পুরান দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় গভীর রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের পাশের একটি দখলকৃত স্থানে দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের ভাঙচুর অভিযানে পুলিশ মোতায়েন, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের পরই বুধবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
আদালতের নির্দেশের পর রাতের অভিযান
দিল্লি হাই কোর্ট বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, দিল্লি পৌর কর্পোরেশন এবং দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে বাইশে এপ্রিল। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই রাতে বুলডোজার ও মাটি কাটার যন্ত্র নিয়ে এলাকায় অভিযান শুরু হয়।

পরিস্থিতি ও সংঘর্ষ
এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় শতবর্ষ পুরোনো মসজিদের কিছু অংশ ভাঙা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। আরও কিছু ভিডিওতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছোড়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিও গুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী রাতে পাথর ছোড়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং নজরদারি ও দেহে ধারণ করা ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার পটভূমি
মসজিদ সাইয়েদ ফয়েজ ইলাহির ব্যবস্থাপনা কমিটি দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের বাইশে ডিসেম্বর দুই হাজার পঁচিশের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করে। ওই আদেশে বলা হয় শূন্য দশমিক এক নয় পাঁচ একর জমির বাইরে থাকা সব কাঠামো ভাঙার যোগ্য এবং জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের প্রমাণ জমা পড়েনি। উক্ত শূন্য দশমিক এক নয় পাঁচ একর জমিতেই মসজিদটি অবস্থিত।

এই সিদ্ধান্ত আসে হাই কোর্টের একটি বিভাগীয় বেঞ্চের বারোই নভেম্বর দুই হাজার পঁচিশের আদেশের পর, যেখানে তুর্কমান গেটের কাছে রামলীলা মাঠ এলাকায় প্রায় আটত্রিশ হাজার নয়শো চল্লিশ বর্গফুট দখল সরাতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়। সেখানে সড়ক, ফুটপাত, বরযাত্রী ভবন, পার্কিং এলাকা ও একটি বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রের অংশ দখল হিসেবে চিহ্নিত হয়। মামলাটি একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ওঠে।
সমীক্ষা ও আপত্তি
অক্টোবর দুই হাজার পঁচিশে যৌথ সমীক্ষায় জমিতে দখলের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয় এবং কিছু অংশ সরকারি কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়। নোটিশের পর জানুয়ারির চার তারিখ পৌর কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা দখল চিহ্নিত করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন, ফলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা কমিটির বক্তব্য
আবেদনকারীদের দাবি, সম্পত্তিটি তাদের ব্যবহারের অধীনে এবং তারা দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডকে ইজারা ভাড়া দিচ্ছেন। আবেদনে বলা হয়, জমিটি ওয়াকফ আইন অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত, ফলে এ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির এখতিয়ার কেবল ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের। তাদের প্রধান আপত্তি জমিতে চলমান কবরস্থান নিয়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















