০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
ইন্দোনেশীয় প্রকৌশলীদের বিশ্বজয়: মেধাতন্ত্রের কঠিন বাস্তবতায় ‘ব্লুপ্রিন্ট’ গৃহকর্মীর অধিকার আইন: স্বীকৃতির শুরু, শোষণের শেষ নয় ইউএইতে সিঙ্গেল মাদারের ভাগ্যবদল, ষষ্ঠ টিকিটেই জিতলেন ১০ লাখ দিরহাম ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তুত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে নতুন উত্তেজনা সোভিয়েত স্থাপত্য মুছে যাচ্ছে মধ্য এশিয়া থেকে, নতুন পরিচয় গঠনে ব্যস্ত রাষ্ট্রগুলো ভারতে ডেঙ্গু টিকার শেষ ধাপের পরীক্ষা, এক ডোজেই মিলতে পারে সুরক্ষা উত্তর থাইল্যান্ডে বিষাক্ত ধোঁয়ার দাপট, রক্ত ঝরছে নাক থেকে, বিপর্যস্ত জনজীবন চীনের আফ্রিকা কৌশল: বাণিজ্যের আড়ালে নতুন ভূরাজনৈতিক মানচিত্র ২৭ মে আরব আমিরাতে পালিত হতে পারে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, গ্রেপ্তার ৪০০-এর বেশি

ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া, বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডলার আজ নতুন করে প্রশ্নের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বাজেট ও চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের বিভাজন ডলারের দীর্ঘদিনের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে। তাত্ক্ষণিকভাবে ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা না থাকলেও পরিস্থিতি যে বদলে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার ডলারের বিশেষ সুবিধা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডলার হয়ে ওঠে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এক সময় ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ভ্যালেরি জিসকার দেস্তাঁ একে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে এই সুবিধার ওপর ভর করেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ঘাটতি বাড়ালেও বড় ঝুঁকি নিয়ে ভাবেননি।

সুদের যুগান্তকারী পরিবর্তন

দুই হাজার আট সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর দীর্ঘ সময় ধরে কম সুদের নীতি বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আপাতদৃষ্টিতে কম ছিল। কিন্তু মহামারির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মূল্যস্ফীতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দ্রুত সুদ বাড়াতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সুদ ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায় এবং ঋণের চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

Xinhua Commentary: Washington is hitting gas on de-dollarization-Xinhua

বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা

এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণে বিদেশি বিনিয়োগের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পরে সেই প্রবণতা উল্টো পথে হাঁটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন ঋণ ইস্যুর তুলনায় বিদেশি আগ্রহ কমে গেছে। ডলার শক্তিশালী থাকলেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিকল্প পথে হাঁটছেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমছে।

বিকল্পের সীমাবদ্ধতা

ইউরো একক মুদ্রা হলেও এখনো গভীর ও একীভূত ঋণ বাজারের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে চীনের মুদ্রা আন্তর্জাতিক লেনদেনে পুরোপুরি বিনিময়যোগ্য নয়। ফলে ডলারের সমতুল্য কোনো নিরাপদ ও তরল বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে এ বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মতুষ্টির সুযোগ নয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতিতে আস্থার ঘাটতি বাড়িয়েছে। অনেক দেশই ঝুঁকি সামলাতে ডলারের বাইরে সম্পদ বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে। ইতিহাস বলছে, কেবল প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়া কঠিন। নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তি নড়বড়ে হলে সেই হিসাব আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশীয় প্রকৌশলীদের বিশ্বজয়: মেধাতন্ত্রের কঠিন বাস্তবতায় ‘ব্লুপ্রিন্ট’

ডলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া, বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

১০:০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডলার আজ নতুন করে প্রশ্নের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বাজেট ও চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের বিভাজন ডলারের দীর্ঘদিনের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে। তাত্ক্ষণিকভাবে ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা না থাকলেও পরিস্থিতি যে বদলে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

বিশ্ব মুদ্রা ব্যবস্থার ডলারের বিশেষ সুবিধা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডলার হয়ে ওঠে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এক সময় ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ভ্যালেরি জিসকার দেস্তাঁ একে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে এই সুবিধার ওপর ভর করেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ঘাটতি বাড়ালেও বড় ঝুঁকি নিয়ে ভাবেননি।

সুদের যুগান্তকারী পরিবর্তন

দুই হাজার আট সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর দীর্ঘ সময় ধরে কম সুদের নীতি বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আপাতদৃষ্টিতে কম ছিল। কিন্তু মহামারির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মূল্যস্ফীতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দ্রুত সুদ বাড়াতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সুদ ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায় এবং ঋণের চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

Xinhua Commentary: Washington is hitting gas on de-dollarization-Xinhua

বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা

এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণে বিদেশি বিনিয়োগের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পরে সেই প্রবণতা উল্টো পথে হাঁটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন ঋণ ইস্যুর তুলনায় বিদেশি আগ্রহ কমে গেছে। ডলার শক্তিশালী থাকলেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিকল্প পথে হাঁটছেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমছে।

বিকল্পের সীমাবদ্ধতা

ইউরো একক মুদ্রা হলেও এখনো গভীর ও একীভূত ঋণ বাজারের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে চীনের মুদ্রা আন্তর্জাতিক লেনদেনে পুরোপুরি বিনিময়যোগ্য নয়। ফলে ডলারের সমতুল্য কোনো নিরাপদ ও তরল বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে এ বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মতুষ্টির সুযোগ নয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতিতে আস্থার ঘাটতি বাড়িয়েছে। অনেক দেশই ঝুঁকি সামলাতে ডলারের বাইরে সম্পদ বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে। ইতিহাস বলছে, কেবল প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ঋণের বোঝা সামাল দেওয়া কঠিন। নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তি নড়বড়ে হলে সেই হিসাব আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।