন আবাসিক নির্মাণ কমেছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ, আর বিনিয়োগ কমেছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হচ্ছে বাড়ির দাম। গত এক দশকে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তার বড় অংশই মুছে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও সম্পদের ওপর চাপ বেড়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চাপ
বাড়ির দাম পড়তে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে আর্থিক ব্যবস্থায়। ব্যাংকগুলোর বড় একটি অংশের জামানত জমি ও ভবনের সঙ্গে যুক্ত। দাম কমলে সেই সম্পদের মূল্যও কমে যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতও আবাসন খাতে বড় বিনিয়োগকারী হওয়ায় ঝুঁকি আরও ছড়িয়ে পড়ছে।
তথ্যের অন্ধকারে বিনিয়োগকারীরা
সরকারি পরিসংখ্যান বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রকৃত সংকট অনেক সময় আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ছোট শহরগুলোতে মন্দা আরও তীব্র হলেও সেগুলোর তথ্য প্রকাশ পায় না। বড় শহরের ক্ষেত্রেও সরকারি হিসাব ও বাস্তব বাজারদরের মধ্যে ফারাক রয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা। ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণ
এই দীর্ঘ মন্দার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন অনেক সময় নতুন বাড়িতে বড় ছাড় দেওয়া সীমিত করে রাখে, যাতে হঠাৎ দামের পতনে সামাজিক অস্থিরতা না তৈরি হয়। কিন্তু এতে বাজারের স্বাভাবিক সংকেত বিকৃত হয় এবং বিপুল সংখ্যক অবিক্রীত বাড়ি বিক্রি হতে দেরি হয়। পাশাপাশি বহু বছর ধরে আবাসিক সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ হয়নি। ফলে বিনিয়োগ হিসেবে রাখা বিপুল সংখ্যক ফাঁকা বাড়ি বাজারে আসছে না।
ভবিষ্যতের দিক চিহ্ন
নতুন নির্মাণ কমে যাওয়ায় বাজারে পুরোনো বাড়ির গুরুত্ব বেড়েছে। করব্যবস্থার অভাবে মালিকেরা ক্ষতি মেনে নিতে ধীরে ধীরে বাড়ি বিক্রি করতে শুরু করছেন। এর ফলে দাম আরও কিছুদিন ধীরে ধীরে কমতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট আরও কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে। আর সে কারণে তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারি চীনে দীর্ঘদিন চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















