ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসায় ডাকাতির ঘটনায় এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে তারাবির নামাজের সময়, যখন স্বামী মসজিদে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ভবনের এক ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
তারাবির সময়েই হামলা
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উত্তরার সেক্টর ১৫, ব্লক-ই, রোড নম্বর ৪–এর একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। নিহত ৬৬ বছর বয়সী রেজিনা মমতাজ স্বামী মাহে আলমের সঙ্গে দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। বাড়িটি তাদের নিজস্ব।
ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মাহে আলম তারাবির নামাজ পড়তে গেলে সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢোকে। একা পেয়ে রেজিনা মমতাজের মুখে টেপ পেঁচিয়ে তাকে অচেতন করে ফেলে এবং ঘরের মূল্যবান সামগ্রী লুট করে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
সিসিটিভিতে সন্দেহজনক গতিবিধি
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার আগে তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া নূর-ই-আলম নিচে নেমে দারোয়ানকে বাইরে পাঠান। ওই সময় বাইরে থেকে এক ব্যক্তি এসে তার সঙ্গে ভবনে প্রবেশ করেন।
দারোয়ানের স্ত্রী দুই মুখোশধারী ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ করেন। তিনি স্বামীকে ফোন করলে দু’জন মিলে দ্বিতীয় তলায় যান। তবে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিককে মসজিদ থেকে ডেকে আনা হয়।
পরে দরজা খুলে দেখা যায়, রেজিনা মমতাজ মেঝেতে পড়ে আছেন। তার মুখ, চোখ ও নাকে টেপ পেঁচানো ছিল এবং ঘর এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‘মাকে বোঝিয়ে দরজা খুলিয়েছিল’
নিহতের ছেলে রাইসুল আলম বলেন, তাদের বাসার দরজা বাইরে থেকে চাবি ছাড়া খোলা যায় না। সিসিটিভিতে দেখা গেছে, ফ্ল্যাটের সামনে থাকা ক্যামেরাটি হাত দিয়ে খুলে ফেলা হয়।
তার ভাষ্য, “দুর্বৃত্তরা এমন কিছু বলেছিল, যাতে মা ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন। বাবার কাছে চাবি ছিল, তিনি ফিরে এসে দরজা খুলে দেখেন মায়ের হাত পেছনে বাঁধা, মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া।”
রাইসুল আরও বলেন, ঘটনার সময় তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়ার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল বলেই পুলিশ তাকে সন্দেহ করছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ভাড়াটিয়া
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও দারোয়ানের তথ্যের ভিত্তিতে নূর-ই-আলমকে থানায় ডাকা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলছে, এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















